রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬ ।। ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৮ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
নারায়ণগঞ্জে পুলিশ-মাদক ব্যবসায়ীর গোলাগুলি, ৫ পুলিশসহ আহত ৮ শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে গুম-নির্যাতন মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ আজ প্রাথমিকে সংগীত-নৃত্যকলাকে বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ বাতিল চায় জমিয়ত নোয়াখালীতে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ২ ভাইয়ের মৃত্যু, আহত ১ আমাকে হারাতে শত শত কোটি ব্যয় করা হয়েছে: শায়খে চরমোনাই ১০ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সম্ভাবনা, নদীবন্দরে সতর্কতা ট্রাম্পের দাবি রোববার শান্তি-চুক্তি, ইরান বলছে ভিন্ন কথা আস-সুন্নাহ দাওয়াহ ইনস্টিটিউটের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুনর্মিলনী ভারতের সামাজিক সম্প্রীতি হুমকির মুখে: জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ শ্রেষ্ঠ স্বামী হিসেবে তিনি আমার কাছে অমর হয়ে থাকবেন

যে গ্রামে কুরবানি নিষিদ্ধ!

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আওয়ার ইসলাম: হিন্দুপ্রধান দেশ ভারতের অধিকাংশ রাজ্যে প্রকাশ্যে গো-হত্যা বা গরু জবাই করা যায় না। এই নিষেধাজ্ঞার কারণে দেশটির সিংহভাগ অঞ্চলে মুসলমানরা কুরবানির ঈদে ছাগল, ভেড়া, দুম্বা, মহিষ ও উট কুরবানি দিয়ে থাকে। তারা গরু কুরবানি ও জবাইয়ের কথা চিন্তাও করেন না।

তবে দেশটির উত্তর প্রদেশ রাজ্যের একটি  সন্বির নগরের মুসহারা গ্রামে মুসলমানরা কুরবানির ঈদে ছাগলও কুরবানি দিতে পারে না। বিগত দীর্ঘ ১০ বছর ধরে এই নিয়ম চালু রয়েছে ওই গ্রামে।

ভারতীয় একটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০০৭ সালে ভারতের উত্তর প্রদেশের সন্বির নগরের মুসহারা গ্রামে কবরস্থানের পাশে হোলি উৎসবের আগেরদিন দহন আয়োজন চলছিল। হোলিকা দহন অত্যন্ত ধুমধামের সঙ্গে পালন করা হয়। গাছের শুকনো ডাল বা কাঠসহ অন্যান্য দাহ্যবস্তু সংগ্রহ করে সু-উচ্চ একটি থাম বানিয়ে তাতে অগ্নিসংযোগ করে ‘হোলিকা দহন’ পালিত হয়। এর পরের দিন হয় রঙ খেলা তথা হোলি উৎসবের মূল পর্ব।

কিন্তু মুসলমানদের কবরস্থানের পাশে এমন আয়োজনে গ্রামের মুসলিম বাসিন্দারা তাতে আপত্তি জানায়। এমন উৎসবে মুসলমানদের বাধা দেয়ায় অসন্তুষ্ট হন হিন্দুরা। এক পর্যায় গিয়ে পরিস্থিতি ভয়ংকর রুপ নেয়। এই নিয়ে শুরু হওয়া যুক্তিতর্কের লড়াই শারীরিক লড়াইয়ে রূপ নিতে যাচ্ছিল।

স্থানীয় প্রশাসন এ সময় উত্তপ্ত পরিস্থিতি মোকাবেলায় এক ফয়সালা নিয়ে আসেন। উভয় পক্ষের নেতাদের ডেকে এক চুক্তিতে স্বাক্ষর করায়। সেই চুক্তি মোতাবেক স্থির হয়, কুরবানির ঈদে মুসলমানরা পশু জবাই করতে পারবে না আর হোলির সময়ে হিন্দুরা হোলিকা দহন বা হোলির দহন (চাঁচর) উৎসব করতে পারবে না।

দু’পক্ষের নেতারা চুক্তিতে স্বাক্ষর করার পর থেকে এখন পর্যন্ত এটাই নিয়ম হিসেবে চলে আসছে মুসহারা গ্রামে। স্থানীয় ধরম সিংহবা পুলিশ স্টেশনের ইনচার্জ শিব বরন যাদব এমনটাই জানান।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত কোরবানির ঈদের সময়ে এই গ্রামের মুসলমানদের ছাগলগুলো জড়ো করে জেলা ভেটেরিনারি ডিপার্টমেন্টে জমা করা হয়। ঈদ-উৎসবের ৩ দিন পার হয়ে যাবার পরে যার যার ছাগল ফিরে।

স্থানীয় এসপি শৈলেশ কুমার পান্ডে জানান, ওই গ্রামে কুরবানির ঈদের কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। আর এই প্রথা গত ১০ দশক ধরে জারি আছে সেখানে। হিন্দুদের হোলি পালনের রীতি-রেওয়াজের অংশ দহন-এর ওপরও নিষেধাজ্ঞা আছে একইভাবে।

তার মতে, এতে লোকজন বিনা ‘পেরেশানিতে’ যার যার উৎসব পালন করে যাচ্ছে। জানা যায়, ভারতের ২৯টি রাজ্যের মধ্যে ২২টিতে প্রকাশ্যে গরু জবাই নিষিদ্ধ।

অারও পড়ুন: যারা কুরবানি করবেন, তাদের জন্য বিশেষ আমল

আরএম/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ