সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ।। ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮

শিরোনাম :
১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম নিকাব নিয়ে কটূক্তি: ঢাবির সেই শিক্ষিকাকে ‘লাল কার্ড’ দেখালেন শিক্ষার্থীরা আলোর পথের যাত্রী  সিলেট সিটিতে মেয়র প্রার্থী ঘোষণা করল বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস বিএনপি-জামায়াত আমলে আলিয়া মাদরাসা বাড়ে ১৫৪১টি, আ.লীগ আমলে কমেছে ১৭৯টি আলী মিয়াঁ নদভীকে নিয়ে বই লিখে দিল্লি উর্দু একাডেমির পুরস্কার লাভ রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় হেফাজতের শোক, ক্ষতিপূরণ ও বিনামূল্যে চিকিৎসার দাবি রিয়াদ বিমানবন্দরে হুতি হামলার নিন্দা পাকিস্তানসহ ৪ দেশের  বিশ্বজয়ী হাফেজ হিরাকে শুভেচ্ছা জানালেন মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী ২০২৭ সালে পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, তারিখ চূড়ান্ত

১৩ মাসে হাফেজ হলো ১০ বছরের নাঈম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাবাকে হারিয়েছে ছোটবেলাতেই। সংসারে ছিল অভাব-অনটন, সন্তানের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়াও হয়ে পড়েছিল কঠিন। তবু ছেলেকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন ছাড়েননি মা মরিয়ম বেগম। সেই স্বপ্ন পূরণে পাশে দাঁড়ায় রাজধানীর উত্তরার জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম মাদরাসা ও এতিমখানা। মায়ের দোয়া, শিক্ষকদের নিবিড় তত্ত্বাবধান আর নিজের অধ্যবসায়ে মাত্র ১৩ মাসে পবিত্র কুরআনের ৩০ পারা মুখস্থ করে হাফেজ হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে ১০ বছর বয়সী শিশু মুহাম্মদ নাঈম আহমদ।

গতকাল রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় মাদরাসার শিক্ষকের কাছে কুরআনের শেষ সবক শোনানোর মধ্য দিয়ে তার হিফজ সম্পন্ন হয়। পরে মাদরাসা কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে তার হিফজ সম্পন্নের ঘোষণা দেন। নাঈমের এ অর্জনে আনন্দিত তার পরিবারের সদস্য, শিক্ষক ও সহপাঠীরা।

নাঈমের বাড়ি সিলেটের কানাইঘাট উপজেলার চতুল-সরুফৌদ গ্রামে। প্রয়াত শফিক আহমদ ও মরিয়ম বেগম দম্পতির তিন ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে সে সবার ছোট। পিতৃহীন নাঈমের বেড়ে ওঠার পথ সহজ ছিল না। আর্থিক সংকটের কারণে একসময় সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা তার জীবনে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়।

নাঈমের মা মরিয়ম বেগম বলেন, ছেলেকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন ছিল তাদের। কিন্তু স্বামীর মৃত্যুর পর আর্থিক সংকটের কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন তিনি। প্রায় সাত বছর আগে তাঁর স্বামী ইন্তেকাল করেন। এরপর অভাব-অনটনের কারণে সন্তানদের পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছিল।

তিনি বলেন, মহান আল্লাহ আমাদের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। আমাদের স্বপ্ন ছিল ছেলেকে হাফেজ বানানোর, কিন্তু আমাদের সেই সামর্থ্য ছিল না। ঠিক সেই সময়ে আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায় জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ছেলের এ অর্জনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে মরিয়ম বেগম আরও বলেন, ‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করার পাশাপাশি জামিয়া আরাবিয়া নুরুল ইসলাম ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞ। তাঁদের আন্তরিক সহযোগিতার কারণেই আমার ছেলে মাত্র ১৩ মাসে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে।’

ছেলের ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী এই মা দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়ে বলেন, নাঈম যেন বড় হয়ে একজন আলেম হতে পারে এবং ইসলাম ও দেশের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত করতে পারে।

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ