সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

অভিমানী মানুষের মতোই বিদায় হাফেজ ত্বকীর

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

||মাসউদুল কাদির||

বিশ্বজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী অভিমানী মানুষের মতোই যেন চলে গেলেন। ছোট ভাই। মিষ্টি হাসির এই ত্বকী মিষ্টিমনের মানুষও ছিলেন। আমার সঙ্গে তার  সামান্য স্মৃতি আছে। বিশ্বজয়ী হাফেজদের নিয়ে আমি কিছু কাজ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ। অনেক বিশ্বজয়ীদের সঙ্গে ওঠাবসা করবার তাওফিক হয়েছে। কথা বলবার মতো সুযোগ হয়েছে। তবে এই চলে গেলেন বিশ্বজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকীর নম্রতা-ভদ্রতা জ্ঞান আমাকে মুগ্ধ করতো।

তার উস্তাদ হাফেজ নেছার আহমদ আন নাছেরীর প্রতি তার আনুগত্যও দেখেছি। অনেক সময় উস্তাদের প্রতিও দরদ কমে যায়। ত্বকীর আচার ব্যবহার অত্যন্ত কোমল ছিল।

বিশ্বজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকীকে আমি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে ডেকে ছিলাম। বিশ্বজয়ী হাফেজ তরীকুল ইসলাম, বিশ্বজয়ী হাফেজ সাদ সুরাইল-এর সঙ্গে সেও এসেছিল। খাবারের টেবিলে, আলাপে, খোশগল্পে, সেটে অত্যন্ত কোমলমনা হিসেবে পেয়েছি এই হাফেজকে।

জাতীয় পর্যায়ের কোনো শিল্পী কিংবা হাফেজ বা কারীর সঙ্গে আপনি কথা বললেই একটু ফারাক বুঝবেন। আপনি আর তার মধ্যে একটা পার্থক্য অনুভব করবেন। কথায় কথায় বুঝবেন- সে আপনাকে অনেক আগেই ছাড়িয়ে গেছে।

বিশ্বজয়ী হাফেজ সাইফুর রহমান ত্বকী এখানেই ভিন্নরকম। কোমল। হৃদয়তা ছিলো। সে তার কোমল আচরণের মাধ্যমেই অন্য পাঁচজনের চেয়ে আলাদা হতে পারতো।

হাফেজ ত্বকীর অর্জন কম নয়। সে বাংলাদেশকেই বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরেছে।  জর্ডান, কুয়েত ও বাহরাইনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়ে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছিলো। দেশে-বিদেশে অসংখ্য কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অর্জন করেন অসামান্য সাফল্য।

মাত্র ১৭ বছর বয়সে, ২০১৭ সালে জর্ডানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক হিফজুল কোরআন প্রতিযোগিতায় ৬২টি দেশকে পেছনে ফেলে প্রথম স্থান অর্জন করেন হাফেজ ত্বকী। পরে কুয়েত ও বাহরাইনেও তিনি কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হন।

 ২০০০ সালে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ডালপা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন হাফেজ ত্বকী। তার বাবা মাওলানা বদিউল আলম একজন মাদরাসা শিক্ষক। ছেলের সাফল্যে গর্বিত এ বাবা আজ শোকসন্তপ্ত হয়ে পড়েছেন। এমন রত্ন হারিয়ে হয়তো তার অনেক খারাপ লাগছে।

শোকসন্তপ্ত পারিবারের প্রতি আমাদের গভীর সমবেদনা জানাই। তার উস্তাদদের প্রতিও আমাদের অনেক অনেক শ্রদ্ধা। তারাও আজকের দিনটিতে অনেক শোক অনুভব করছেন। এমন একজন ত্বকীকে হারিয়ে আমি মনে করি, গোটা বাংলাদেশের মানুষই শোকাপ্লুত।

লেখক : ইসলাম বিভাগী প্রধান, প্রতিদিনের সংবাদ ও সম্পাদক, স্বাধীনতার বার্তা

এলএইস/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ