বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮


বর্ষবরণে মুসলিম বনাম পশ্চিমা সভ্যতা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুনশি মুহাম্মদ উবাইদুল্লাহ
শিক্ষার্থী, দারুল উলুম দেওবন্দ, ভারত

মহান রাব্বুল আলামিনের অশেষ রহমে আমরা অবস্থান করতে যাচ্ছি খ্রিস্টবর্ষের আরেকটি নতুন বছরে। মানবসভ্যতার আদিলগ্ন থেকেই মানবের স্বভাবজাত একটি প্রক্রিয়া হচ্ছে কোনো জিনিস থেকে কাউকে বাঁধা দেয়া হলে সেটার প্রতি প্রবল আগ্রহী হয়ে ওঠা। এ কারণেই হয়তো বা আরবি প্রবা— ‘আল ইনসানু হারিসুন ফি-মা মুনিয়া।’ স্বভাবতই তার দুর্বলতাও সেদিকটার প্রতি বেশ পরিলক্ষিত হয়।

সভ্যতা আর সুস্থ সংস্কৃতির প্রসঙ্গক্রমেই বলা যায়, বছরের শুরু এবং শেষভাগটুকু বাঙালিদের যেভাবে কাটে, বছরের অন্যান্য দিন কিন্তু সেভাবে কাটে না বা উদযাপিত হয় না। বাঙালি সংস্কৃতি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে প্রতিটি ক্ষেত্র থেকে। ব্যাপকহারে পশ্চিমা সভ্যতার ভূত চেপে বসেছে আমাদের ঘাড়ে।

আধুনিকতার উৎকর্ষের দোহাই দিয়ে আজ আমরা হারাতে বসেছি নিজেদের শেকড়। ‘সেকেল’ আখ্যা দিয়ে নিজেরাই নিজেদের ঐতিহ্য আর গৌরবগাঁথা বাঙালিপনার ইতিহাস ধিকৃত করছি দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে। অথচ শুধু বাঙালি হিসেবেই নয়, শতকরা পঁচানব্বই ভাগ মুসলমানের রাষ্ট্র হিসেবে কীভাবেই বা আমরা ইসলামের মৌলিক ও আনুষঙ্গিক বিষয়ের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ভূমিকা পালন করে থাকি?

 প্রশ্নবিদ্ধ এ সমাজে ঘোর কাটেনি এখনও এসব সভ্যতার। যে সভ্যতা নারী, মদ আর তারুণ্যের চপলতায় উদ্ভাসিত তরুণ-তরুণীকে উদযাপন করায় ‘থার্টি ফার্স্ট নাইট’ নামে এক ঘৃণ্যতর রাত। ইসলামে যার না রয়েছে কোনো বৈধতা; আর সভ্য সমাজে যার না আছে কোনো মূল্যায়ন। তবুও আজকাল সভ্য সমাজ ও সামাজিক মহল নামধারী কতক দুস্কৃতিকারী যেভাবে এ রাতে পানশালা, নাইটক্লাব আর পাঁচতারা হোটেলে নৃত্যের আসর বসান, তাতে তাদের সুশীল সমাজভুক্ত কোনো নাগরিক ভাবতেও গা শিউরে ওঠে।
মুসলমানের প্রতিটি কাজ তার নিজস্ব সংস্কৃতির ওপর গড়ে ওঠা উচিত। অথচ হালে আমরা দেখতে পাচ্ছি এর উল্টোটি। ফলে যারপর-ই না শান্তি-শৃঙ্খলা আর সম্মানে দিন দিন অভাবি হয়ে উঠছি আমরা। আজ পথেঘাটে চলতে-ফিরতেও আমাদের অপমানিত হতে হয় নাস্তিক-মুরতাদসহ অন্যান্য ধর্মালম্বীদের কাছে; যা ছিলো মুসলিমরাষ্ট্র হিসেবে বড়ই অনাকাঙ্ক্ষিত। তবুও আমাদের উচিত ছিলো, সমকালীন বিষয়-আশয়ে মুসলিমসভ্যতার ব্যাপারে বেশ সতর্ক হওয়া। কিন্তু এর ফলাফল বরাবরই দেখা গেছে বিপরীত। মুসলিম সভ্যতা তো ছিলো এমন— দিন শেষে রাতে ঘুমোবার পূর্বমুহূর্তে নিজের কর্মকাণ্ডের ভালোমন্দের à