যাকারিয়া মাহমুদ, সাব-এডিটর-
দেশের রাজনীতিতে বেশ আলোচিত নাম পীর সাহেব চরমোনাইয়ের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটি ফ্যাসিবাদী আমলেও বেশ কিছু স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নজর কাড়তে সক্ষম হয়। গত নির্বাচনেও দলটি আলোচনায় ছিল। এবার দলটি রাজনীতিতে নতুন করে শেকড় মজবুত করার কথা ভাবছে। এর অংশ হিসেবে ছাত্রী উইং গঠনের সিদ্ধান্তও নিয়েছে। এর মধ্য দিয়ে ইসলামী আন্দোলন দেশের রাজনীতিতে তাদের অবস্থান আরও মজবুত করতে সক্ষম হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ছাত্র উইং গঠনের কথা অনেক আগে থেকে আলোচনায় থাকলেও সম্প্রতি দলটি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রচার ও দাওয়াহ সম্পাদক মাওলানা শেখ ফজলুল করীম মারুফ। বুধবার (১৩ মে) আওয়ার ইসলামের সঙ্গে ফোনালাপে তিনি এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানিয়েছেন।
শেখ ফজলুল করীম মারুফ বলেন, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভায় গত মাসের শেষের দিকেই এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। আগামী ১৮ তারিখের বৈঠকে এর রিপোর্ট প্রকাশ করা হবে। সে রিপোর্ট প্রকাশ হলে কুরবানির পরপর আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টা সামনে আসবে।
ফোনালাপে তিনি বলেন, স্কুল-কলেজ-ভার্সিটি, মাদরাসা নির্বিশেষে সকল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীই এতে যোগ দিতে পারবে। কারণ, দেখা যায়, যারা জেনারেল, তারা শরিয়ত সম্পর্কে কম জানে। আর যারা মাদরাসাপড়ুয়া তারা দুনিয়া সম্পর্কে অনেকটাই অনবগত। তো আমাদের একটি উল্লেখযোগ্য উদ্দেশ্য হলো, সবাই যেন সবকিছুর জ্ঞান লাভ করতে পারে।
যোগদানের শর্ত হিসেবে ফজলুল করীম মারুফ আওয়ার ইসলামকে বলেন, ভেতরগত আলোচনা এখনো চলমান। ৫টি শর্ত আমাদের কেন্দ্রীয় বৈঠকে উঠেছে। সেগুলো চূড়ান্ত হলে, খুব শিগগির জানানো হবে। তবে আপাতত এটা বলা যেতে পারে, ইসলামী আন্দোলনের তো একটা নির্দিষ্ট পরিকল্পনা আছে, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য আছে, যেমন দেশের মাটিতে আল্লাহর দীন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা—যারা ইসলামী আন্দোলনের এই চেতনা ধারণ করতে পারবে, তারা এখানে যোগ দেবে।
এ ছাত্রী উইংয়ের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে নারী রাজনীতির কথা ভাবছে কি না ইসলামী আন্দোলন—জানতে চাইলে প্রচার সম্পাদক বলেন, ইসলামী আন্দোলনের মেয়েরা মাঠ-পর্যায়ে রাজনীতি করবে না যদিও, তবে এখানে যারা থাকবে, তারা যেহেতু এ দলের আদর্শ লালন করবে, তাই স্বাভাবিকভাবেই রাজনীতিতে সহযোগী হিসেবে এরা যুক্ত হবে। তবে এটা আমাদের মূল উদ্দেশ্য নয়। মূল উদ্দেশ্য সেটাই যা আমি একটু আগে বলেছি, অর্থাৎ যারা দীন জানে না, তাদের দীন জানানো। যারা দুনিয়া জানে না, তাদের দুনিয়া জানানো। সংক্ষেপে বলা যেতে পারে—এর উদ্দেশ্য হবে, দাওয়াত, সমাজকল্যাণ ও নেটওয়ার্ক ফিল্ড।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী আন্দোলনের এই পরিকল্পনা নতুন কোনো সিদ্ধান্ত না। বরং বহু আগের। এ দলের প্রতিষ্ঠাকাল নব্বইয়ের দশকে। ২০০০ সাল পর্যন্ত এই দল ছিল এই ইসলামী ঐক্যজোটের অধীনে। তারপর ২০০৬ সালে প্রথম নির্বাচনের সুযোগ পেলেও নানা সীমাবদ্ধতার তোপে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। আর ফ্যাসিবাদী শাসনকাল সম্পর্কে তো সবাই অবগত। মোটকথা, এ পর্যন্ত মুক্ত রাজনীতির সুযোগ পায়নি। এখন যেহেতু সে সে সুযোগ হয়েছে তাই ইসলামী আন্দোলন ছা্ত্রী উইং প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নিয়েছে।
জেডএম/
