মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮


আকাশছোঁয়া ৫ মিনার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আব্দুল্লাহ আফফান ।।

মিনার হল মসজিদের সাথে যুক্ত স্থাপত্য। যা মসজিদের সৌন্দর্য  বৃদ্ধি করে। মিনারের শীর্ষভাগ মসজিদের থেকে উঁচু হয়। এর শীর্ষভাগ সূচালো বা পেয়াজাকৃতির হয়ে থাকে। আজানের আওয়াজ দূরে পৌছানোর জন্য মিনারের ব্যবহার হয়।

ব্যবহার: মূলত আজানের শব্দ দূরে পৌঁছানোর জন্য মিনারের ব্যবহার শুরু হয়। দিনে পাঁচবার নামাজের সময় সময় আজান দেয়া হয়। আধুনিক যুগে মাইকের সাহায্যে আজান দেয়া হয়। তবে এরপরও মসজিদের স্থাপত্যে মিনারের ব্যবহার রয়েছে। মিনারের শীর্ষে মাইক যুক্ত করে শব্দ দূরে পৌঁছানো যায়।

ইতিহাস: প্রথমদিকে মদিনায় মিনারের ব্যবহার ছিল না। সেসময় ছাদের ওপর থেকে আজান দেয়া হত। মুহাম্মদ সা. এর মৃত্যুর অনেক বছর পর মিনারের ব্যবহার শুরু হয়।

তিউনিসিয়ার উকবা মসজিদের বড় মিনারটি পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন টিকে থাকা মিনার। ৮৩৬ সালে এর নির্মাণ সম্পন্ন হয়। এছাড়া পরবর্তী অনেক মিনারের জন্য এই মিনার মডেল হিসেবে কাজ করেছে।

সর্বোচ্চ মিনারটি মরক্কোর কাসাব্লাংকায় দ্বিতীয় হাসান মসজিদে অবস্থিত। এর উচ্চতা ২১০ মিটার (৬৮৯ ফুট)। ইট নির্মিত সর্বোচ্চ মিনার হল ভারতেরদিল্লির কুতুব মিনার।

নির্মাণ: মিনারে মূলত তিনটি অংশ থাকে, ভিত্তি, উপরে উত্থিত অংশ ও গ্যালারি। মাটি খুড়ে শক্ত ভিত্তি নির্মাণ করতে হয়। মিনার বর্গাকার, বেলনাকার বা বহুভুজাকারও হতে পারে। উপরের অংশ জুড়ে পেঁচানো সিড়ি কাঠামোকে অতিরিক্ত মজবুত হতে সাহায্য করে।

শীর্ষভাগে গ্যালারি থেকে মুয়াজ্জিন আজান দেন। মিনার বিভিন্নভাবে অলংকরণ করার রীতি রয়েছে।

গ্র্যান্ড মস্ক হাসান: গ্রান্ড মস্ক হাসান বা দ্বিতীয় হাসান মসজিদের অনেকগুলো বিশেষত্ব রয়েছে। এটি বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু মিনার বিশিষ্ট মসজিদ। বিশ্বের আলোচিত সুন্দর এই মসজিদের তিন ভাগের এক ভাগ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অবস্থিত।

মরক্কোর বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান মসজিদটি তৈরি করেছেন। দূরের কোনো জাহাজ থেকে দেখলে মনে হয়, ঢেউয়ের বুকে যেন মসজিদটি দুলছে আর মুসল্লিরা যেন নামাজ পড়ছেন পানির ওপর।

মহাসাগরে ভাসমান এ মসজিদটি মরক্কোসহ আফ্রিকার সবচেয়ে বড় মসজিদ। মসজিদটির ভেতরে ২৫ হাজার এবং ভেতরে-বাইরে মিলিয়ে একসঙ্গে লক্ষাধিক মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন।

এই মসজিদে নারীদের জন্য রয়েছে নামাজ আদায়ের আলাদা ব্যবস্থা। ঝড়-বৃষ্টির সময় ছাড়া প্রাকৃতিক আলো ও মুক্ত বাতাস প্রবেশ করাতে মসজিদটির ছাদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে যায় তিন মিনিট পরপর। ৩৩ ফুট উচ্চতার সামুদ্রিক ঢেউ সামলে নেওয়ার ব্যবস্থা আছে মসজিদটিতে।

মসজিদটির ভেতর থেকে সমুদ্রের গর্জন শোনা যায় না। ২২ দশমিক ২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এ মসজ