কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে অনুষ্ঠিত হয়েছে দাওয়াহ ক্যাম্পেইন-২০২৬। সমাজে নৈতিকতা ও ইসলামী মূল্যবোধের আলো ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয় নিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই ব্যতিক্রমী ক্যাম্পেইন। আয়োজকদের দাবি, মানুষের হৃদয়ে ইসলামের সৌন্দর্য ও নৈতিকতার আলো পৌঁছে দেওয়াই ছিল এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
শুক্রবার থেকে রোববার (২৪-২৬ জুলাই) কুমিল্লা নাঙ্গলকোটের স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘খিদমাতুল ইসলাম পরিষদ’-এর উদ্যোগে, সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতি বুরহানুদ্দীন বিন সাদের সঞ্চালনায় আয়োজিত এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদ, স্কুল-কলেজ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্রের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়।
আয়োজকরা জানান, দাওয়াহ ক্যাম্পেইনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল শিশুদের হাতে ‘ইসলাম: ভালো কিছু করি’ বইটি উপহার হিসেবে তুলে দেওয়া। আগামী দিনের সমাজ ও উম্মাহর কর্ণধার হিসেবে শিশুদের নৈতিক ও ইসলামী মূল্যবোধে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই নেওয়া হয় এ উদ্যোগ।
এ ছাড়া ক্যাম্পেইনের গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কর্মসূচি ছিল ‘মসজিদ মিশন’। এ কর্মসূচির মাধ্যমে এলাকার গণ্যমান্য উলামায়ে কেরাম, ইমাম-খতিব, শিক্ষাবিদ, সমাজের প্রতিনিধিত্বশীল ব্যক্তিবর্গ ও সচেতন নাগরিকদের হাতে ‘মসজিদ মিশন’ বইটি তুলে দেওয়া হয়।
বইটিতে মসজিদকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে একটি পরিকল্পিত, সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর দাওয়াতি কার্যক্রম গড়ে তোলার লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে।
এ ছাড়া দাওয়াহ ক্যাম্পেইনের অংশ হিসেবে উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবদের কাছেও সাধারণ মুসল্লিদের জন্য ‘ইসলাম: ভালো কিছু করি’ বইটি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ইসলামী মূল্যবোধ, নৈতিকতা ও উত্তম চরিত্রে গড়ে উঠতে অনুপ্রাণিত করবে এবং তারা দ্বীনের সুশীতল ছায়ায় বেড়ে উঠবে, ইনশাআল্লাহ।
সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মুফতি বুরহানুদ্দীন বিন সাদ বলেন, ‘এই মহতী আয়োজনে সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, ইমাম, খতিব, আলেম, শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকদের হাতে ‘মসজিদ মিশন’ বইটি তুলে দেওয়া হয়েছে। বইটির মাধ্যমে একটি পরিকল্পিত, সুদূরপ্রসারী ও কার্যকর দাওয়াতি আন্দোলনের লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরা হয়েছে; যাতে মসজিদকে কেন্দ্র করে ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজে দ্বীনের দাওয়াত আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা, প্রত্যেক এলাকায় মসজিদকে কেন্দ্র করে সুসংগঠিত দাওয়াতি কার্যক্রম গড়ে উঠবে। প্রতিটি ঘরে পৌঁছাবে ইসলামের আহ্বান, প্রতিটি শিশু, যুবক ও নাগরিকের কাছে পৌঁছাবে দ্বীনের আলো।’
খিদমাতুল ইসলাম পরিষদের সভাপতি বিশিষ্ট আলেমে দ্বীন মাওলানা আবু সালেহ মুহাম্মাদ সাদ উদ্দীন (হাফিজাহুল্লাহ) বলেন, সমাজে ইসলামের মৌলিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করা জরুরি। এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের মাঝে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, একটি বই থেকে শুরু হবে একটি চিন্তার পরিবর্তন; একটি মসজিদ থেকে গড়ে উঠবে একটি দাওয়াতি আন্দোলন; আর একটি ছোট উদ্যোগ একদিন ছড়িয়ে পড়বে গোটা সমাজে।
খিদমাতুল ইসলাম পরিষদের এ উদ্যোগকে শুধু একটি ক্যাম্পেইন নয়, বরং শিশু, যুবক ও সাধারণ মানুষের মাঝে ইসলামী মূল্যবোধ ও নৈতিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়ার একটি সুদূরপ্রসারী প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এলাকার সুশীল ও শিক্ষিত সমাজ এটিকে ইতিবাচক দৃষ্টিতে দেখছেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকগণ।
আইও/