কওমি মাদরাসা স্থাপনের জন্য নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং দেশের সব হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের সরকারি উদ্যোগকে ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামিআতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আইন, ২০১৮’-এর সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছে আল-হাইআতুল উলয়া। একই সঙ্গে স্বল্প সময়ের নোটিশের কারণে আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় অংশগ্রহণে অপারগতার কথা জানিয়েছে সংস্থাটি।
বুধবার (৮ জুলাই) কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব বরাবর পাঠানো এক পত্রে আল-হাইআতুল উলয়া তাদের এ অবস্থান তুলে ধরে।
এর আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের উপসচিব (মাদ্রাসা-২) মো. রাহাত মান্নান স্বাক্ষরিত ৭ জুলাইয়ের এক নোটিশে জানানো হয়, জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬-এর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন, দেশের সব হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য একটি কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মমুখী শিক্ষা কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ৯ জুলাই বিকেল ৩টায় সচিব মো. দাউদ মিয়ার সভাপতিত্বে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে। এতে আল-হাইআতুল উলয়ার চেয়ারম্যান, কো-চেয়ারম্যান, অফিস ব্যবস্থাপক এবং অধীনস্থ ছয় বোর্ডের সভাপতি বা প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়।
আল-হাইআতুল উলয়া জানায়, সভার নোটিশটি ৭ জুলাই বিকেলে তাদের হাতে পৌঁছেছে। এত অল্প সময়ের নোটিশে সদস্যদের পক্ষে সভায় অংশ নেওয়া সম্ভব নয়। কারণ, অনেক সদস্য দেশের বিভিন্ন জেলায় অবস্থান করছেন। এছাড়া এ ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সভায় অংশগ্রহণের আগে আলোচ্য বিষয়গুলো আল-হাইআতুল উলয়া এবং এর অধীন ছয় বোর্ডের নিজ নিজ কার্যনির্বাহী কমিটির সভায় আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন। তাই সংশ্লিষ্ট সদস্যরা সভায় যোগদানে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।
কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে আল-হাইআতুল উলয়া বলেছে, ‘আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি‘আতিল কওমিয়া বাংলাদেশ আইন, ২০১৮’-এর ধারা ২(চ)-এ কওমি মাদরাসার স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য ও স্বকীয়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। সেখানে পাঠ্যক্রম, শিক্ষা, গবেষণা, প্রশিক্ষণ, অবকাঠামো নির্মাণ ও মাদরাসা পরিচালনাসহ সব ক্ষেত্রে বাহ্যিক প্রভাবমুক্ত থাকার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি বোর্ডের প্রত্যেকটির নিজস্ব মাদরাসা নীতিমালা রয়েছে। ইতোমধ্যে ‘মহিলা মাদরাসা বিষয়ক নীতিমালা’ এবং ‘মহিলা মাদরাসা অধিভুক্তির সমন্বিত বিধি’ প্রণয়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘ছাত্র মাদরাসা বিষয়ক নীতিমালা’ ও ‘ছাত্র মাদরাসা অধিভুক্তির সমন্বিত বিধি’ প্রণয়নের কাজও চলমান।
এ অবস্থায় সরকার নতুন করে কওমি মাদরাসা স্থাপনের নীতিমালা প্রণয়ন করলে তা বিদ্যমান স্বকীয় নীতিমালার ওপর হস্তক্ষেপ হবে, যা ২০১৮ সালের আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করে আল-হাইআতুল উলয়া। হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের প্রস্তাব প্রসঙ্গে আল-হাইআতুল উলয়া বলেছে, দেশের প্রায় সব হাফেজিয়া মাদরাসাই বর্তমানে আল-হাইআতুল উলয়ার অধীন ছয়টি বোর্ডের কোনো না কোনো একটির সঙ্গে অধিভুক্ত রয়েছে। ফলে নতুন করে পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের উদ্যোগ অবান্তর, অপ্রয়োজনীয় এবং বিদ্যমান আইনের সঙ্গেও অসামঞ্জস্যপূর্ণ।
আল-হাইআতুল উলয়া সরকারের প্রতি কওমি মাদরাসা স্থাপনের নতুন নীতিমালা প্রণয়ন এবং হাফেজিয়া মাদরাসার জন্য পৃথক কেন্দ্রীয় বোর্ড গঠনের উদ্যোগ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে ৯ জুলাইয়ের সভায় আল-হাইআতুল উলয়া ও অধীনস্থ ছয় বোর্ডের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিকে সদয় দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি জানায়, চেয়ারম্যান মুহিউস সুন্নাহ আল্লামা মাহমুদুল হাসানের নির্দেশে এবং কো-চেয়ারম্যান আল্লামা শেখ সাজিদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ পত্র কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের সচিবের কাছে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি বিষয়টি অবহিত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, শিক্ষামন্ত্রীর একান্ত সচিব এবং ধর্মমন্ত্রীর একান্ত সচিবের কাছেও পত্রের অনুলিপি পাঠানো হয়েছে।
এসএইচ