বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকব: বিএসএফ-কে বিজিবি প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সীমান্তে প্রতিবাদী সমাবেশ ও শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক ১১ দলের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় আসবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে লেবাননের প্রতি হিজবুল্লাহর আহ্বান ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন ইবতেদায়ী শিক্ষকরা

মসজিদুল আকসার যে তথ্য আপনাকে অবাক করবে!


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

|| মুফতি আরিফুল ইসলাম ||

ফিলিস্তিন সুন্দর সুশোভিত শহরে অবস্থিত মুসলমানদের তৃতীয় পবিত্রতম মসজিদ আল-আকসা। মুসলিম জাতির প্রথম কিবলা ও মুসলমানদের প্রাণস্পন্দন। সৌদি আরবের মক্কার মসজিদুল হারাম এবং মদিনার মসজিদে নববীর পরই, মুসলমানদের কাছে পবিত্র স্থান জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ।

শাব্দিক অর্থ :

বাইতুল মুকাদ্দাস অর্থ পবিত্র ঘর। মসজিদ আল-আকসা অর্থ দূরবর্তী মসজিদ। মসজিদুল হারামের অবস্থান থেকে দূরে অবস্থিত হওয়ায় বাইতুল মুকাদ্দাসকে কোরআনে দূরতম মসজিদ বলা হয়েছে।

নির্মানের ইতিহাস

আবু জর গিফারি রা. থেকে ব‌র্ণিত একটি হাদিস থেকে জানা যায় বাইতুল মুকাদ্দাস সর্বপ্রথম মানুষ ও নবি আদম আ. নির্মাণ করেছিলেন এবং এটি ইসলামের ইতিহাসের দ্বিতীয় মসজিদ। হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী হজরত আদম আ. সর্বপ্রথম বাইতুল্লাহ বা কাবা নির্মাণ করেছিলেন। তারপর তিনি বাইতুল মুকাদ্দাস নির্মাণ করেন। রাসুল সা. কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, এ‌টি বায়তুল্লাহ নির্মা‌ণের কত দিন পর নির্মাণ করা হ‌য়ে‌ছিল? তি‌নি উত্তর দেন, চ‌ল্লিশ বছর পর। (সহিহ বুখারি)

খ্রিস্টপূর্ব ১০০৪ সালে মসজিদটি পুনর্নির্মাণ করেন হজরত সোলায়মান আ.। এরপর বিভিন্ন সময়ই এর সংস্কার করা হয়। দুটি বড় ও ১০টি ছোট গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদটিতে প্রকাশ পেয়েছে নির্মাণশৈলীর এক মনোমুগ্ধকর প্রতিচ্ছবি।

এই মসজিদ নির্মাণের সঙ্গে জড়িয়ে আছে মনীষীদের নাম। প্রায় অর্ধ জাহানের শাসক হজরত উমর রা., দ্য গ্রেট সুলতান সালাউদ্দিন আইয়ুবিসহ অসংখ্য বীরের নাম।

স্মৃতি বিজড়িত আকসা

ঐতিহাসিক এ স্থানের সঙ্গে জড়িয়ে মুসলমানদের নানা স্মৃতি। এখানেই শুয়ে আছেন হজরত ইবরাহিম এবং মুসা (আ.) সহ অসংখ্য নবী ও রাসুল। এখানেই মেরাজের রাতে রাসুল (সা.) সব নবী-রাসুল এবং ফেরেস্তাদের নিয়ে নামাজ পড়েছিলেন। সেই জামাতের ইমাম ছিলেন মহানবী হজরত মোহাম্মদ সা. নিজেই। এখান থেকেই হজরত মোহাম্মদ (সা. বোরাকে করে আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ করার উদ্দেশে যাত্রা করছিলেন।

নামাজ আদায়ের ফজীলত

এই মসজিদে দুই রাকাত নামাজ আদায় করলে একজনের আমলনামায় ৫০০ রাকাত নামাজের সমপরিমাণ সওয়াব লিখা হয়। পবিত্র কোরআনের প্রায় ৭০ জায়গায় উচ্চারিত হয়েছে এ মসজিদের কথা।

দলিল : ১ হজরত আবু দারদা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘মসজিদুল হারামে একটি নামাজ একলাখ নামাজের সমতুল্য এবং আমার মসজিদে একটি নামাজ এক হাজার নামাজের সমতুল্য এবং মসজিদুল আকসায় একটি নামাজ পাঁচশত নামাজের সমতুল্য। (ইবনে খুজাইমা ২৬৮)

দলিল : ২ হাদিসের অপর এক বর্ণনায় এসেছে, ‘মসজিদুল আকসায় নামাজ আদায় জীবনের সব গুনাহ মাফের মাধ্যম।’ (ইবনু মাজাহ ১৪০৮, আত-তারগিব ১৭৭৮)

চলবে...

লেখক : ইমাম ও খতীব


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ