সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

‘বানিয়াচংয়ের বড় হুজুর’ পারবেন কি ধানের শীষকে টেক্কা দিতে?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বিশেষ প্রতিনিধি

হবিগঞ্জ-২ (বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জ) আসনটি বরাবরই আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এখন পর্যন্ত যতবার নির্বাচন হয়েছে, এর মধ্যে আটবারই আওয়ামী লীগের দখলে ছিল আসনটি। ছিয়ানব্বইয়ের বিতর্কিত নির্বাচন ছাড়া বিএনপি কখনো আসনটি পায়নি। জাতীয় পার্টি একাধিকবার এই আসনে বিজয়ী হয়েছে। তবে এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং জাতীয় পার্টি সাংগঠনিকভাবে চুপসে যাওয়ায় নতুন সমীকরণ সামনে আসছে।

এবারের নির্বাচনে এই আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ও জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীসহ ১০ দলের প্রার্থী হয়েছেন খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। তিনি দেওয়াল ঘড়ি প্রতীকে নির্বাচন করছেন। অন্য প্রার্থী থাকলেও এই আসনে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা এই দুই প্রার্থীর মধ্যেই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ডা. সাখাওয়াত হোসেন জীবন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা এবং খ্যাতিমান চিকিৎসক। এলাকায় তিনি অনেক দিন ধরেই কাজ করছেন। ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপি থেকে জীবনই ছিলেন প্রার্থী। তবে সেই নির্বাচনে খেলাফত মজলিস বিএনপি জোটের সঙ্গেই ছিল। জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে প্রার্থী হয়েছিলেন মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ। তবে এবার তিনি বিএনপির বিরোধী বলয়ে রয়েছেন এবং তার মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিএনপির সঙ্গেই হবে।

মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের বাড়ি বানিয়াচংয়ে। নিজ এলাকায় তিনি ‘বড় হুজুর’ হিসেবে পরিচিত। আলেম-উলামা ও সাধারণ মানুষ তাকে অনেক ভক্তি-শ্রদ্ধা করে। তবে ভোটের মাঠে তিনি কতটা শ্রদ্ধা বা সমীহ পাবেন সেটা নিয়ে রয়েছে সংশয়। সাধারণ মানুষ আলেমদের এমনিতে অনেক শ্রদ্ধা করলেও তাদের প্রতিনিধি হিসেবে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে যথেষ্ট গড়িমসি করে। অতীতের নির্বাচনগুলোতে সেটা প্রমাণিত হয়েছে। তবে এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। মানুষের মধ্যে একটা পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে। নতুন বাংলাদেশ গড়ার একটা আওয়াজ উচ্চারিত হচ্ছে জোরেশোরে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে নতুন রাজনীতির আভাস পাওয়া যাচ্ছে। সে হিসেবে মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদের সম্ভাবনা বেশ উজ্জ্বল।

তবে ভোটের জটিল সমীকরণ এবং রাজনীতির কুটিল পথ মাড়িয়ে শ্রদ্ধা ও সমীহের অধিকারী এই আলেমে দীন জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে পারবেন কি না সেটা নিয়ে রাজনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে রয়েছে সংশয়। তারা বলছেন, এই আসনটি আওয়ামী লীগ অধ্যুষিত। আওয়ামী লীগ ভোটে না থাকলেও দলটি এই আসনে বড় ফ্যাক্টর হবে। আওয়ামী লীগের সিংহভাগ ভোট সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। তারা ভোটাধিকার প্রয়োগ করলে একজন আলেমকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে বেছে নিতে কতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে সেটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।

মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদ ধর্মীয়, সামাজিক ও রাজনৈতিক অঙ্গনে যথেষ্ট প্রভাব রাখেন। তবে তার বিপরীতে ধানের শীষের প্রার্থীর ভিতও অনেক শক্তিশালী। তাছাড়া জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বিএনপি জোটে থাকায় দলটির ভোট ধানের শীষের বাক্সে পড়বে। ফলে শেষ পর্যন্ত বিজয়ের হাসি কে হাসেন সেটা দেখতে অপেক্ষা করতে হবে ভোটের দিন পর্যন্ত।

NH/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ