মীর মোশাররেফ হোসেন : আল্লাহতায়ালা পৃথিবীতে মানবজাতিকে সৃষ্টির সেরা জীব হিসেবে একমাত্র তারই ইবাদত-বন্দেগি করার জন্য সৃষ্টি করেছেন। এমন অনেক পথ আল্লাহতায়ালা বান্দার জন্য উন্মুক্ত রেখেছেন এবং হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) উম্মতের সামনে তা দিবালোকের মতো সুস্পষ্ট করে তুলে ধরেছেন। অল্প নেক আমলের বিনিময়ে আল্লাহর অসীম দয়া ও অনুগ্রহের পাত্র হওয়ার জন্য নবী করিম (সা.)-এর মুখ নিঃসৃত অমিয় বাণীতে প্রদত্ত উত্তম পন্থাসমূহ থেকে একটি অতি সহজ পন্থা হলো শাওয়াল মাসের ছয় টি নফল রোজা।
বান্দা যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এই ছয়টি নফল রোজা রাখবে, তখন আল্লাহ তাকে পূর্ণ একটি বছর রোজা রাখার সওয়াব দিয়ে দেবেন। হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল, অতঃপর তার সঙ্গে সঙ্গে শাওয়াল মাসের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন পূর্ণবছরই রোজা রাখল।’ -সহিহ মুসলিম: ১১৬৪
শাওয়াল মাসের ছয়টি নফল রোজা পালন সারাটি বছর রোজা রাখার সওয়াব প্রাপ্তির এমনি একটি পরম সুবর্ণ সুযোগ এনে দেয়। একজন ব্যক্তি যখন রমজান মাসের রোজা রেখে তার সঙ্গে সঙ্গে শাওয়াল মাসেও ছয়টি রোজা পালন করল, সে এই রোজার কারণে আল্লাহর দরবারে পূর্ণ একটি বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব পেয়ে গেল। হাদিস শরিফে উল্লেখ আছে যে ‘রমজানের রোজা ১০ মাসের রোজার সমতুল্য আর (শাওয়ালের) ছয় রোজা দুই মাসের রোজার সমান; এই হলো এক বছরের রোজা।’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা শেষ করে ছয় দিন রোজা রাখবে, সেটা তার জন্য পুরো বছর রোজা রাখার সমতুল্য।’ -আহমাদ: ৫/২৮০, দারেমি: ১৭৫৫
কল্যাণকর কাজে প্রতিযোগিতাস্বরূপ শাওয়ালের ছয়টি নফল রোজার জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা মুস্তাহাব। মাহে রমজানের পরবর্তী মাস শাওয়ালের মধ্যে ছয়টি রোজা রাখার ফজিলত কতই না মহান! কারও পক্ষে সহজেই সম্ভব নয় এক বছর লাগাতার রোজা রাখা। অথচ এই নেক আমলটা বিরাট ফজিলত সম্পন্ন হওয়া সত্ত্বেও তা সাধারণ মানুষের পক্ষে সম্ভব। একদা রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে সারা বছর রোজা রাখা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বললেন, ‘নিঃসন্দেহে তোমার ওপর তোমার পরিবার-পরিজনের হক বা অধিকার রয়েছে।’ অতঃপর তিনি বললেন, ‘মাহে রমজানের এবং তার পরবর্তী দিনগুলোরও প্রতি সà§