মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ ।। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
গওহরডাঙ্গা বেফাকের ৫০তম কেন্দ্রীয় পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণী ২০ সেপ্টেম্বর ৫ সেপ্টেম্বর জামিআ ইকরায় ‘খুতুরাতুত তাকফির’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন ক্রস বর্ডার অ্যাডুকেশনে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী নাজমুল হুদা মজনুর একজোড়া কাব্য  জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও মূল্যস্ফীতি ইস্যুতে কর্মসূচি ঘোষণা ইসলামী আন্দোলনের বোয়িং বাংলাদেশকে হতাশ করবে না: তারেক রহমানকে ট্রাম্প নিজের জীবনের পুরো সঞ্চয় দিয়ে মসজিদ নির্মাণ ৮৪ বছরের বৃদ্ধের ‘তিন-চার বছরের মধ্যে মসলা জাতীয় পণ্যে বাংলাদেশ স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে যাবে’  ‘ভারতের মুসলমানরা বাইরের কেউ নন, আমাদেরই ভাই’ ‘স্বপ্নসিঁড়ির’ নাতে রাসুল প্রতিযোগিতা, ওমরাহসহ লক্ষাধিক টাকার পুরস্কার

পানিতে ডুবে মারা যাওয়া চার মাদরাসাছাত্রীর কবর হলো পাশাপাশি


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

একসঙ্গে মাদরাসায় যেত, একসঙ্গে খেলাধুলা করত। সেই চার শিশুর জীবনও শেষ হলো একই দিনে, একই খালের পানিতে। হৃদয়বিদারক এ ঘটনার পর নরসিংদীর রায়পুরায় একসঙ্গেই তাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরে স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে চার মাদরাসাছাত্রীকে। এ দৃশ্যে শোকে স্তব্ধ হয়ে পড়েছে পুরো এলাকা।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যায় রায়পুরা উপজেলার চান্দেরকান্দি ইউনিয়নের বড়কান্দা গ্রামের ঈদগাহ মাঠে চার শিশুর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে তাদের দাফন করা হয়।

নিহতরা হলো বড়কান্দা গ্রামের তাবিয়া (১৩), আয়েশা (৯), জান্নাত (৮) ও সুমাইয়া (১০)। তারা সবাই স্থানীয় গাউসিয়া নুরে মদিনা মহিলা মাদরাসার শিক্ষার্থী ছিল। শুধু সহপাঠীই নয়, চারজনের বাড়িও ছিল পাশাপাশি। প্রতিদিন একসঙ্গে মাদরাসায় যাওয়া, খেলাধুলা আর বেড়ে ওঠার সঙ্গী ছিল তারা।

চান্দেরকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খন্দকার মিতুল জানান, একসঙ্গে বেড়ে ওঠা চার শিশুর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো গ্রাম শোকে মুহ্যমান। স্থানীয়দের সিদ্ধান্তে তাদের একসঙ্গে জানাজা এবং পাশাপাশি দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চার শিশুর পরিবারই অত্যন্ত দরিদ্র। বর্ষায় পানিতে ভরে ওঠা একটি খালে কাউকে কিছু না জানিয়েই গোসল করতে নেমেছিল তারা। চারজনের কেউই সাঁতার জানত না। একপর্যায়ে পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়।

নিহত তাবিয়ার বাবা শামীম মিয়া বলেন, তিনি ঢাকাগামী ট্রেনে ওঠার সময় ফোনে মেয়ের পানিতে ডুবে যাওয়ার খবর পান। হাসপাতালে পৌঁছে মেয়ের নিথর দেহ দেখতে হয় তাকে।

অন্যদিকে আয়েশার বাবা রুবেল মিয়া বলেন, অভাবের সংসারে মেয়ের হাসিমুখই ছিল তার সবচেয়ে বড় সান্ত্বনা। হঠাৎ এমন মৃত্যু তাদের পরিবারকে অসহনীয় শোকে ডুবিয়ে দিয়েছে।

পরিবারগুলোর আবেদনের পর চার শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্ত ছাড়াই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পরিবারকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

এদিকে চার শিশুর মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই একই উপজেলার মেঘনা নদীতে গোসল করতে নেমে আরও দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। একের পর এক পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনায় উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে স্থানীয়দের মধ্যে। শিশুদের নিরাপত্তায় অভিভাবকদের আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ