এম ওমর ফারুক আজাদ
আলেম ও সাংবাদিক
ছোট পর্দার অভিনেতা মোশাররফ করিম। যে কোন চরিত্রে যুতসই নাটক করে কেড়েছেন দর্শক জনপ্রিয়তা। কিন্তু হঠাত করে তিনি হয়ে উঠলেন সমালোচিত।
চ্যানেল২৪ এ জাগো বাংলাদেশ নামের একটি লাইভ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন এ অভিনেতা। অনুষ্ঠানটির স্পন্সর করেছে স্টিল কোম্পানি বিএসআরএম।
এতে মোটিভেশন স্পিচ দিতে গিয়ে এক সময় মোশাররফ করিম ধর্ষণের কারণ নিয়ে আলোচনা করেন। আলোচনার এক পর্যায়ে তিনি যুক্তি পেশ করেন ধর্ষণের জন্য মানুষের মানসিকতাই দায়ী। পোশাক এতে একেবারেই দায়ী নয়।
তিনি বলেন, একজন নারী কি স্বাধীনভাবে তার পোশাকটিও পরতে পারবে না?
ধর্ষণের জন্য যদি পোশাকই দায়ী হয় তাহলে সাত বছরের শিশুটির ক্ষেত্রে আপনি কি জবাব দিবেন? যে নারীটা বোরকা পরেন তার ব্যাপারে কী যুক্তি দিবেন? অথচ তারাও ধর্ষিতা হচ্ছেন।
তিনি বলেন, ধর্ষণের জন্য মানুষের মানসিকতাই দায়ী তার পক্ষে তিনি ইমাম গাজালী রাহ. এর একটি উদ্বৃতি দিয়ে বলেন, মানুষের ভেতরে তেরোটি শত্রু রয়েছে। আর সর্বপ্রথম এগুলোর বিরুদ্ধে জিহাদের কথা বলা হয়েছে।
তিনি তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সু কৌশলে পর্দার বিপক্ষে অবস্থা নিয়েছেন। তাই তার এই আলোচনা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা ও সমালোচনা। তার অনেক ভক্তকে অনাস্থা প্রকাশ ও ভালোবাসা তুলে নেবার ঘোষণার মতো পোস্টও করতে দেখা গেছে।
অবশ্য তিনি বিষয়টি নিয়ে পরে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে ক্ষমা চেয়েছেন।
প্রদত্ত বক্তব্য নিয়ে সবাই মোশাররফ করিমের সমালোচনা করলেও আড়ালে রয়েছে গেছে কারা তার দ্বারা এসব বলিয়েছে ও অসংখ্য সেলিব্রিটি দিয়ে বলাচ্ছে।
অনুষ্ঠানের আয়োজক ছিলো জাগো বাংলাদেশ আর স্পন্সর করেছিলো স্টিল কোম্পানি BSRM।
একটা বিষয় আমাদের বুঝতে হবে গ্লোবালাইজেশনের যুগে বহুজাতিক কোম্পানিগুলো পন্যের ব্যবসার পাশাপাশি সংস্কৃতি ও মতবাদেরও সওদা করে। গ্লোবালাইজেশন এর প্রবক্তাদের দর্শন, সংস্কৃতি ও মতবাদ প্রচারে ব্রতি হলেই কেবল গ্লোবাল অবাধ বাণিজ্য তাদের জন্য উন্মুক্ত।
তাই তারা নাটক, সিনেমা, ক্রিড়া ও মডেলিং জগতে আগে কিছু মানুষ তৈরি করে। ক্রমান্বয়ে তাদের প্রমোট করে জনপ্রিয় করে তোলে। তারা ভক্তদের আস্থার এমন স্থানে নিয়ে যায় à