বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ।। ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৫ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
হিল্লার নামে ‘পাতানো বিয়ে’ কবিরা গুনাহ: মাওলানা আজহারী বৃহৎ রামমূর্তি নির্মাণ নিয়ে উদ্বেগ, দ্রুত অপসারণ চান পীর সাহেব মধুপুর আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার চায় ইসলামী আন্দোলন প্রাথমিক শিক্ষায় নাচ-গান ও নাটক অন্তর্ভুক্তির প্রতিবাদে মহিলা মজলিসের সমাবেশ ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টে দানে মিলবে কর ছাড় ভারতের পুশইন অপচেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থি: খেলাফত মজলিস বাজেটে ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ‘সুখবর’ বিশ্বকাপ উন্মাদনা: আবেগের উল্লাসে আদর্শের বিসর্জন প্রস্তাবিত বাজেট: দাম কমবে ৬০ পণ্যের

জালেমের ভয়াবহ পরিণতি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

মুফতি মাওলানা হাফেজ আহসান জামিল।।

জুলুম একটি জঘন্যতম গুনাহ। হাশরের ময়দানে জালেমরা একাকিত্ব বোধ করবে। মহান আল্লাহ বলেন, ما للظالمين من حميم ولا شفيع يطاع. অর্থ: পরকালে জালেমরা কোনো বন্ধু খুজে পাবে না তাদের কোনো সাহায্যকারী হবে না।

অন্যত্র মহান আল্লাহ বলেন, انما السبيل على الذين يظلمون الناس ويبغون في الارض بغير الحق اولئك لهم عذاب اليم

অর্থ: যারা অন্যের উপর তথা পৃথিবীবাসীর উপর জুলুম করে এবং পৃথিবীতে অবৈধভাবে বিদ্রোহ করে বেড়ায় কেবল তাদের বিরুদ্ধেই ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। আর তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। (সূরা আশ শূরা)

রাসূল সা. বলেছেন, আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত দরিদ্র হচ্ছে সেই ব্যক্তি যে কিয়ামতের দিন প্রচুর নামায, রোযা, হজ্জ ও যাকাত নিয়ে আসবে কিন্তু সে কাওকে গালি দিয়ে আসবে, প্রহার করে আসবে বা কারো সম্পদ আত্মসাৎ করে আসবে। এরপর কর্ম দিয়ে দেয়া হবে। যখন পূন্য কর্ম নিঃশেষ হয়ে যাবে তখন মজলুমদের পাপ কাজ তার ঘারে চাপিয়ে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।

একবার হযরত জাবের রা. রাসূল সা. কে বললেন হে রাসূল সা. আমার মদের ব্যবসা ছিল সে ব্যবসা থেকে আমার বেশ কিছু নগদ অর্থ রয়েছে। আমি যদি তা দিয়ে আল্লাহর কোন ইবাদত বা পূন্যের কাজ করি তাহলে এতে কি আমার উপকার হবে? রাসূল সা. বললেন, তুমি যদি তা দিয়ে হজ্জ, জিহাদ বা সদকা কর তাহলে তা আল্লাহর কাছে একটা মাছির ডানার সমানও মর্যাদা পাবে না। আল্লাহ পবিত্র সম্পদ ব্যতিত কোনো কিছুই গ্রহণ করেন না।

তখন আল্লাহ এ বক্তব্যের সমর্থনে নাযিল করেন, قل لا يستوي الخبيث والطيب ولو اعجبك كثره الخبيث

অর্থ: হে নবী! তুমি বল, পবিত্র ও অপবিত্র বস্তু সমান নয়। যদিও অপবিত্র বস্তুর আধিক্য তোমাদেরকে মুগ্ধ করে।

ইমাম আতা ও হাসান বসরী র. বলেন, পবিত্র ও অপবিত্র দ্বারা যথাক্রমে হালাল ও হারাম কে বোঝানো হয়েছে। যারা জোরপূর্বক চাঁদা আদায় করে তারা নিজেরাও জুলুমবাজ এবং তারা জুলুমবাজদের সবচেয়ে বড় সাহায্যকারীও। চাঁদাবাজরা যে চাঁদা আদায় করে তা যেমন তাদের প্রাপ্য নয় তেমনি যে পথে তা ব্যয় করে তাও বৈধ পথ নয়। এজন্য রাসূল সা. বলেছেন, অবৈধ চাঁদা আদায়কারী জান্নাতে যাবে না। (আবু দাউদ)

এর কারন এটাই, জোরপূর্বক চাঁদা আল্লাহর বান্দাদের উপর জুলুম ও শোষণ চালায়। তাদের কষ্টে উপার্জিত অর্থ কেড়ে নেয়। এ ধরনের লোকেরা কিয়ামতের দিন মাযলুমদের প্রাপ্য দিতে পারবে না। যদি তাদের কবুলকৃত কোন সৎকাজ থাকে তাহলে তা দিয়ে দিতে হবে। নতুবা মযলুমের পাপের বোঝা মাথায় নিয়ে জাহান্নামে প্রবেশ করতে হবে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে জোরপূর্বক চাঁদা আদায়, মানুষের উপর অন্যায়ভাবে জুলুম ইত্যাদি করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দিন। আমীন।

লেখক: প্রভাষক, আইয়ূব হেনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট, খতিব, আইয়ূব হেনা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট জামে মসজিদ কিশোরগঞ্জ।

-এএ


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ