আমলবিহীন ইলম মানুষের জন্য ধ্বংস ডেকে আনে—এমন সতর্কবার্তা উচ্চারণ করে শিক্ষার্থীদের নিয়ত পরিশুদ্ধ রাখা ও লক্ষ্য নির্ধারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশিষ্ট আলেমে দীন দারুল উলুম ঢাকা ও জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়ার প্রিন্সিপাল ও শায়খুল হাদিস মুফতি রেজাউল হক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাদ মাগরিব গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার বরুন রোডস্থ আল আযহার ইসলামিয়া মডেল মাদরাসায় নবীন বরণ ও নসীহা শীর্ষক এক ব্যতিক্রমধর্মী অনুষ্ঠানে নসীহা প্রদানকালে তিনি এ সতর্কবার্তা দেন।
মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মুফতী শামসুল হক শামীম আযহারীর সঞ্চালনায় এবং বিশিষ্ট সমাজসেবক মো. সাখাওয়াত হোসেনের সভাপতিত্বে আয়োজিত এ মাহফিলে মুফতী রেজাউল হক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সুস্পষ্ট করতে হবে এবং নিয়তকে পরিশুদ্ধ রাখতে হবে। ইলম অর্জনের উদ্দেশ্য হওয়া উচিত আল্লাহর বিধান জানা, সে অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করা, আদর্শ মানুষ ও সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তোলা এবং সৃষ্টির সেবা করে মহান সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি অর্জন করা।
তিনি হাদিসের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, কেয়ামতের দিন সর্বপ্রথম যাদের বিচার হবে, তাদের মধ্যে আলেমও থাকবেন। যিনি দুনিয়ায় ইলম অর্জন করেছিলেন খ্যাতি ও উপাধি লাভের উদ্দেশ্যে। আল্লাহ তায়ালা তাকে জিজ্ঞেস করবেন—তুমি ইলম দ্বারা কী করেছ? সে বলবে, দ্বীনের প্রচার করেছি। তখন আল্লাহ বলবেন—তুমি ইলম অর্জন করেছিলে যাতে তোমাকে ‘আলেম’ বলা হয়, আর তা দুনিয়ায় হয়ে গেছে। এরপর তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, দ্বীনি ইলম কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য অর্জন করতে হবে। পার্থিব স্বার্থে ইলম অর্জন করলে সে জান্নাতের সুঘ্রাণ থেকেও বঞ্চিত হবে। ইলম আল্লাহর অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত; কিন্তু ইলমের সাথে আমল না থাকলে তা মানুষের জন্য ধ্বংস ডেকে আনে। ইলমের প্রকৃত শুকরিয়া হলো—ইলম অনুযায়ী আমল করা। আমলবিহীন আলেম ফলহীন বৃক্ষের ন্যায়।
মুফতী রেজাউল হক মুহাম্মদ আবদুল্লাহ বলেন, দীনি ইলম অর্জনে কঠোর পরিশ্রম ও ত্যাগ স্বীকার অপরিহার্য। এ প্রসঙ্গে তিনি হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.)-এর উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ সা. তার জন্য কুরআনের গভীর জ্ঞান দানের দোয়া করেছিলেন। পরবর্তীতে তিনি অক্লান্ত পরিশ্রম ও সাহাবায়ে কিরামের দরজায় দরজায় ঘুরে হাদিস সংগ্রহ করে তাফসির শাস্ত্রে অনন্য উচ্চতায় আসীন হন।
তিনি শিক্ষার্থীদের উস্তাদদের প্রতি যথাযথ আদব, ভক্তি ও শ্রদ্ধা প্রদর্শনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি মাদরাসা, কিতাব ও শিক্ষা উপকরণের প্রতিও সম্মান প্রদর্শনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানে মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক পরিবেশনারও আয়োজন করা হয়।
জেডএম/
