সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

ঈদের আগেই পরিশোধ হোক শ্রমিকদের পাওনা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

।। মুহাম্মদ ছফিউল্লাহ হাশেমী ।।

মুসলমানদের বৃহত্তম উৎসব ঈদুল ফিতর দোরগোড়ায়। প্রতিবছর ঈদকে কেন্দ্র করে কলকারখানার শ্রমিকদের মধ্যে বেতন-বোনাস পাওয়া নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এ নিয়ে অনেক স্থানে ঘটে যায় তুলকালাম কান্ড। দেশে ধর্মীয় ও সামাজিকভাবে সবচেয়ে বড় উৎসব সামনে রেখে শ্রমিক বঞ্চনা ও অসন্তোষ কোনোভাবেই কাম্য নয়। এটি জাতির জন্য লজ্জাজনকই বলতে হবে। যে শ্রমিকেরা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশের অর্থনীতি সচল রাখতে জোরালো ভূমিকা রাখেন, তাঁদের ঈদযাত্রা ও উৎসব উদযাপনে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হোক-এটা কারোরই কাম্য নয়।

শ্রমিকরা কাজ করে বেতন বা পারিশ্রমিক পাবে না তা কিছুতেই মেনে নেয়া যায় না। মেনে নেয়া যায় না এসব বিলম্বে বা অনিয়মিতভাবে প্রদানের বিষয়টিও। বছরে দু'বার মাত্র ঈদ আসে। ঈদে শ্রমিকদের ছেলেমেয়েদের অনেক ধরনের আশা-ভরসা থাকে। তাদের এসব চাহিদা মেটাতে প্রাণপণে চেষ্টা করে শ্রমিকরা। কিন্তু প্রশ্ন হলো, শতকরা কতজন শ্রমিক পারে তাদের এ চাহিদা মেটাতে। ঈদ আসার বেশ আগে থেকে কলকারখানা, বিশেষ করে তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিকের মধ্যে বিরাজ করে বেতন-বোনাস পাওয়া নিয়ে নানা শংকা। এবারো ঈদের আগে বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিকদের বঞ্চনার কথা জানা যাচ্ছে।

এবার আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে দেশের শিল্পকারখানার শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধের বিষয়ে সরকার একটি নির্দেশনা দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ–সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্তও একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। আমরা আশা করব, কারখানার মালিকেরা সরকারের নির্দেশনা মেনে নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করবেন।

রমজানের ঈদে সবার বাড়তি চাহিদা থাকে। সাধারণত সারা বছরের পোশাক ও কিছু প্রয়োজনীয় জিনিস এই সময় কেনা হয়। তাছাড়া  পোশাক শ্রমিকেরা দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে এসেছেন। ঈদে তারা মা-বাবাসহ নিকটাত্মীয়দের সাথে মিলিত হন। তার আগে স্বজন ও নিজেদের জন্য কিছু কেনাকাটা করতে চান। সময়মতো বেতন-বোনাস না পেলে সেটা সম্ভব হবে না। বিষয়টি মালিকদের মাথায় থাকা উচিত।

পোশাক বাংলাদেশের প্রধান রফতানি পণ্য। কৃষি শ্রমিকের পরই পোশাক শ্রমিকদের অবস্থান। এদের মধ্যে বিরাট একটা অংশ নারী। এমনিতেই অনেকে বলে থাকেন, নারীদের পারিশ্রমিক পুরুষের পারিশ্রমিকের অর্ধেক। আর নারী শ্রমিকদের মধ্যে কেউ যদি হয় কিশোরী বা শিশু, তাহলে তো আর কথাই নেই। মালিকপক্ষের লোকেরা পারে না তো তাদের দিয়ে বিনা মজুরিতে কাজ করায়। আর এ কারণেই তো অনেক কারখানার অবস্থা ভাল যায় না। কারণ এসবে মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনও নারাজ হন।

শ্রমিকদের যথাসময়ে সব ধরনের দাবি-দাওয়া মেটানো গেলে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে কারখানার উৎপাদনের ক্ষেত্রে। কারণ তখন কাজের স্বাভাবিক পরিবেশও সৃষ্টি হবে। তাছাড়া পবিত্র কুরআন-হাদিসেও বলা আছে, শ্রমিকদের শরীরের ঘাম শুকানোর আগে তাদের পাওনা মিটিয়ে দাও। আমরা যদি এ বিষয়টির ওপরও বেশি জোর দেই তাতে করেও এ সংক্রান্ত কোনো জটিলতাই হয়তো আর দেখা দেবে না। অর্থাৎ এসব ব্যাপারেও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলা উচিত। কেননা মালিক-শ্রমিকদের সিংহভাগই মুসলমান।

আমরা মনে করি, সরকার যদি ঈদের আগে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পাওয়ার বিষয়টি শক্তভাবে দেখে তবে এ সংক্রান্ত সমস্যা সহজেই দূর হতে পারে। এজন্য প্রতিটি কারখানায় সরকারের মাধ্যমে নোটিশ পাঠানো উচিত। যারা সরকারের নির্দেশ পালন না করবে তাদের বিরুদ্ধে গ্রহণ করা উচিত কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। তাহলে এমনিতেই বেতন বোনাস প্রদানের ক্ষেত্রে কারখানা মালিকরা বেশি সচেতন হবে।

গত বছর কিছু কারখানার মালিক শেষ মুহূর্তে কারখানা বন্ধ করে নিরুদ্দেশ হন। ঈদের পরে তারা বেতন-ভাতা পরিশোধ করে কারখানা চালু করেন। এ বছরও এর পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে সে দিকে সকলের দৃষ্টি দেয়া প্রয়োজন। শ্রমিকদের ন্যায্য পাওনা থেকে কোনোভাবে বঞ্চিত করা যাবে না। ঈদের আগে তাদের সব পাওনা পরিশোধ করা হোক।

লেখক: প্রাবন্ধিক ও কলেজ শিক্ষক

আইএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ