সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬ ।। ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২৮ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
দুর্নীতি ও অদক্ষতার কারণেই প্রধান শহরগুলো ডুবছে: পীর সাহেব চরমোনাই উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্সে ১০০ জন মাদরাসা শিক্ষার্থী পাবেন বিশেষ স্কলারশিপ মসজিদে নববিতে বিশেষ দারস দেবেন শায়খ আস-সুদাইস বন্যায় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের আহ্বান আমিরে মজলিসের খুলনা বিভাগীয় কওমি মাদরাসা পরিষদের নেতৃত্বে মাওলানা মুশতাক ও নাসীরুল্লাহ বন্যার পানিতে ডুবে পটিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীর মৃত্যু মডেল মসজিদ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশ বাংলাদেশি হাজিদের খরচ কমাতে সৌদি আরবের সহযোগিতা কামনা জলাবদ্ধতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে ছুটি বাড়ল জামেয়া দারুল মাআরিফের ডেঙ্গুতে আরও ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ৩২৭

কওমি মাদরাসাকে নিয়ে লেখা বইটি এখন কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারে সরকারিভাবে স্থান পেয়েছে গবেষণাগ্রন্থ ‘কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশন’৷ বইটি লিখেছেন শিক্ষাবিষয়ক বাংলাদেশের একমাত্র প্রিন্ট জাতীয় পত্রিকা দৈনিক আমাদের বার্তার প্রধান সম্পাদক ও শিক্ষাবিষয়ক গবেষক লেখক সিদ্দিকুর রহমান খান। শিক্ষা ও সংসদ সাংবাদিকতায় দীর্ঘ সময়ে গভীর অনুসন্ধানী একগুচ্ছ প্রতিবেদনের সঙ্গে হালনাগাদ সব এক্সক্লুসিভ তথ্যজুড়ে তিনি বইটি সাজিয়েছেন। 

সম্প্রতি এই বই কলকাতার ন্যাশানাল লাইব্রেরিতে উপহার হিসেবে তুলে দিয়েছেন দৈনিক আমাদের বার্তার কলকাতা প্রতিনিধি কে কে মল্লিক৷ 

বইটি গ্রহণ করেছেন কলকাতার জাতীয় গ্রন্থাগারের লাইব্রেরি ইনফরমেশন-এর সহযোগী শ্যামল সাহা এবং গ্রন্থাগার মাল্টি টাস্কিং-এর কর্মী শান্তনু হালদার৷ 

এরপর তারা বইটি সরকারিভাবে তুলে দেবেন জাতীয় গ্রন্থাগারের সহকারি লাইব্রেরি এবং ইনফরমেশন অফিসার সৌমেন কুমার মন্ডলের হাতে৷ 

‘কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা’ বইয়ে অতি বিরল ও গোপনীয় নথির সংযোজন এই প্রকাশনাকে আরো অতুলনীয় করে তুলেছে। যারা কওমি মাদরাসা নিয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো বই খুঁজছিলেন তাদের হাতে স্বস্তির বারতা হয়ে উঠতে পারে এই বই। সরকার নিয়ন্ত্রিত আলিয়া মাদরাসার কোনো সনদের স্বীকৃতি ও সমমান কবে দেয়া হয়েছিলো সে বিষয়েও লেখা রয়েছে বইটিতে।

বইটির ফ্ল্যাপে লেখা আছে, ‘একগুচ্ছ শঙ্কা ও প্রশ্ন গোয়েন্দা রিপোর্ট জুড়ে। উইকিলিকসের তারবার্তাও বাইরে নয়। প্রশ্নগুলো প্রকাশ্যে ও অপ্রকাশ্যে ডালপালা গজিয়েছে সর্বত্র।  বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রের উত্থানপর্বের আগে-পরে এই চিত্রটিও বিস্ময়ের জন্ম দিয়েছে। সংসদের ভেতরেও প্রশ্ন ছিলো কওমি মাদরাসার উত্থান নিয়ে। এ ধারার শিক্ষক-শিক্ষার্থী অভিভাবকদের এন্তার প্রশ্নেরও সদুত্তর ছিলো না। এ সংক্রান্ত সব জবাবই ছিলো ধোঁয়াশামাখা। জাতীয় শিক্ষানীতির খসড়াতেও সেক্যুলার শব্দ বাতিল করিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে আসেন কওমিধারার ধারক-বাহকরা। অর্থের সন্দেহজনক উৎস, উসকানি, মৌলিক সংরক্ষণবাদী গোষ্ঠীর সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ --এসব প্রশ্নবোধকের জবাব খুঁজতেই একজন সিদ্দিকুর রহমান খানের অনুসন্ধান। সদরে, অন্দরে, সর্বক্ষেত্রে’।  

উল্লেখ্য, কলকাতা ন্যাশানাল লাইব্রেরি হলো ভারত তথা বিশ্বের মধ্যে অন্যতম বৃহৎ একটি গ্রন্থাগার৷ ১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে এটি প্রতিষ্ঠিত হয়৷ কলকাতার আলিপুরের বেলভেডিয়ার এস্টেটে এটির অবস্থান৷ আগে নাম ছিলো কলকাতা পাবলিক লাইব্রেরি৷

বর্তমানে ২.৫ মিলিয়নের বেশি বই এই গ্রন্থাগারে রয়েছে৷ দেশ-বিদেশের পাঠক বিনামূল্যে এই গ্রন্থাগারে বই পড়া এবং গবেষণা করার সুযোগ পান৷ এই বিপুল সংখ্যক বইয়ের মাঝে স্থান পেলো সিদ্দিকুর রহমান খান -এর লেখা ‘কওমি মাদরাসা: একটি অসমাপ্ত প্রকাশনা’৷  

১৮৩৬ খ্রিষ্টাব্দে ক্যালকাটা পাবলিক লাইব্রেরি নামে প্রথম এই গ্রন্থাগারটি প্রতিষ্ঠিত হয়। সেই সময় এটি ছিলো একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান। প্রিন্স দ্বারকানাথ ঠাকুর ছিলেন এই লাইব্রেরির প্রথম মালিক। ভারতের তৎকালীন গভর্নর-জেনারেল লর্ড মেটকাফ ফোর্ট উইলিয়াম কলেজ লাইব্রেরির ৪ হাজার ৬৭৫টি বই এই গ্রন্থাগারে দান করেছিলেন। শুধু বাংলা বা ইংরেজি নয় এই গ্রন্থাগারে ভারতের সব ভাষার বই সুন্দরভাবে সংরক্ষিত আছে৷ পথিবীর অন্যান্য দেশের ভাষার বই ও পাঠকরা পড়া এবং গবেষণার জন্য এখান থেকে পেতে পারেন৷ সপ্তাহের একদিনও বন্ধ থাকে না এই লাইব্রেরি৷ 

হাআমা/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ