বুধবার, ২৭ মে ২০২৬ ।। ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ১০ জিলহজ ১৪৪৭


আমি কীভাবে মুখতাসারুল কুদূরি পড়াই


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| আবু সাঈদ ||

১. আমি প্রথমে মুখতাসারুল কুদুরির কিতাবের নাম মুখস্থ করিয়েছে। মুখতাসারুল কুদূরিতে كتاب الطهارة থেকে كتاب الميراث পর্যন্ত মোট ৬৫টি কিতাব আছে। এসব নাম আমি সপ্তাহখানেক সময় দিয়ে মুখস্থ করিয়েছি। এই সময়ে আমি ফিকাহ কিভাবে পড়তে হয়, ফিকহের গুরুত্বপূর্ণ পরিভাষা, মুখতাসারুল কুদূরির মান, মুসান্নিফের জীবনী ও ফুকাহায়ে কেরামের মাঝে তার অবস্থান ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করেছি।

২. দ্বিতীয়ত আমি উৎসাহ দিয়েছি- প্রত্যেক কিতাব শুরু হওয়ার পর এতে কতটি বাব আছে, সেগুলোর শিরোনাম যেন মুখস্থ করা হয়। তবে এতে আপাতত চাপ দেইনি। কারণ, কিতাবুল বুয়ু শেষ হওয়ার পর আমি বাবগুলোর নাম পুনরায় মুখস্থ করার নিয়ত আছে। সেজন্য আপাতত একদিন সময় দিয়েছি। বাকি এদিন দরকারি আরো কিছু বিষয় আলোচনা করেছি- আদর্শ তালিবুল ইলম কে, কখন একজন ছাত্র নিজেকে ভালো ছাত্র জ্ঞান করতে পারে, এর মানদণ্ড কী। এই জাতীয় কিছু আলোচনা করেনি।

৩. তৃতীয়ত আমি প্রতিটি বাবে কয়টি মাবাহিস আছে, তা কোন জায়গা থেকে শুরু, তা দেখিয়ে দিয়েছি। প্রত্যেকটি বহসের একটি শিরোনাম দিয়েছি। সেটি তাদের মুখস্থ করতে বলেছি। এতে যথেষ্ঠ গুরুত্ব দিয়েছি। এর ফাঁকে দরকারি আরো কিছু আলোচনা করেছি- ভালো ছাত্ররা কিতাব কিভাবে হল করতে হয়? উস্তাদ থেকে দরসের বাইরে দরসি কিতাবের আর কী কী ইস্তেফাদা করতে হয়, সে বিষয়ে কিছু ধারণা দেয়ার চেষ্টা করেছি।

৪. প্রত্যেক বহসে কয়টি করে আলোচনা আছে, তা দেখিয়ে দিয়েছি। সেসবেরও একটি করে শিরোনাম দিয়েছি। এর মাঝেও আমি কিছু দরকারি আলোচনা করেছি।

এগুলো ছিল আমার একটি বহস শুরু করার আগে প্রস্তুতিমূলক কিছু প্রচেষ্টা। যেন তালিবুল ইলম দরস থেকে যথাযথভাবে উপকৃত হতে পারে। এরপর আমি বহসভিত্তিক পড়ানো শুরু করি। পড়ানোর ক্ষেত্রে আমি অল্প কয়েকটি কাজ করে থাকি।

১. দেখাই- এই বহসে কয়টি মাসয়ালা আছে? প্রত্যেকটি মাসয়ালার توضيح المعنى করি। এক্ষেত্রে কিতাবের মাসয়ালা বুঝতে যদি দুয়েকটি কথা বলতে হয়, তাহলে বলি। অন্যথায় বাইরে তেমন কথা বলিই না। বিশেষ করে ফিকহের বাইরে তেমন কিছুই বলি না।

২. দেখাই- লেখক মাসয়ালটি বুঝানোর জন্য কী উদাহরণ দিয়েছেন। যেহেতু উদাহরণ লেখকের সময়কালের; তাই আমি আমার সময়কালের কিছু উদাহরণ বের করে নিয়ে আসি। এক্ষেত্রে মুফতি তাকি উসমানি হাফি., মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম হাফি., মুফতি হারুন হাফি.-এর কিছু কিতাবের সহযোগিতা গ্রহণ করে থাকি। বিশেষ করে মুফতি তাকি উসমানি হাফি. এর مختصر فقه البيوع مع حاشية الشيخ أبي لبابة شاه منصور আমার খুব কাজে আসে। এছাড়া আরো কিছু কিতাবাদি দেখে থাকি। উদাহরণ দেয়ার ক্ষেত্রে খেয়াল রাখি- তালিবুল ইলম যেন সহজেই বিষয়টি বুঝতে পারে। আর চেষ্টা করি এমন উদাহরণ দিতে, যেগুলো সমাজে বেশি প্রচলিত কিংবা তালিবুল ইলম নিজেই তার সাথে সম্পৃক্ত।

৩. কিছু কিছু ক্ষেত্রে মুসান্নিফ গুরুত্বপূর্ণ কিছু বহস ছেড়ে দেন, যেগুলো তালিবুল ইলমদের জানা থাকা দরকার। সেগুলোও সংক্ষেপে আলোচনা করি। কিংবা মুসান্নিফ যেসব বহসে অর্ধেক আলোচনা করেছেন, বাকি অর্ধেক এড়িয়ে গেছেন, সেসব ক্ষেত্রেও বাকি আলোচনাটুকু উল্লেখ করে থাকি। 

এই তিন কাজ করিয়েই আলহামদুলিল্লাহ আজ তিন বছর ধরে আমি মুখতাসারুল কুদূরি পাঠদান করে থাকি। এতে আমার তালিবুল ইলমদের মনে আলহামদুলিল্লাহ গেঁথে দিতে পেরেছি যে মুখতাসারুল কুদূরি কিতাবটিও আমাদের প্রাত্যহিক জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। এটি অনেক বছর আগে লেখা হলেও বর্তমানেও সমান প্রাসঙ্গিক।

আমি আরেকটি কাজ করানোর চেষ্টা করি। এটা সাধারণত তালিবুল ইলমরা করে না; বা করতেও চায় না। কিন্তু আমার কাজে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। তা হলো- কুদূরির মানের আরো কয়েকটি মতন থেকেও মাসয়ালাটা দেখতে বলি। এক্ষেত্রে যদি কোনো তফাৎ নজরে পড়ে, তাহলে আমাকে বলতে বলি। কিন্তু চাপাচাপি করলে কয়দিন দেখে। আবার চাপ কমে গেলে করে না।

পুনশ্চ : যে কাজগুলোর বিবরণ দিয়েছি- প্রত্যেকটির পেছনে আমার সুদূরপ্রসারী কিছু লক্ষ্য আছে; অন্য কোনো প্রসঙ্গে সেটি উল্লেখ করব। ইনশাআল্লাহ।

লেখক: শিক্ষক, মাদরাসাতুত তাকওয়া, মতিঝিল, ঢাকা


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ