বিশেষ প্রতিনিধি
নানা সময় আলোচিত-সমালোচিত জামায়াত নেতা মাওলানা নুরুজ্জামান নুমানী এবার ময়মনসিংহের প্রবীণ আলেম ও শায়খুল হাদিস মুফতি আহমদ আলীকে নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার এই মিথ্যাচার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় ওঠেছে।
নুরুজ্জামান নুরানী হাটহাজারী মাদরাসার ফারেগ। করোনা মহামারির সময় বিতর্কিত কিছু টকশোর মাধ্যমে তিনি আলোচনায় আসেন। পরবর্তী সময়ে যোগ দেন খেলাফত মজলিসে। সেখান থেকে শেষ পর্যন্ত তার ঠিকানা হয় জামায়াতে ইসলামীতে। সেখানে যাওয়ার পর থেকে কওমি আলেমদের নানাভাবে জামায়াতের যুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলোচিত কওমি তরুণ মুফতি আলী হাসান উসামাকে তিনি জামায়াতে নিতে সক্ষম হন। আরও অনেকে নিয়ে যাবেন বলে প্রকাশ্যে ঘোষণা দিলেও তাতে সফল হননি।
মুফতি আহমদ আলী বর্তমানে হজের সফরে মক্কায় রয়েছেন। সেখানেই তার হোটেলে গিয়ে পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে সাক্ষাৎ করেন নুরুজ্জামান নুরানী। পরে তিনি এক পোস্টে দাবি করেন, তাকে মসজিদে হারামের উম্মে হানিতে বসে খেলাফত দিয়েছিলেন মুফতি আহমদ আলী। সেই স্মৃতি তিনি নিজেই স্মরণ করিয়েছেন। এছাড়া অনেক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা হয় জানিয়ে নুমানী ইঙ্গিত দেন- মুফতি আহমদ আলী জামায়াতের প্রতি অনেকটা দুর্বল।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নুমানী এখানে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। অনেক বছর আগে কওমিতে থাকা অবস্থায় তাকে খেলাফত দেওয়ার কথা সত্য হলেও বর্তমানে হক থেকে বিচ্যুত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্পর্কে সতর্ক করতেই তাকে হোটেলে ডেকে নিয়েছিলেন মুফতি আহমদ আলী।
মুফতি আহমদ আলীর ছেলে আব্দুল্লাহ আল মামুন এক পোস্টে বলেন, ইতিমধ্যে আব্বুকে নিয়ে নুরুজ্জামান নুমানীর পোস্ট ভাইরাল হয়েছে এবং তিনি ওই পোস্টে দাবি করছেন, আব্বু তাকে খেলাফত দিয়েছেন।
বিষয়টা নিয়ে আব্বুর সাথে কথা হয়। আব্বু খোলাসা করে বলেছেন-
আমি নুমানী সাহেবকে আমার হোটেলে দাওয়াত দিই। যেহেতু সে একসময় আমাকে মুরব্বি মানতো তাই তাকে ডেকে এনে বললাম- তুমি আহলে হক ও কওমি উলামায়ে কেরামদের নিয়ে লেখালিখি কইরো না।
তার স্বপ্নের বিষয় ইত্যাদি নিয়ে কথা হয়, তখন এ প্রসঙ্গে আব্বু বলেন- তোমাকে ১৫ বছর আগে আহলে হকের ওপর থাকার শর্তে খেলাফত দিয়েছিলাম। এখন তুমিতো আহলে হকের ওপর নেই। স্বপ্ন হকের দলিল না। এমন আলোচনা হয়।
মুফতি আহমদ আলীর ছেলে লিখেন- সম্ভবত নুমানী সাহেব জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন ২০২৪ সালে। সুতরাং এ হিসাবে নুমানী এখন আহলে হকের ওপর নেই। তাই খেলাফত দিয়ে থাকলেও শর্তনুযায়ী সেই খেলাফত আর নেই। আব্বুর ছবি নিয়ে তিনি ফেসবুকে পোস্ট করবেন তা জানা ছিল না। অনুমতি ছাড়া আব্বুর সরলতার সুযোগ নিয়ে পোস্ট করেছেন। এ বিষয়ে সতর্ক করার জন্য আব্বু তাকে আবার ডাকবেন।
আরএইচ/