মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ।। ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ ।। ১৮ রবিউস সানি ১৪৪৮

শিরোনাম :
বিকেএম রাজবাড়ী জেলা শাখার মাসিক নির্বাহী বৈঠক অনুষ্ঠিত চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস রোধে সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ: পীর সাহেব চরমোনাই মক্কায় নতুন সড়ক চালু, ওমরাহযাত্রীদের যাতায়াতে সময় কমবে ৯০ শতাংশের বেশি ঠাকুরগাঁও-১ আসনে হাতপাখার প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ‘হাফপ্যান্ট নিয়ে সতর্কতার জবাবে পাল্টা কর্মসূচি সুস্থ প্রতিবাদ নয়’ কুয়ালালামপুরে আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করলেন মুফতি মুসা খান বেফাকের তত্ত্বাবধানে মোহাম্মদপুরে শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালা তুমি ক্ষমাশীল দূরত্ব নয়, ঐক্যই সমাজ উন্নয়নের চাবিকাঠি শিশুদের বইমুখী করতে মেলায় ইসলামি বই কিনছেন অভিভাবকরা

স্বপ্নেই চিনেছিলেন সন্তানের কবর, ডিএনএ মিলল সেই গাছের নিচেই

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন উত্তাল ছিল রাজধানী,পুলিশের গুলিতে শহীদ হন তার একমাত্র সন্তান সোহেল। ঘটনার পরপরই পাওয়া যায়নি মরদেহ।

অজ্ঞাতনামা হিসেবে দাফন করা হয় তাকে রাজধানীর রায়েরবাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। কিন্তু সেই খবর জানা ছিল না মায়ের।

মায়ের কাছে ছিল না কোনো কবরের ঠিকানা, ছিল না ফরেনসিক রিপোর্ট কিংবা প্রশাসনিক কোনো প্রমাণ। বুকভরা শূন্যতা আর সন্তানের শেষ চিহ্ন খোঁজার আকুতি নিয়েই তিনি নিয়মিত যেতেন রায়ের বাজারে।

ওই মা বলতেন, স্বপ্নে তিনি দেখেন—একটি গাছের নিচে তার সন্তানের কবর। বাস্তবেও রায়েরবাজারে একটি গাছের নিচে থাকা একটি অচিহ্নিত কবরের পাশে দাঁড়িয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তেন তিনি। শুধু বিশ্বাস ছিল—এখানেই শুয়ে আছে তার সন্তান।

বুধবার (৭ জানুয়ারি) সেই বিশ্বাসই বাস্তব হয়ে ধরা দেয়। অভ্যুত্থানের সময় রায়েরবাজারে বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করা ১১৪টি মরদেহ থেকে সিআইডি ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে।

পরিবারের দেওয়া ডিএনএ নমুনার সঙ্গে মিলিয়ে শনাক্ত করা হয় শহীদ সোহেলের কবর। আশ্চর্যজনকভাবে, যে গাছের নিচে দাঁড়িয়ে মা নিয়মিত কাঁদতেন, সেখানেই মিলেছে তার সন্তানের মরদেহ।

সিআইডির ফরেনসিক তথ্যের সঙ্গে মায়ের দেওয়া বর্ণনা হুবহু মিলে যায়। সিআইডি প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো.সিবকাতুল্লাহ প্রধান উপদেষ্টাকে জানান, ওই মা নিয়মিত সিআইডিতে এসে সন্তানের কবরের বর্ণনা দিতেন। অবিশ্বাস্য হলেও সত্য—সন্তানকে হারানো এক মায়ের অনুভূতিই শেষ পর্যন্ত সত্য প্রমাণিত হলো।

একটি মা, একটি বিশ্বাস—আর রাষ্ট্রীয় ফরেনসিক বিজ্ঞানের মাধ্যমে মিলল নিখোঁজ সন্তানের শেষ ঠিকানা।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ