শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৫ রবিউস সানি ১৪৪৮


১২৩ বছর বয়সেও চশমা ছাড়াই কুরআন পড়েন তিনি!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

নিজস্ব প্রতিবেদক

নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার আব্বাস প্রামানিকের বয়স ভোটার আইডি কার্ড অনুযায়ী ১২৩ বছর। পরিবারের দাবি, তাঁর প্রকৃত বয়স আরও বেশি। বয়সের ভারে শরীর অনেকটাই কাহিল হয়ে পড়লেও এখনও নিয়মিত নামাজ আদায় ও কুরআন তেলাওয়াত করেন তিনি। সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়, এই বয়সেও কোনো চশমার সাহায্য ছাড়াই খালি চোখে কুরআন পড়তে পারেন আব্বাস প্রামানিক।

আব্বাস প্রামানিকের বাড়ি গুরুদাসপুর উপজেলার বিয়াঘাট ইউনিয়নের যোগেন্দ্রনগর গ্রামে। কর্মজীবনে তিনি ছিলেন একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। একসময় মাত্র ৬০ টাকা বেতনে শিক্ষকতা করার পাশাপাশি এলাকায় বিনামূল্যে শিশু-কিশোরদের কুরআন শিক্ষা দিতেন। ছয় ছেলে ও দুই মেয়ের বাবা তিনি।

দীর্ঘ জীবনে আব্বাস প্রামানিক ব্রিটিশ শাসন, পাকিস্তান আমল এবং ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের সময় দেখেছেন। তবে শত বছরের বেশি বয়সে অনেক পুরোনো স্মৃতিই এখন আর স্পষ্টভাবে মনে করতে পারেন না। চোখে এখনও স্পষ্ট দেখতে পেলেও কানে কম শোনেন তিনি।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বাতাসা, গরুর দুধ ও মসুর ডাল তাঁর প্রিয় খাবার। একসময় অর্থ-সম্পদ থাকলেও বর্তমানে একটি ভাঙা ঘরে বসবাস করছেন তিনি। নাতি ও নাতবউরা তাঁর দেখাশোনা করেন। বয়সের কারণে চলাফেরা কমে গেলেও নিজের কাজ নিজে করার চেষ্টা করেন। এমনকি কারও সহযোগিতা ছাড়াই নিজেই কাপড় পরতে পারেন।

আব্বাস প্রামানিক সারা জীবন সাধারণ জীবনযাপনে অভ্যস্ত ছিলেন। গাড়িতে চড়াকে তিনি একসময় বিলাসিতা মনে করতেন। ফলে জীবনের দীর্ঘ সময় পায়ে হেঁটেই চলাফেরা করেছেন বলে জানান পরিবারের সদস্যরা।

নাতি শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘দাদার ভোটার আইডি কার্ডে যে বয়স রয়েছে, তাঁর বয়স তার চেয়েও বেশি। তিনি কখনো বিলাসিতা পছন্দ করতেন না। জীবনে অধিকাংশ সময় পায়ে হেঁটেই চলাফেরা করেছেন। তিনি একজন ধার্মিক মানুষ। কখনো কারও সঙ্গে অন্যায় করেননি। সৎভাবে জীবনযাপন করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বয়সের কারণে আব্বাস প্রামানিক তেমন চলাফেরা করতে পারেন না। পরিবারের সদস্যরাই তাঁর দেখাশোনা করছেন।

মেয়ে আলিমা বেগম বলেন, ‘আমার বয়স যখন পাঁচ বছর, তখন মা মারা যান। এরপর বাবার কাছেই বড় হয়েছি। আমরা কখনো বাবাকে কারও সঙ্গে অন্যায় করতে দেখিনি। তিনি সবসময় সৎভাবে জীবনযাপন করেছেন। কোথাও গেলে পায়ে হেঁটে যেতেন, গাড়িতে উঠতেন না।’

তিনি বলেন, বর্তমানে তাঁর বাবার দেখাশোনা করছেন ভাইয়ের ছেলেরা। সুযোগ পেলে তিনি বাবাকে দেখতে যান এবং তাঁর পছন্দের খাবার নিয়ে যান। ‘এত বছর বয়সেও আমার বাবা চশমা ছাড়া কোরআন পড়েন। অথচ আমরা তাঁর সন্তান হয়েও চোখে কিছুটা ঝাপসা দেখি’—বলেন আলিমা বেগম।

গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ জানান, আব্বাস প্রামানিক উপজেলার প্রবীণ একজন বাসিন্দা। বয়সের ভারে তিনি এখন তেমন চলাফেরা করতে পারেন না। তাঁর চলাচলের সুবিধার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়ির সামনে সিঁড়ি করে দেওয়া হয়েছে। এছাড়া খুবজিপুর প্রবীণ সেবা কেন্দ্র তাঁর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বিভিন্ন সময় তাঁকে সহযোগিতা করে আসছে।

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ