
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. আবুল বারকাতের ‘বাংলাদেশে কৃষি-ভূমি-জলা সংস্কারের রাজনৈতিক অর্থনীতি’ শীর্ষক এক গবেষণায় এই চিত্র উঠে এসেছে। শনিবার এই গবেষণাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হবে। গবেষণায় বলা হয়, গত ৩০ বছরে (১৯৮৪-২০১৪) দরিদ্র মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪ কোটি ৫৫ লাখে।
এ প্রসঙ্গে অধ্যাপক আবুল বারকাত সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ‘দরিদ্র মানুষ বাড়ার এই প্রবণতা জাতীয় উন্নয়নের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। রাজনীতির দুর্বৃত্তায়ন এবং গরিব ও মধ্যবিত্তের স্বার্থবিরোধী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক নির্ভর উন্নয়ন ধারা গত ৩০ বছরে বাংলাদেশে ৪ কোটি ৫৫ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘১৯৮৪ সালে দেশে ৬ কোটি মানুষ দরিদ্র ছিল। এখন সেটি ১০ কোটি ৫৫ লাখে এসে পৌঁছেছে।’
ড. বারকাত তার গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, ‘দেশের মোট দরিদ্র মানুষের ৮২ শতাংশ বসবাস করে গ্রামে এবং ১৮ শতাংশ বাস করে শহরে।’ গ্রামে বসবাসকারী ৬০ শতাংশ মানুষ খানা ভূমিহীন (যার নিজস্ব জমির পরিমাণ সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিমেল, সেটিকে ভূমিহীন খানা হিসেবে বিবেচনা করা হয়)। এছাড়া ৫০ শতাংশ খানাতে এখন পর্যন্ত বিদ্যুৎ সংযোগ নেই। শতকরা ৬৫ জন মানুষ সরকারি স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।’
গবেষণায় আরও বলা হয়, ‘১৯৬০ সালে এদেশে ভূমিহীন খানার সংখ্যা ছিল মোট খানার ১৯ শতাংশ। ২০০৮ সালে এটি হয়েছে ৫৯ শতাংশ। অন্যদিকে ১৯৬০ সালে দেশে ১ শতাংশ ধনী ভূস্বামীর মালিকানায় ছিল মোট কৃষি জমির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। কিন্তু ২০০৮ সালে সেটি হয়েছে ১২ শতাংশ।’
ড. বারকাতের এই গবেষণায় বলা হয়, ‘দেশে বর্তমানে কার্যত ভূমিহীন পরিবারের সংখ্যা দেশের মোট পরিবারের প্রায় ৬০ শতাংশ। অথচ তাদের হাতে আছে মোট জমির মাত্র ৪ দশমিক ২ শতাংশ। দেশের মোট পরিবারের মধ্যে মাত্র ৬ দশমিক ২ শতাংশ পরিবার ধনী। অথচ এই ৬ শতাংশ ধনীর পরিবারের মালিকানায় রয়েছে ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ জমি।’
গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘২০à