মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


কন্যা সন্তান জন্ম নিলে টাকা নেন না তিনি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম:  নারী ক্ষমতায়ন, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণ এবং ফেমিনিজম বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার সবচাইতে বেশী ব্যবহৃত শব্দগুচ্ছের মাঝে অন্যতম। এই সকল শব্দের গুরুত্ব সঠিকভাবে আমরা অনেকেই বুঝতে পারি না এবং ক্ষেত্র বিশেষে বুঝতে চাইও না।

একজন নারীর সামাজিক অবস্থান, অর্থনৈতিক অবস্থা, পারিপার্শিক অবস্থা যেমনই হোক না কেন, প্রতিটি নারীকেই লড়াই করে বেঁচে থাকতে হয়। নিজেকে টিকিয়ে রাখতে হয়।

বর্তমান অবস্থাটা যখন এমন তখন নিজের দিক থেকে কিছুটা ইতিবাচক ভূমিকা রাখার জন্য প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন ভারতের পুনের ডা. গণেশ রাখ। ছয় বছর পূর্বে তিনি একটি ক্যাম্পেইন চালু করেন। তার পদাঙ্ক অনুসরণ করে পরবর্তি সময়ে আরও অনেকেই একই কাজ করেছেন। ডা. রাখের দারুণ এই প্রয়াসটি হলো- তার হাসপাতালে কোন প্রসূতি মা কন্যা সন্তানের জন্ম দিলে তার চিকিৎসার জন্য এক রূপিও গ্রহণ করা হয় না!

দারুণ এই প্রয়াসটি কীভাবে শুরু হলো? এর পেছনের গল্পটি জানতে চাইলে যেতে হবে ২০০৭ সালে। এই সালে ডা. রাখ পুনের হাদাপ্সার এলাকায় তার হাসপাতালটি প্রতিষ্ঠা করেন। এর পর থেকেই তিনি সকল মায়েদের মাঝে অদ্ভুত আচরণ খেয়াল করেন। যা তাকে বিস্মিত করে তোলে।

তিনি লক্ষ করে দেখলেন, গর্ভাবস্থার সময়ে এমনকি সন্তান জন্মদানের মুহূর্তেও অধিকাংশ মায়েরা গর্ভস্থ শিশুর লিঙ্গ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েন। পুত্র সন্তান হবে কিনা- এই ব্যাপার নিয়ে তাদের মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তা অসীম। ডা. রাখ জানান, সন্তান জন্মদানের কষ্ট অনেক মায়েরাই মুহূর্তের মাঝেই ভুলে যেতেন পুত্র সন্তান হবার আনন্দে। অন্যদিকে কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার ফলে তাদের কষ্ট যেন দ্বিগুণ বেড়ে যেত।

পুত্র সন্তান জন্ম নেওয়া যেখানে একটি পরিবারের খুশির সংবাদ হিসেবে বিবেচিত হতো, কন্যা সন্তানের জন্ম সেখানে অভিশাপ হিসেবে দেখা হতো। প্রায়শই দেখা যেত, কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার কথা শুনে অনেক আত্মীয়রা শিশুর মুখ না দেখেই চলে গিয়েছে।

এমনকি, হাসপাতালের বিল দেবার ক্ষেত্রেও নানান রকম সমস্যা তৈরি করত কন্যা সন্তান জন্ম নেওয়ার কারণে। এই সকল ঘটনা ও আচরণের কারণে ডা. রাখ মানসিকভাবে খুব কষ্ট পান। মনে মনে প্রতিজ্ঞা করেন এমন কিছু তিনি করবেন, যার ফলে খুব অল্প হলেও মানুষের চিন্তাধারা পরিবর্তন করা যায়। এইভাবেই ডা. রাখ-এর এমন চমৎকার ক্যাম্পেইনের সূচনা।

২০১২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি এমন অভিনব সিদ্ধান্ত নেন- কন্যা সন্তান জন্ম নিলে হাসপাতালের ডেলিà