জহির উদ্দিন বাবর ।।
একজন রাজনীতিবিদ তার দলের নেতাকর্মীদের কাছে প্রিয় হবেন এটা খুবই স্বাভাবিক। তবে কোনো কোনো দলে এমন নেতাও আছেন যারা শুধু দলীয় গণ্ডিতেই নয়, সব দল ও মতের লোকের কাছে প্রিয়। এমনই একজন নেতা ছিলেন অধ্যাপক মাওলানা এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শীর্ষ পর্যায়ের নেতা ছিলেন। কিন্তু সব দল, মত ও পথের মানুষের কাছে যে তিনি কতটা প্রিয় ছিলেন সেটার কিছুটা প্রমাণ পাওয়া গেল তার চলে যাওয়ার পর।
শুক্রবার মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন চলে গেছেন না ফেরার দেশে। তার এ চলে যাওয়ার খবরে শুধু নিজ দল নয়, সব দল ও মতের মানুষদেরই শোকাহত হতে দেখা গেছে। শুধু সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেই নয়, এর বাইরেও অনেকে নীরবে অশ্রু ফেলতে দেখেছি। সবার একই কথা, একজন ভালো মানুষ ছিলেন। সজ্জন ও পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ ছিলেন। সবার সঙ্গে তার আচরণ ছিল অমায়িক।
তার অসুস্থতার খবর শোনা যাচ্ছিল অনেক দিন ধরেই। দেশের বাইরে গিয়ে চিকিৎসাও করিয়েছেন দীর্ঘদিন। দেশে ফিরে আসার পর তার বিধ্বস্ত শরীরের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এটা দেখেই আঁচ করা যাচ্ছিল রাজপথের একজন লড়াকু সৈনিককে কীভাবে মারণব্যাধি ক্যানসার কাবু করে ফেলেছে। তার এই চলে যাওয়ায় শুধু নিজ দল নয়, গোটা ইসলামি অঙ্গনই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ত্রিশ বছর ধরে ইসলামি আন্দোলন-সংগ্রাম ও রাজপথের লড়াইয়ে সামনের সারিতে থাকা একজন নেতা ছিলেন এটিএম হেমায়েত উদ্দিন। নিজ দল কিংবা সর্বদলীয় যেকোনো প্রোগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে দেখা গেছে তাকে। যেকোনো ইস্যুতে যারা সব ভয়-ভীতি উপেক্ষা করে রাজপথে থেকেছেন তাদের একজন মাওলানা হেমায়েত উদ্দিন।
চরমোনাই পীর সাহেবের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। দীর্ঘদিন তিনি ঢাকা মহানগরীর সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই রাজধানীকেন্দ্রিক সব আন্দোলন-সংগ্রামে তাকে সামনের সারিতে দেখেছি। তার কণ্ঠস্বর ছিল খুবই জোরালো। কথা বলতেন যুক্তি ও তথ্য দিয়ে। তোয়াক্কা করতেন না কোনো শক্তির। শুধু রাজপথেই নয়, ঘরোয়া প্রোগ্রাম কিংবা সভা-সেমিনারেও তাঁকে দেখেছি সারগর্ভ আলোচনা করতে।
ইসলামি রাজনীতির জন্য নিবেদিতপ্রাণ এই মানুষটিকে আর পল্টন, à¦