বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮


বর্তমান সময়ে প্রয়োজন নতুন এক শিক্ষাব্যবস্থা: মুফতি তাকি উসমানি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

(দারুল উলূম করাচী’র অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ‘হেরা ফাউন্ডেশন স্কুল’-এর হিফযুল কুরআন অনুষ্ঠানে হযরত শাইখুল ইসলাম মুফতী মুহাম্মাদ তাকী উসমানী দামাত বারাকাতুহুম গুরুত্বপূর্ণ এ আলোচনাটি পেশ করেন। হযরত তার এ আলোচনায় ইতিহাস এবং বাস্তবতার নিরিখে অতীত এবং বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থার তুলনামূলক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন এবং নিজস্ব অভিজ্ঞতা ও দূরদর্শিতা এবং আকাবির বুযুর্গানে দ্বীনের রাহনুমায়ীর আলোকে বাস্তবমুখী নির্দেশনা প্রদান করেন। মুসলিম উম্মাহ্র চিন্তাগত ও আদর্শগত পতন ও বিভাজন থেকে উত্তরণের ক্ষেত্রে হযরতের গুরুত্বপূর্ণ এ আলোচনাটি ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে ইনশাআল্লাহ।)

হামদ ও ছানার পর, সময় কম। তাই সংক্ষিপ্তভাবে কিছু কথা আরজ করছি, আব্বাজান হযরত মাওলানা মুফতী মুহাম্মাদ শফী রাহ.-এর একটি কথা আমি প্রায়ই বলে থাকি। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পূর্বে ভারতবর্ষে (মুসলিমদের জন্য) বিশেষ তিনটি শিক্ষাধারা প্রচলিত ছিল। ক. দারুল উলূম দেওবন্দভিত্তিক শিক্ষাধারা। খ. আলীগড় মুসলিম ইউনিভার্সিটি কেন্দ্রিক পড়াশোনা গ. দারুল উলূম নদওয়াতুল উলামার সিলেবাস কেন্দ্রিক শিক্ষাধারা।

যথাসম্ভব ১৯৫০ সনে আব্বাজান রাহ. কোনো সাধারণ এক সমাবেশে বক্তৃতা করতে গিয়ে বলেছিলেন ‘পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর আমাদের আলীগড়ের শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজন নেই, নদওয়ারও প্রয়োজন নেই; এমনকি প্রয়োজন নেই দারুল উলূম দেওবন্দের শিক্ষাব্যবস্থারও; বরং আমাদের প্রয়োজন একটি তৃতীয় শিক্ষাব্যবস্থা, যা আসলাফ ও পূর্বসূরীদের ইতিহাসের ধারায় আমাদেরকে সম্পৃক্ত করবে।’

এমন কথা শুনে অনেকেই হয়ত ভ্রু কুঁচকে ফেলবেন। দারুল উলূম দেওবন্দের নুন খাওয়া এক সুবোধ সন্তান, দারুল উলূম দেওবন্দের আস্থাভাজন প্রধান মুফতী কীভাবে এমন কথা বলতে পারেন যে, পাকিস্তানে আমাদের জন্য দেওবন্দের শিক্ষাধারারও প্রয়োজন নেই। আমাদের প্রয়োজন একটি নতুন শিক্ষাব্যবস্থার!

আব্বাজান রাহ.-এর এ বক্তব্যটি অত্যন্ত সূ² এবং দূরদর্শিতাপূর্ণ। বিষয়টি না বোঝার দরুন আমাদের এখানে বড় ধরনের ভুল বোঝাবুঝি হয়ে গিয়েছে। ভারতবর্ষে যে তিনটি ধারা প্রচলিত ছিল তা স্বাভাবিক কোনো ধারা ছিল না; বরং তা ছিল বৃটিশপ্রবর্তিত ধারার প্রতিফল এবং তাদের চক্রান্তের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ বিকল্প মাধ্যম অবলম্বন মাত্র। নতুবা ভারতবর্ষে বৃটিশ সাম্রাজ্যবাদীদের প্রবেশে