মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ।। ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৪ সফর ১৪৪৮


অনলাইন জুয়া: স্বপ্ন নয়, ধ্বংসের ফাঁদ


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||

একটি ক্লিক। মাত্র কয়েক সেকেন্ড। অথচ সেই মুহূর্তের ভুল সিদ্ধান্তই কখনো একটি পরিবারের দীর্ঘদিনের কান্নার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অনেক ক্ষেত্রে একটি শিশুকে বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত করে, একজন মায়ের বুক শূন্য করে দেয়। যে মানুষটি একদিন প্রিয়জনের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন দেখেছিল, অনলাইন জুয়ার মায়াজালে আটকে সে-ই একসময় নিজের স্বপ্ন, পরিবারের বিশ্বাস এবং ভবিষ্যৎ— সবকিছু ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়।

অনলাইন জুয়া ভাগ্য বদলের পথ নয়; এটি এমন এক সুপরিকল্পিত প্রলোভনের ফাঁদ, যেখানে জয়ের স্বপ্ন দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত সবকিছু কেড়ে নেওয়া হয়।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! নিশ্চয়ই মদ, জুয়া, প্রতিমা এবং ভাগ্য নির্ধারণের শর— এসব শয়তানের অপবিত্র কাজ। অতএব, তোমরা এগুলো থেকে দূরে থাক, যাতে তোমরা সফল হতে পার।’ —সূরা আল-মায়িদাহ: ৯০

এই আয়াত থেকেই স্পষ্ট, ইসলাম জুয়াকে শুধু আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং ব্যক্তি ও সমাজকে ধ্বংসের পথে ঠেলে দেওয়া শয়তানের অপবিত্র কাজ হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

একজন মানুষের একটি ভুল সিদ্ধান্তের পরিণতি অনেক সময় ভোগ করে তার নিরপরাধ সন্তান, গর্ভবতী স্ত্রী, বাবা-মা এবং স্বজনরা। এ ধরনের প্রতিটি ঘটনা কেবল একটি অপরাধের খবর নয়; এটি একটি ভেঙে পড়া পরিবারের কান্না, একটি শিশুর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ এবং সমাজের জন্য নীরব সতর্কবার্তা।

সহজে ধনী হওয়ার স্বপ্ন মানুষকে প্রলুব্ধ করতে পারে, সফলতা দিতে পারে না। কারণ, প্রকৃত সফলতা আসে হালাল উপার্জন, ধৈর্য, সততা এবং পরিশ্রমের মাধ্যমে। ক্ষণিকের লোভ হয়তো সাময়িক উত্তেজনা দেয়, কিন্তু তার পরিণতি হতে পারে আজীবনের অনুশোচনা।

তাই আসুন, আমরা নিজেরা অনলাইন জুয়া থেকে দূরে থাকি এবং পরিবার-সমাজকেও এ বিষয়ে সচেতন করি। একটি ভুল ক্লিক শুধু একজন মানুষকে নয়, একটি পরিবার, একটি ভবিষ্যৎ এবং অসংখ্য স্বপ্নকে অন্ধকারে ডুবিয়ে দিতে পারে।

আজ আমরা যদি একজন মানুষকেও এই ভয়াবহ আসক্তি থেকে ফিরিয়ে আনতে পারি, তবে সেটিই হবে একটি পরিবারকে রক্ষা করার সবচেয়ে বড় সাফল্য। কারণ, একটি মানুষকে বাঁচানো মানে একটি পরিবারকে বাঁচানো, একটি ভবিষ্যৎকে রক্ষা করা।

লেখক: শিক্ষক, গবেষক ও ঔপন্যাসিক


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ