বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ ।। ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৫ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
ইরানে ফের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের, বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণ জাতির আকাঙ্ক্ষা-প্রত্যাশা পূরণে এবারের বাজেট: অর্থমন্ত্রী ওমান উপকূলে ভারতীয় জাহাজে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিখোঁজ ৩ দুপুরের মধ্যে ৭ জেলায় ৬০ কিমি বেগে ঝড়ের শঙ্কা তুচ্ছ ঘটনায় রণক্ষেত্র ভৈরব, ওসিসহ আহত অর্ধশতাধিক বানিয়াচংয়ে ইসলামী সংগ্রাম পরিষদের ৫১ সদস্যের কমিটি গঠন জৈন্তাপুর উপজেলা জমিয়তের সভাপতির ইন্তেকাল, কেন্দ্রীয় কমিটির শোক ‘আদর্শবান ও প্রশিক্ষিত কর্মীরাই একটি সংগঠনের প্রকৃত শক্তি’ শুক্রবার মসজিদে হারাম ও মসজিদে নববীতে খুতবা দেবেন যে দুই শায়খ বাংলাদেশের হজ ব্যবস্থাপনায় সৌদি হজমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা

লোক দেখানো নামাজের বিরক্তি

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

আ.স.ম আল আমিন

মহল্লার ইমাম সাহেব আতিকুর রহমান, তার দুইজন ছেলে রয়েছে নামাজে ফাঁকিবাজ। সালমান- সাফওয়ান তারা কোন একদিন ফজরের নামাজে উঠতে দেরি করে ফেলল।

হঠাৎ তার বাবা মসজিদ থেকে বাড়ী ফিরল, তার বাবার আওয়াজ শুনে তারা দৌড়ে নামাজে দাড়ালো। তাদের বাবা তাদেরকে বুঝে ফেলল তারা আমাকে দেখানোর জন্য নামাজ পড়ছে।

দাঁড়িয়ে তাদের দিকে তাকিয়ে রইলো, দুই ভাই মনে মনে ভাবতেছে যায়না কেন? মনে আজ বাবা আমাদের ভণ্ডামি বুঝে ফেলল। সালামের পর বাবা তাদের কাছে আসলো এবং বলল তোমরা দু'জন কেমন আছো? মনে হয় আজ নামাজ অনেক দেরি করে ফেলছ, তারা একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে।

বাবা তাদেরকে জিজ্ঞেস করলো, তোমরা কি জানো? কারা আল্লাহ তায়া’লা কে ধোঁকা দেয়, একথা শুনে তাদের অবস্থা আরো খারাপ, তারা উত্তরে বলল না, তাহলে শুনে নেও পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, এই মুনাফিকরা আল্লাহর সাথে ধোঁকাবাজি করছে। অথচ আল্লাহই তাদেরকে ধোঁকার মধ্যে ফেলে রেখে দিয়েছেন।

তারা যখন নামাযের জন্য ওঠে, আড়মোড়া ভাঙতে ভাঙতে শৈথিল্য সহকারে নিছক লোক দেখাবার জন্য ওঠে এবং আল্লাহকে খুব কমই স্মরণ করে। ( আন - নিসা ১৪২)তারা দুই ভাই মনে মনে বলতেছে সম্পুর্ন কথাতো আমাদের সাথে মিলে গেছে, তারা মুচকি হেসে বাবাকে জিজ্ঞেস করলো।

বাবা তাহলে মুনাফিকরা মুমিন না কাফের তারা দুই দলের কোন দলের অন্তর্ভুক্ত?। তাও শুনে নাও পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, কুফর ও ঈমানের মাঝে দোদুল্যমান অবস্থায় থাকে, না পুরোপুরি এদিকে, না পুরোপুরি ওদিকে। যাকে আল্লাহ‌ পথভ্রষ্ট করে দিয়েছেন তার জন্য তুমি কোন পথ পেতে পারো না।( আন - নিসা ১৪৩)

রাসুল সা. বলেছেন, দেরীতে আদায়কৃত নামাজ হলো মুনাফিকের নামাজ। মুনাফিক আসরের নামাজের অপেক্ষায় বসে বসে দেরি করতে থাকে।

অবশেষে যখন সূর্য ডুবে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং শয়তানের দুই শিংয়ের মাঝখানে অথবা দুই শিংয়ের উপরে চলে আসে, তখন সে নামাজে দাড়িয়ে চারবার ঠোক মারে।

ঐ নামাজে সে আল্লাহকে খুব কমই স্বরন করে থাকে। (আবু দাউদ) বাবার বয়ানের পর দুই ভাই বলে উঠলো, আপনি যে বয়ান করেছেন তা আমাদের সাথে মিলে গিয়েছে।

লোক দেখানো সাালাত খুবই বিরক্তিকর যা আমরা দুইজন আজ আপনার বয়ান থেকে বুজতে সক্ষম হয়েছি। এখন থেকে আমরা দুই ভাই বিনয়ের সাথে আল্লাহ তায়ালার সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য নামাজ আদায় করবো।

লেখাক : শিক্ষার্থী, মা'হাদুল ইকতিসাদ ওয়াল ফিকহীল ইসলামী ঢাকা

-এটি


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ