বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬ ।। ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
হজ ব্যবস্থাপনা ও হজ প্যাকেজ নিয়ে কিছু কথা ভুল সংশোধনের সুযোগ পাচ্ছেন নতুন ভোটাররা ব্যক্তিগত মন্তব্যের জন্য সংসদে দুঃখ প্রকাশ করলেন শিক্ষামন্ত্রী গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ৩২৯ মহানগর দক্ষিণের কাউন্সিল সফল করতে রামপুরা নেতাদের সঙ্গে জমিয়তের মতবিনিময় ‎হানাফি উসুল অমূল্য রত্ন ও ফকিহ সাহাবায়ে কেরামের উত্তরাধিকার কওমি মাদরাসায় কারিগরি প্রশিক্ষণ সম্প্রসারণ বিষয়ে যা বললেন শিক্ষামন্ত্রী এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান প্রশ্নে ত্রুটি: চার শিক্ষককে শোকজ বন্যা দুর্গতদের মাঝে ইসলামী আন্দোলনের ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত বিকেএম কেন্দুয়া উপজেলা শাখার ৪১ সদস্যের নতুন কমিটি গঠন

মুফতি শহীদুল ইসলাম আপনাকে কীভাবে ভুলে যায় এ জাতি?

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| এহসান সিরাজ ||

ছবিটি ২০০৭ সালে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের। ছবির বামে বিএনপির নাটোর-২ সংসদীয় আসনের বর্তমান এমপি এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, মাঝে ইসলামী ঐক্যজোট ও খেলাফত মজলিস নেতা, নড়াইল-২ আসনের সাবেক এমপি মুফতি শহিদুল ইসলাম রহ., সর্ব ডানে শামসুল হায়দার সিদ্দিকী।

ওয়ান ইলিভেনের সময় ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি ছিলেন মেজর জেনারেল (অব.) শামসুল হায়দার সিদ্দিকী। তার সময়ে তিনজন প্রধানমন্ত্রী অর্থাৎ বেগম খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ শতাধিক নেতা কারাগারে ছিলেন।

সম্প্রতি ইউটিউব চ্যানেল 'সামাজিক'-এ দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিছু পুরনো ছবি নিয়ে স্মৃতিচারণ করেছেন তিনি। স্মৃতিচারণে এই ছবিটি নিয়েও কথা হয়েছে। তিনি সেখানে দুলু সাহেবকে ভালোভাবে চিনলেও মুফতি শহিদুল ইসলাম রহ.কে জামায়াতে ইসলামীর কেউ হবেন বলে জানিয়েছেন!

হায়! মুফতি শহীদুল ইসলাম। আপনি তো শুধু কওমি অঙ্গনের কেউ ছিলেন না। আপনি ছিলেন সবার, পুরো জাতির, পৃথিবীর। আপনার কর্ম তো পুরো বিশ্বময়! আপনাকে কীভাবে ভুলে যায় এ জাতি?

এনজিও আল-মারকাজুল ইসলামী, মারকাজুল ইসলামী হাসপাতাল, আফ্রিকার গহীন অঞ্চলে সুবিধা বঞ্চিতদের মাঝে রিলিফ বিতরণ, মক্কা-মদিনায় হাজিদের সেবায় কেটারিং সার্ভিসসহ কেরানীগঞ্জে সুবিশাল এরিয়া নিয়ে আল-মারকাজু জামিয়াতুল উলুম আল ইসলামিয়া প্রতিষ্ঠা মুফতি শহীদুল ইসলামের অনন্য কৃতিত্ব।

তিনি সহস্রাধিক মসজিদ মাদরাসার পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। এনজিও 'আল-মারকাজুল ইসলামী'র মাধ্যমে বাংলাদেশে বেওয়ারিশ লাশ দাফন, করোনা কালে লাশ দাফন, হাসপাতাল ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় বিশেষ অবদান রাখেন মুফতি সাহেব। ছিলেন একাধারে আলেম, সফল ব্যবসায়ী, রাজনৈতিক ও সমাজ সেবক।

তিনি ইন্তেকাল করেছেন মাত্র তিন বছর হলো। একজন সাবেক কারাগারের ডিআইজি নয় শুধু মাদরাসা পড়ুয়া অনেকেই তাঁর সম্পর্কে কিছু বলতে পারবেন না। এমনটা হবে কেন? তিনি এভাবে হারিয়ে যাওয়ার মানুষ ছিলেন না!

ওনার স্ত্রী, দুই ছেলেসহ মেয়ে জামাইরা আছেন। অবস্থাও তাদের ভালো। তাঁকে জাতির সামনে তুলে ধরতে তাদেরই এগিয়ে আসা উচিত। না হলে অসংখ্য প্রতিষ্ঠানের ইতিহাস জামায়াতের নামে হয়ে যাবে। বিলীন হয়ে যাবে মুফতি শহীদুল ইসলামের কর্মময় জীবনের বর্ণিল অধ্যায়!

লেখক: আলেম লেখক ও গবেষক

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ