সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
সৌদি আরবের রিয়াদ বিমানবন্দরে ফের হামলা: নিহত ১, আহত ১১ স্ত্রীর মৃত্যুর সাড়ে ৩ ঘণ্টা পর নামাজরত অবস্থায় প্রাণ হারালেন স্বামী সৌদি বিমানবন্দরে হামলায় আহত ২৪ বাংলাদেশির ১৩ জনই ওমরাহযাত্রী ১২ অক্টোবর ২০২৬-এর নামাজের সময়সূচি জরুরি অবস্থা জারির কড়া সমালোচনা মাওলানা ফজলুর রহমানের মাহবুবা হাকিম এমপির বরাদ্দ ক্রীড়া সামগ্রী কিশোরদের মধ্যে বিতরণ নির্বাচন কমিশনার আইন নিয়ে আমাদের আশঙ্কা সত্যি হচ্ছে: ওয়াইসি ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে মাদরাসাগুলোকে বোর্ডের নির্দেশ রিয়াদে হামলায় নাসরুল্লাহ বদরের মৃত্যুতে ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের শোক-প্রতিবাদ আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় হিরার সাফল্যে বিএনপির অভিনন্দন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধের দাবি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ উপলক্ষে আয়োজিত কনসার্ট বন্ধের দাবি জানিয়েছে কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলামের কাছে পৃথক স্মারকলিপি দিয়ে এ দাবি জানায় সংগঠনটি।

স্মারকলিপিতে সংগঠনটি জানায়, আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজে নবীনবরণ উপলক্ষে গানের কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে তারা।

স্মারকলিপিতে গত ১৮ আগস্ট ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পুলিশ লাইনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির আগমন উপলক্ষে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ তুলে ধরা হয়।

সংগঠনটির দাবি, উচ্চশব্দে গান বাজানো নিয়ে পার্শ্ববর্তী জামিয়া দারুল আরকাম আল-ইসলামিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। পরদিন পরীক্ষা থাকায় শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশ সদস্যসহ প্রায় ৩০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী আহত হন।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ওই ঘটনার এক মাস না পেরোতেই আবার কনসার্ট আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে স্থানীয় জনমনে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদ বলেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ঐতিহাসিকভাবে ইসলাম, ইলম, আলেম-উলামা ও ধর্মীয় মূল্যবোধের সমৃদ্ধ জনপদ। জেলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশের সঙ্গে ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি গভীরভাবে জড়িত।

তাদের মতে, নবীনবরণ আনন্দঘন ও উৎসবমুখর হতে পারে। তবে এ আয়োজন যেন শিক্ষার পরিবেশ, সামাজিক শৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা এবং স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

এ ছাড়া অতীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিভিন্ন কনসার্ট ও গানের অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি ও দুর্ঘটনার ঘটনা ঘটেছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের সদস্য ফুজায়েল আহমেদ খান বলেন, ‘আমাদের মূল বিষয়গুলো স্মারকলিপিতে তুলে ধরেছি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তো ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা বন্ধের মতো কথাই বলেছেন। ৩০ জন ছাত্র আহত হওয়ার ঘটনার এক মাসও যায়নি। এর মধ্যেই আবার কনসার্ট করতে চাচ্ছে। তাহলে বিষয়টা কাটা গায়ে নুনের ছিটা দেওয়ার মতো হয়ে গেল না?’

তিনি আরও বলেন, ‘৮-৯ বছর আগেই এই নবীনবরণ কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল। এর মূল কারণ ছিল, নাচগানের মধ্যে এক মেয়ে ইভটিজিংয়ের শিকার হয়েছিল। যে কারণে কনসার্ট বন্ধ হয়েছিল, তারা কি সেটা আবার চালু করতে চায়? কলেজ কর্তৃপক্ষ কি চায় ছাত্রীরা সেখানে ইভটিজিংয়ের শিকার হোক?’

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক এ. কে. এম. ওবায়দুল হক বলেন, ‘ওনারা এমপি মহোদয় এবং জেলা পরিষদ প্রশাসক মহোদয়ের কাছে গেছেন—এটা আমি অফিসিয়ালি অবগত নই। ওনারা আমাদের কাছে আসেননি। যদি আমাদের অবগত করেন এবং পরামর্শ দেন, আমরা বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেব।’

তিনি বলেন, ‘আর এটা ওভাবে কনসার্ট নয়, আমরা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করব। আমাদের তিনটি কর্মসূচি রয়েছে—নবীনবরণ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও বৃক্ষরোপণ।’

এসএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ