মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :

ওয়াজ: করার কথা আর না করার কথা

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুসা আল হাফিজ ।।

সারা শহর কাঁপছে শব্দের তুফানে। চিৎকার। আল্লামা তাকি উসমানীর ভাষায় 'লাউড স্পীকারের অত্যাচার।' উপশহর আবাসিক এরিয়া। ডান দিক থেকে সুরের নহবত বাজছে। সামনে এক বক্তা ট্রাম্পের মুণ্ডপাত করছেন। নিকট থেকে, অনেক দূর থেকে ভেসে আসছে আওয়াজ, আওয়াজ আর আওয়াজ। এসব আয়োজন, আশা করতে চাই ইসলামের জন্য। দীনি প্রেরণা কাজ করছে আয়োজনের গোড়ায়!

কিন্তু বন্ধুগণ! মহৎ কাজ খারাপ পদ্ধতিতে হয় না। শব্দ দিয়ে জুলুম করাও জুলুম। ওয়াজে যারা আসেন, তাদের শ্রবনে যথেষ্ট হয়, সেই মাত্রায় রাখুন শব্দকে। শহরের রোগী, ঘুমকাতর, কাজমগ্ন, অন্যমনস্ক মানুষগুলোকে জোর করে উচ্চশব্দের দ্বারা বিব্রত করার অনুমতি শরিয়ত আপনাকে দেয় না।

ওয়াজকে যেভাবে শীতকালীন বিনোদনের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তাতে আমি ভীত, ভীত খুব। দশ বছর আগে যা অকল্পনীয় ছিলো, তা এখন প্রথায় পরিণত হয়েছে। যেনতেন প্রকারে ওয়াজ মাহফিলের সংখ্যা বাড়াকেই যদি দ্বীনী চেতনার প্রকাশ মনে করেন, তাহলে এ হবে আত্মঘাতি। নসিহত যখন তার আদি ও অকৃত্রিম বৈশিষ্ট্য হারায়, তখন সে আর দ্বীনী চেতনার প্রসার ঘটায় না। দ্বীনের জন্য সে বিপজ্জনক রুপও গ্রহণ করে।

বর্তমান ওয়াজে আমি মোঘল আমলের পতনের সময়ের প্রতিযোগিতামূলক ওয়াজপ্রথার প্রতিচ্ছবি দেখতে পাচ্ছি। তখন মানুষের কাছে বিনোদনের মাধ্যম হয়ে উঠেছিলো ঘোড় দৌড়, কবিগান, মল্লযুদ্ধ, সেমার মাহফিল, বিতর্কসভা এবং গলাবাজির ওয়াজ। মানুষ এগুলো নিয়েই ব্যস্ত ছিলো। কার চেয়ে বেশি আয়োজন করে কে দেখাবে, এ নিয়ে হতো প্রতিযোগিতা। শিয়া ও বেদআতিরা এ সবের মধ্যে মজা পেতো বেশি।

ওয়াজ মাহফিলগুলোতে এক গোষ্ঠী অপর গোষ্ঠীকে গালাগালি করতেন। বিবাদের কাদা ছুড়াছুঁড়ি করতেন। অধিক মাত্রায় গলাবাজির মধ্যেই ছিলো বীরত্ব। এক এলাকা আরেক এলাকার সাথে বৃহৎ আয়োজনের প্রতিযোগিতা করতো! অপর দিকে পর্তুগিজ আর মারাঠারা গিলে নিচ্ছিলো দেশ।

সেকালের সচেতন কিন্তু হাতেগোণা আলেমগণ দীনের নামে চলমান এ সব প্রথার সমালোচনা করেন। আল্লামা আবদুল হক দেহলভীর সতর্কবাণীও কেউই কানে নিচ্ছিলো না। তিনি বলেছিলেন, দীনকে বিনোদন বানিয়ো না। স্বেচ্ছাচার ও টাকা রোজগারের হাতিয়ার বানিয়ো না। ওয়াজ, ফতুয়া ও দ্বীনী নেতৃত্বকে তার আহালদের হাতে তুলে দাও। কিন্তু কে শোনে কার কথা?

ফল কী দাঁড়ালো? মারাঠাদের হাতে উজাড় হলো হাজারো জনপদ। শত শত দীনী মারকাজ। দীনকে দীনের ভারসাম্যের জায়গায় রাখতে হবে। যখন তাকে প্রত্যেকেই লাওয়ারিà