বিশেষ প্রতিনিধি—
কোনো ধরনের শর্তারোপ ছাড়াই দাওরায়ে হাদিসের সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছেন আলেম ও শিক্ষাবিদরা। তারা বলেছেন, কওমি মাদরাসা শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করতে দাওরায়ে হাদীসের সনদের পূর্ণাঙ্গ কার্যকর স্বীকৃতি জরুরি।
শনিবার (১৬ মে) রাজধানীতে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত “দাওরায়ে হাদীসের সনদের স্বীকৃতি বাস্তবায়ন” শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন।
আল-হাইআতুল উলয়ার সদস্য মাওলানা মাহফুজুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বক্তারা বলেন, দাওরায়ে হাদিসের সনদের ভিত্তিতে ধর্মীয় ও সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজে ধর্মীয় শিক্ষক, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, সরকারি মসজিদের ইমাম-খতিব, সামরিক ও আধাসামরিক বাহিনীর ধর্মীয় শিক্ষক এবং কারাগারের ধর্মীয় শিক্ষক পদে কওমি শিক্ষার্থীদের নিয়োগের সুযোগ রাখতে হবে।
তারা আরও বলেন, দাওরায়ে হাদিস পাস শিক্ষার্থীদের জন্য দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চশিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করতে হবে। আরবি ও ইসলামিক স্টাডিজ ছাড়াও অন্যান্য বিষয়ে মাস্টার্সে ভর্তির সুযোগ এবং ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে এমফিল ও পিএইচডি করার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা।
বৈঠকে আলোচকরা শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (এনএসডিএ) প্রস্তাবিত কিছু পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, কারিগরি শিক্ষার বিভিন্ন স্তর অন্তর্ভুক্ত করে কওমি শিক্ষাব্যবস্থার কাঠামো পরিবর্তনের উদ্যোগ কওমি ধারার জন্য ‘ধ্বংসাত্মক’ হতে পারে।
বক্তারা আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান মুহিউসসুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসান, কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমান এবং ছয় বোর্ডের মুরব্বিদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে বলেন, কওমি অঙ্গনের বৃহত্তর স্বার্থে মুরব্বিদের যেকোনো সিদ্ধান্ত তারা মেনে নেবেন।
গোলটেবিল বৈঠক সঞ্চালনা করেন মাওলানা মুহাম্মদ অছিউর রহমান। এতে অংশ নেন মারকাযুদ দাওয়াহ আল ইসলামিয়ার গবেষক ও দাওয়াহ শিক্ষক মাওলানা শরীফ মুহাম্মদ, জামিয়া ইসলামিয়া কাজলার মুহতামিম মুফতি মুঈনুল ইসলাম, ফরিদাবাদ মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা যুবায়ের আহমদ, মাদরাসাতুল ইহসানের মুহতামিম মাওলানা তৈয়ব আশরাফ, মারকাযুশ শায়েখ আরশাদ মাদানীর মুহতামিম মাওলানা ইমরানুল বারী সিরাজী, জামিয়া দৌরের মুহাদ্দিস মাওলানা আবদুল্লাহ ফারুক, মাদরাসাতুল কুরআনিল কারীমের মাওলানা আতিক উল্লাহ এবং জামিয়া মাদানিয়া যাত্রাবাড়ীর শিক্ষক মাওলানা রেজওয়ান আহমদ।
এছাড়া ইসলামবিষয়ক মিডিয়া আলোচক মাওলানা গাজী সানাউল্লাহ রাহমানী, মারকাযুল লুগাতিল আরাবিয়া বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক মাওলানা মহিউদ্দিন ফারুকী, মালিবাগ জামিয়ার সহকারী মুফতি মুফতি আব্দুল্লাহ মাসুম, তালিমুল ইসলাম ইনস্টিটিউট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের পরিচালক মাওলানা লুৎফুর রহমান ফারায়েজী, জামেয়া মাহমুদিয়ার প্রধান মুফতি মাওলানা রেজাউল করীম আবরার, টিকরপুর মাদরাসার মুহাদ্দিস ও লেখক মাওলানা হায়াত মাহমুদ জাকির, জামিয়া মাদানিয়া বারিধারার মুঈনে মুফতি মাওলানা জাবের হোসাইন কাসেমী এবং লেখক-গবেষক মাওলানা ইহসানুল হক বক্তব্য দেন।
বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আমার দেশের সহসম্পাদক মাওলানা আলী হাসান তৈয়ব, ৩৬ নিউজের নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা মাসউদুল কাদের, ইসলামিক দাওয়াহ সেন্টারের পরিচালক মাওলানা শামসুদ্দোহা আশরাফী, আল জামিয়া মদিনাতুল উলুম বাড়ৈখালির মুহাদ্দিস মাওলানা আবু মুহাম্মাদ রাহমানী, স্বাধীনতার বার্তার নির্বাহী সম্পাদক মাওলানা আহমাদ সিরাজী, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা জামিয়া ইমদাদিয়ার মুহাদ্দিস মাওলানা সাদ আবদুল্লাহ মামুন, চৌধুরীপাড়া মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা এনায়েত কবির, জামি‘আ কাসেম নানুতবীর মুহাদ্দিস মাওলানা আবুল ফাতাহ কাসেমী, দৈনিক যুগান্তরের সহসম্পাদক ও মাদরাসা দারসুস সুন্নাহর শিক্ষক মাওলানা তানজিল আমির, জামিয়া নূরিয়া কাসেমুল উলূমের মুহাদ্দিস মাওলানা কামরুল ইসলাম, গওহরডাঙ্গা মাদরাসার শিক্ষক মুফতি তাসনীম এবং আওয়ার ইসলামের সাব-এডিটর মাওলানা ইমরান ওবাইদ।
আইও/