ঢাকা : অবশেষে বহুল আলোচিত রামপাল কয়লা বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের চুক্তিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তি সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ ও ভারত। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে দুই’শ কোটি ডলারেরও বেশি অর্থায়নের এই প্রকল্পের চুক্তি স্বাক্ষর করে বাংলাদেশ ও ভারতের প্রতিনিধিরা।
কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণ করতে ভারত হেভি ইলেকট্রিক্যালস লিমিটেড (ভেল) এবং বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিলি) এর মধ্যে চুক্তিটি সম্পাদিত হয়।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ, জ্বালানী ও খনিজ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী বলেন, ‘কোনো সন্ত্রাস আমাদের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে পারবে না, আমরা এগিয়ে যাবোই।’
বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নে ভারত আগের মতোই অংশীদার থাকবে। কোনো কিছুই দুই দেশের এই উন্নয়ন পদক্ষেপগুলোকে দমিয়ে রাখতে পারবে না।’
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে যোগ দিতে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ঢাকায় আসেন ভারতের বিদ্যুৎ সচিব প্রদীপ কুমার পূজারি। তিনি চুক্তি স্বাক্ষর শেষে বলেন,‘দু’দেশের মধ্যে বিদ্যুৎ বিনিময় আগেই শুরু হয়েছে। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে বিনিয়োগের মাধ্যমে দু’দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে। আন্তর্জাতিক মানের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নির্ধারিত সময়েই বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হবে।’
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারতের এনপিটিসি চেয়ারম্যান গুরুদ্বীপ সিং এবং বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান শামসুল হাসান মিয়া।
বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিলি) ১৩২০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার কয়লাভিত্তিক মৈত্রী সুপার থারমাল পাওয়ার নামের এই কেন্দ্র স্থাপন করবে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই চুক্তি হওয়ার কথা ছিল।
দরপত্র মূল্যায়ন শেষে জানুয়ারি মাসে ভারতের কোম্পানি ভেলকে অনুমোদন দিয়ে ছিল বাংলাদেশ-ভারত ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি (বিআইএফপিসিএল), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার করপোরেশন (এনটিপিসি) এর স্ব স্ব বোর্ড।
তিন বোর্ডের অনুমোদন পাওয়ার পর গত ৩০ জানুয়ারি ভেলকে চিঠি দিয়ে চুক্তি করতে বলা হয়েছিল। শর্ত অনুযায়ি, চিঠি পাওয়ার ২৮ দিনের মধ্যে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ভেলকে বিআইএফপিসিএল এর সঙ্গে চুক্তি করার কথা। কিন্তু পরে এই সময় বাড়ান