বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮


শাইখুল কোরআন আল্লামা কারী বেলায়েত হুসাইন: আমার গবেষণা কর্মের পথপ্রদর্শক

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

সাইয়েদ আহমাদ সাঈদ।।

১৯৭৪ এর জানুয়ারী। এক সকাল বেলা। সুর্য উঠছে উঠছে। ছিলাম ঘুমে। শীতকাল। আম্মু জাগিয়ে তুললেন। বললেন; ‘তোমার আব্বু ফজরের আগেই মাদরাসায় গিয়েছেন। ঘুম থেকে উঠে তোমাকে মাদরাসায় যেতে বলেছেন।’ উঠলাম। হাত মুখ ধুলাম। ফজর নামায পড়লাম। আমার চেয়ে বয়সে দু’ বছরের বড় বোনসহ গেলাম। মাদরাসায় গিয়ে দেখি এক শুভ্র শ্মশ্রুধারী সুদর্শন ফর্সা এক বুজুর্গ শিশু শ্রেণীতে পড়াচ্ছেন। যাকে আগে কখনো দেখিনি। ভয় পেয়ে গেলাম। আব্বু আমাকে দেখে হাত ধরে নিয়ে গেলেন তাঁর কাছে। আমার জন্য দোআ চাইলেন। তিনিও দোআ করলেন। মাথায় হাত বুলিয়ে দিলেন।

এর আগে আব্বাজান রহ. এর কাছে নুরানি কায়েদা পড়েছিলাম। যাতে ছিলো আলিফ, বা, তা, সা। তিনি পড়াচ্ছেন, আলিফ, মীম, তোয়া, জোয়া। কিছুটা অবাক হলাম। পড়াচ্ছেন ব্ল্যাক বোর্ডে। আব্বাজান রহ. আগে থেকেই চকশ্লেট প্রস্তুত রেখেছিলেন। আমাদের হাতেও চকশ্লেট দিলেন। শাইখ আমাদেরকেও লিখতে বললেন। আমরা অনেক বার তা লেখলাম। দেখালাম। তিনি বাহবা দিলেন। জাযাকাল্লাহ বলে আরো সুন্দর করে লিখতে অনুপ্রেরণা দিলেন।

সবক শেষে তাঁর পরিচয় আব্বাজান রহ.কে জিজ্ঞাসা করার ইচ্ছা ছিলো। ভয়ে তা পারলাম না। আব্বাজান রহ. ছিলেন আল্লাহওয়ালা বুজর্গ আলেম। মাদরাসার মুহতামিম। ছোট বড় সকলেই তাকে ভয় করতো। তাই সব সময় তাঁর ভয় অন্তরে বিদ্যমান থাকতো। এ কারণেই পরিচয় জানার সাহস আর হলো না।

সকাল সাতটা থেকে সাড়ে আটটা পর্যন্ত সবক হতো। তারপর বাড়ি গিয়ে নাস্তা করা হতো। এভাবেই পার হলো দশ-বারো দিন। একদিন সবকে এসে শাইখকে দেখলাম না। অন্য আরেকজন পড়াচ্ছেন। অবুঝ বয়সেও শিক্ষক বাছাইয়ের বদ অভ্যাস ছিলো। যার তার কাছে পড়তে রাজি হতাম না। হযরতকে না দেখে মন খারাপ হয়ে গেলো। আব্বাজান রহ. কেও কিছু বলতে সাহস পাচ্ছিলাম না। ছোটদের অভিব্যক্তি প্রকাশের মাধ্যমই হলো কান্না। তাই কাঁদতে লাগলাম। আব্বাজান রহ. কান্নার কারণ বুঝতে পারলেন না। বুবুকে জিজ্ঞেস করলেন। বুবু বললো; ‘নতুন শিক্ষক হওয়াতে তার কাছে খারাপ লাগছে।’ আব্বাজান রহ. বললেন; ‘ঠিক আছে। হযরতকে পুনরায় নিয়ে আসার চেষ্টা করবো।’

ছোট্ট মনে শাইখের পরিচয় জানার প্রচন্ড আগ্রহ ছিলো। ভেবেছিলাম আম্মাজান রহ.কে জিজ্ঞেস করবো। কিন্তু কেন যে করা হলো না তা এখন আর মনে নেই। তারপরেও যেদিন তাঁকে