মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


বেলফোর ঘোষণা, রক্তঝরা ফিলিস্তিন ও আমাদের দায়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

free_palestine

সাবের চৌধুরী

২০ শতকের শুরু থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সময়টি পুরো বিশ্ব অত্যন্ত জটিল একটি সময় পার করে। ১৯১৪ সালের দিকে ইউরোপজুড়ে বহুমুখী একটি মহাযুদ্ধ শুরু হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ নামে খ্যাত ১৯১৪ সালে শুরু হওয়া সে মহারণে মিত্রপক্ষে ছিল বৃটেন ফ্রান্স রাশিয়া। আর অক্ষশক্তিতে ছিল জার্মানি অস্ট্রিয়া-হাঙ্গেরি।

অটোমান সাম্রাজ্য তথা উসমানি খেলাফত বাধ্য হয়ে অক্ষশক্তির পক্ষ নেয়। এ সময়ে ইউরোপ তাবৎ মুসলমানের বিরুদ্ধে অনেকগুলো টার্গেট নিয়ে একটি জটিল মিশনে নামে। এ মিশনের নেতৃত্বে ছিল চতুর বৃটেন। তাদের সে মিশনের মূল টার্গেটগুলো ছিল-

১. ইউরোপ ও বৃটেনের দীর্ঘদিনের শত্রু উসমানি খেলাফতকে ধ্বংস করা। ২. উসমানি খেলাফতের রাজ্যগুলোকে নিজেদের মধ্যে ভাগ বাটোয়ারা করে নিজেদের সাম্রাজ্য বিস্তার করা। ৩. ইহুদিদের জন্য একটি নিরাপদ স্থায়ী দেশ প্রতিষ্ঠা করে তাদের সমর্থন, সম্পদ, বুদ্ধিকে নিজেদের ফেভারে নেওয়া। ৪. সমগ্র ইউরোপের জন্য হুমকি হযে দাঁড়ানো ইহুদিদের নিরাপদে অন্য কোন জাযগায় পাঠিয়ে ইউরোপকে ইহুদি মুক্ত করা। ৫. মুসলমানদের মুলভূমি মধ্য প্রাচ্যে ইহুদি বিষফোঁড়া তৈরি করে মুসলমানদের একটি স্থায়ী সমস্যার মধ্যে ফেলে রাখা।

এ মিশন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তারা পরস্পর বিপরীতমুখী তিনটি চুক্তিতে আবদ্ধ হয়। এক. সাইকোস-পিকোট চুক্তি ১৯১৫-১৬ সালের শীতে বৃটেনের স্যার মার্ক সাইকস ও ফ্রান্সের ফ্রান্সিস জর্জেস পিকোট উসমানি খিলাফত পরবর্তী আরব বিশ্বকে ভাগ বাটোয়ারা করে কারা কোন অঞ্চল অধিকার করবে সে মর্মে একটি গোপন চুক্তিতে মিলিত হয়। ইহুদিদের বিষয়টি সামনে রেখে ফিলিস্তিনের ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না নিয়ে এটি মুলতবি রাখে। ইতিহাসে একে সাইকস-পিকোট চুক্তি নামে ডাকা হয়। দুই. আরব বিদ্রোহ বৃটেন ফ্রান্সের সাথে করা গোপন চুক্তিটি গোপন রেখেই মক্কার গভর্ণর শরীফ হুসেইন বিন আলীর সাথে আরেকটি গোপন চুক্তিতে মিলিত হয়। তাকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয় আরব ভূখণ্ড, ইরাক, ফিলিস্তিনসহ বিশাল এক একক আরব সাম্রাজ্যের অধিপতি করা হবে। এই বলে তার নেতৃত্বে উসমানি শাসনের বিরুদ্ধে আরব বিদ্রোহের সূচনা করে। এ বিদ্রোহ বাস্তবায়নের জন্য তারা আরব জাতীয়তাবাদের ভূয়া স্লোগান তোলে। শরীফ তার বাহিনী নিয়ে মক্কা মদীনাসহ হেজাজ ও তৎপা