মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৯ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
চট্টগ্রাম–কক্সবাজারে বন্যা দুর্গতদের মধ্যে আমিরে মজলিসের ত্রাণ বিতরণ ইসলামোফোবিয়া মোকাবিলায় রাবেতার সঙ্গে কাজ করবে পাকিস্তান দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা

বরিশালের জামিয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসার বুখারি সমাপনী দারস ও দুআ মাহফিল অনুষ্ঠিত

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

বরিশালের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া মাদ্রাসায় সহীহ বুখারীর সমাপনী দারস  ও  দু‘আ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

জানা যায়, আজ বুধবার (২৪ জানুয়ারি) জামিয়ার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে এবং সহকারী শিক্ষা-সচিব মুফতি মোহাম্মাদ জাকারিয়া এর সঞ্চালনায় এ অনুষ্ঠান পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হয়। সহীহ বুখারীর সমাপনী হাদীস পাঠদান করান অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি উপমহাদেশের প্রখ্যাত হাদিস বিশারদ ও ইতিহাসবিদ শাইখুল হাদিস আল্লামা উবায়দুল্লাহ ফারুক কাসেমী।

এরপর বুখারী সমাপনকারী শিক্ষার্থীদের পাগড়ী প্রদান করা হয়। 

এ সময় তিনি হাদীসের বিশুদ্ধ কিতাব বুখারী শরীফ ও এর রচয়িতা ইমাম আবু আব্দিল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী (রাহ.) এর বৈশিষ্ট্য বর্ণনার এক পর্যায়ে বলেন, ইমাম বুখারী (রাহ.) দীর্ঘ ১৬ বছর পর্যন্ত সিয়াম সাধনার মাধ্যমে ১,০৮০ জন উস্তাদ থেকে অর্জনকৃত ৬ লক্ষ হাদীস থেকে বাছাই করে ৭,২৭৫টি হাদীস সংকলন করেছেন। প্রত্যেক হাদীস লেখার পূর্বে গোসল করে দুই রাকাত নামায আদায় করে আল্লাহ্ তাআলার দরবারে  এই কিতাবের মকবুলিয়াতের জন্য দোয়া করেছেন।

তিনি তরুন আলেমদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারাই হচ্ছেন ভবিষ্যত জাতির পথপ্রদর্শক, দ্বীনের ধারক-বাহক। তাই আপনাদেরকে ইলম, আখলাকের প্রতিটি স্তর অতি মেহনত ও পরিশ্রমের মাধ্যমে অতিক্রম করতে হবে। আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের দরবারে প্রার্থনা করি, তিনি যেন আপনাদেরকে দেশ ও জাতির জন্য সঠিক পথপ্রদর্শক ও হক্কানী আলেমে রাব্বানী হিসেবে কবূল করে নেন।

তিনি বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশে হাদীস চর্চা ও গবেষণার ইতিহাস তরুণ আলেমদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরেন।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন জামিয়ার শাইখুল হাদিস ও শিক্ষা-সচিব হযরতুল আল্লাম মাওলানা মুজাম্মেল হোসাইন খান। তিনি তার বক্তব্যে বলেন,  আল্লাহর বিশেষ রহমতে দরস দিয়ে বুখারি শরীফ খতম করতে পেরেছি এ জন্য আল্লাহর দরবারে শুকুরিয়া আদায় করছি। তিনি শিক্ষার্থীদেরকে ইসলামী জ্ঞানের মৌলিক উৎস তথা কুরআন ও হাদীসের উপর স্পেশালাইজড (বিশেষজ্ঞ) হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। তিনি বলেন, জাতি আজ ইসলামী আধুনিক জ্ঞানে সমৃদ্ধ, নৈতিক, দেশ প্রেমিক যোগ্য মানুষের জন্য ব্যাকুল হয়ে আছে। তিনি আরো বলেন জামিয়া ইসলামিয়া হোসাইনিয়া সে লক্ষ্যে ইসলামের মৌলিক কিতাবসমুহ অধ্যায়নের জন্য গুরুত্বারোপ করছে। 

তিনি আরো বলেন, আজকের বুখারী পাঠদান সমাপনী নয় বরং বুখারী পাঠের শুরু হলো আজ থেকে। তিনি তার বক্তব্যে কুরআনুল কারিমের পরে পরিশুদ্ধ গ্রন্থ বুখারীর মর্যাদা এবং এ গ্রন্থের পরিশুদ্ধ হাদীসসমূহ মানুষের মাঝে প্রচার ও প্রসার করার জন্য গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অত্র জামিয়ার নায়েবে মুহতামিম মুফতি আব্দুল কাদের কাসেমী বলেন, আপনারা সাহাবা, তাবেয়ী, তবে-তাবেয়ী, মুহাদ্দিসীন, মুজতাহিদীন, আউলিয়ায়ে কেরাম, আকাবিরে দেওবন্দের মাসলাকের সাথে গভীরভাবে জড়িত হওয়ায় আপনাদের কাঁধেও দাওয়াতের মহান দায়িত্ব এসে পড়েছে। এ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের উদ্দেশ্যে এ ক্ষেত্রে আপনাদেরকে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আদর্শকে আক্বীদা ও আমল, তথা জীবনের সর্বক্ষেত্রে শক্ত হাতে ধারণ করে চলতে হবে।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি মুফতি জাবের কাসেমী বিদায়ী ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইসলামের প্রচার-প্রসার, দ্বীনি খিদমত এবং দেশ, উম্মাহ ও ন্যায়-ইনসাফের পক্ষে কাজ করাকে নিজেদের মৌলিক কর্তব্য নির্ধারণ করতে হবে। সাথে সাথে সকল অন্যায়-অবিচার, জুলুম এবং পাপাচার উৎখাত করে মানুষকে সৎ, ইনসাফ ও ইসলামের পথে আনতে সর্বোচ্চ চেষ্টা সাধনা করে যেতে হবে।

জামিয়ার উস্তাজুল হাদিস ও সহকারী শিক্ষা-সচিব মুফতি মোহাম্মাদ জাকারিয়া তার বক্তব্যে বলেন, অল্প কিছু দিনের মধ্যেই কেন্দ্রীয় পরীক্ষা শেষে আপনারা কর্মমুখর জীবনের দিকে পা বাড়াবেন। আমাদের সকল আসাতেজায়ে কেরামের নিরন্তর প্রচেষ্টায় জাতির এই ক্রান্তিলগ্নে আপনাদের মতো সুযোগ্য আলেমের একটি জামাত মুসলিম সমাজকে উপহার দিতে পেরে আমরা গৌরব ও আনন্দ অনুভব করছি। আপনারাই জাতির ধারক-বাহক ও কর্ণধার। জাতি নেতৃত্ব ও পথপ্রদর্শন পেতে আপনাদের পানে চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন। আশা করি আপনারা জাতির প্রত্যাশা পূরণে সচেষ্ট থাকবেন। আমন্ত্রিত মেহমানবৃন্দ ও বরেণ্য উলামায়ে কেরামদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন  মাওলানা রকিবুল হাসান খান,মুফতি মামুনুর রশিদ, মাওলানা মুফতি সাইফুল্লাহ আল-মানসুর, মুফতি আব্দুল রাজ্জাক ,মাওলানা মুফতি তালহা হোসাইন ও মাওলানা এনায়েতুর রহমান খান

তাকমিল শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি প্রকাশ করেন মোহাম্মদ অলিউল্লাহ । সব শেষে প্রধান অতিথির দুআ মুনাজাত পরিচালনার মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

কেএল/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ