
আওয়ার ইসলাম : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিএনপির চেয়ারপারসনের দেওয়া প্রস্তাব সম্পর্কে করণীয় ঠিক করার ভার ছেড়ে দিয়েছেন রাষ্ট্রপতির ওপর।
গতকাল শনিবার গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন-সংক্রান্ত প্রস্তাবের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ওনার প্রস্তাব উনি দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতিকে বলুক। এটা রাষ্ট্রপতি ভালো বুঝবেন, উনি কী পদক্ষেপ নেবেন। রাষ্ট্রপতি যে পদক্ষেপ নেবেন সেটাই হবে। এখানে আমাদের বলার কিছু নেই।’
খালেদা জিয়ার প্রস্তাব সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি যে প্রস্তাব দিয়েছে আপনারা এর মাথা বা লেজের হদিস পেয়েছেন কি না, আমি জানি না। তিনি নির্বাচন করেননি, একটা দল হিসেবে বা দলের প্রধান হিসেবে একটা ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে নির্বাচন থেকে বিরত থেকেছিলেন। এখন এত দিন পর ওনার টনক নড়ল। এরপর উনি মানুষ খুন করে আওয়ামী লীগ সরকার উৎখাত করার আন্দোলন করলেন। যেকোনো প্রস্তাব দেওয়ার আগে তাঁর তো জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত ছিল।’
হত্যাকাণ্ড থেকে কোনো সম্প্রদায়ই রেহাই পাননি জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, সাধারণ মানুষ, বাসের চালক, হেলপার, রেল, লঞ্চ, কোথায় না আঘাত করেছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদ ধ্বংস করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র পুড়িয়েছে, ইঞ্জিনিয়ারকে মেরেছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার ২০ জন সদস্যকে হত্যা করেছে। আগে সেই জবাবটা জাতির কাছে দিক। তারপর প্রস্তাব নিয়ে কথা হবে।
খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান মারা যাওয়ার পর সমবেদনা জানাতে যাওয়ার অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ছেলে মারা গেছে দেখতে গেলাম, ঢুকতে দেওয়া হলো না। বড় গেট দিয়ে গাড়ি ঢুকতে না দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হলো। বললাম গাড়ি রেখে ছোট গেট দিয়েই যাব। নামলামও। তারপর ছোট গেটও বন্ধ করে দেওয়া হলো। এ ধরনের অভদ্র যারা, তারা কী প্রস্তাব দিল না দিল, ওটা নিয়ে আমার মতামত চান কেন আপনারা? এ ধরনের ছোটলোকি যারা করে, অভদ্রতা যারা করে তাদের কোনো মতামতের ওপর মতামত দেওয়ার অভিপ্রায় আমার নেই। যারা খুনি, খুনিদের কথার আবার কিসের জবাব দেব। তার প্রস্তাব নিয়ে এত তোলপাড় করার কী আছে, আমি তো বুঝি না।’