ফরহাদ খান নাঈম।।
ইসলাম মুসলিমদের মধ্যে উপকারী ও ফলপ্রসু আলোচনাকে উৎসাহিত করে। এটি এমন একটি পরিবেশের ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করে, যেখানে লোকেরা একসাথে বসে তাদের মেধা খাটিয়ে সমাজের সামগ্রিক মঙ্গল নিয়ে আলোচনা করবে। সুতরাং ইসলাম অপরের জন্য অমঙ্গলজনক কোনো আলোচনা কিংবা সমালোচনাকে প্রশ্রয় দেয় না। আর ভুল তথ্য প্রচার করা এরকম আলোচনা-সমালোচনারই একটি অংশ।
ভুল তথ্য বা মিথ্যা সংবাদ প্রচারকে ইসলাম সর্বদাই ঘৃণার চোখে দেখে। যারা কুআন-হাদীস অধ্যয়ন করেন, তারা সহজেই বুঝতে পারবেন যে, ভুল তথ্য প্রচার ইসলামে কতোটা ঘৃণিত। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কুরআনে বলেন, হে ইমানদারগণ! যদি কোনো ফাসিক (মিথ্যুক বা দুষ্ট প্রকৃতির লোক) তোমাদের কাছে কোনো খবর নিয়ে আসে, তোমরা তা যাচাই করো। অন্যথায় হতে পারে, তোমরা অজ্ঞতাবশত কোনো লোকের ক্ষতি সাধন করবে। এবং পরবর্তীতে তোমাদের কৃতকর্মের জন্য তোমাদেরকে লজ্জিত হতে হবে। আল-কুরআন ৪৯:৬।
উপরোক্ত আয়াতে আল্লাহ তায়ালা মিথ্যা সংবাদ প্রচারের সমস্যা ও এর সমাধান উল্লেখ করেছেন। কোনো ব্যক্তি কোনো সংবাদ নিয়ে আসলে, তা বিশ^াস করার আগে সেই ব্যক্তির স্বভাব বা প্রকৃতি যাচাই করতে হবে, দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিটি মিথ্যাবাদী কিনা। কেননা মিথ্যাই হচ্ছে সকল গুজবের মূল। তাই এহেন কোনো ব্যক্তির কাছ থেকে কোনো সংবাদ আসলে তা নিজে বিশ^াস করা ও অন্যের কাছে তা প্রচার করার পূর্বে তা যাচাই করতে হবে। কারণ, যাচাই না করে কোনো মিথ্যুকের আনীত কোনো সংবাদ বিশ^াস করে তদনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তা ভবিষ্যতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি/ব্যক্তিবর্গের জন্য পরিতাপের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।
অনেকে ভুল তথ্য প্রচার করাকে মিথ্যা মনে করে না; অনেকক্ষেত্রে তারা এটিকে নিছক হাসি-ঠাট্টা বলে উড়িয়ে দেয়। আর তাই তারা ভুল তথ্য প্রচারকে নিজেদের জন্য অনুমতিযোগ্য বলে ধরে নেয়। অথচ নবীজী সা. বলেছেন, আমি কি তোমাদেরকে বলবো যে, কোনটি সবচেয়ে লজ্জাজনক মিথ্যা? তা হলো, লোকদের মাঝে ভুল তথ্য প্রচার করা। মুসলিম।
সুতরাং ভুল তথ্য প্রচার করা হালকা কিছু নয়; বরং আল্লাহর রাসুল সা. এটিকে সবচেয়ে লজ্জাজনক মিথ্যা বলে আখ্যা দিয়েছেন। তদুপরি যারা ভুল তথ্য প্রচার করে, তারা এটিকে কোনো মিথ্যাই মনে করে না; বরং তারা সাহসের সাথে এটি প্রচার করে থাকে