বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকব: বিএসএফ-কে বিজিবি প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সীমান্তে প্রতিবাদী সমাবেশ ও শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক ১১ দলের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় আসবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে লেবাননের প্রতি হিজবুল্লাহর আহ্বান ১৭ হাজার ৩৩ কোটি টাকার জ্বালানি তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত অনশন অব্যাহত রাখবেন ইবতেদায়ী শিক্ষকরা

২৫ বছর ধরে কোনো বেতন ছাড়াই আজান দিচ্ছেন শতবর্ষী হাকিম

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

শতবর্ষী হাকিম মৃধা। থাকেন ঝালকাঠির নলছিটি পৌর এলাকার সারদল গ্রামে। এই বয়সেও একা একা হেঁটে মসজিদে আসেন, আজান দেন এরপর জামাতে নামাজ আদায় করেন।

হাকিম মৃধা দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে সারদল তালুকদার বাড়ির সামনে আল আকসা জামে মসজিদে বিনা বেতনে মুয়াজ্জিনের দায়িত্ব পালন করে চলেছেন। বয়সের ভারে ঝুঁকে পড়লেও একাই হাঁটাচলা করেন তিনি। এখনও রোজা রাখেন। চশমা ছাড়াই তার দৃষ্টি এখনও স্পষ্ট। তিনি বর্তমানে ওই এলাকার সব চেয়ে প্রবীণ ব্যক্তি। সবার কাছে তিনি বড়মিয়া মুয়াজ্জিন নামে পরিচিত।

হাকিম মৃধার তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বড় ছেলের নাম ইউনুস মৃধা। তিনি পেশায় একজন জেলে। মেঝ ছেলে ইউসুফ পেশায়  ভ্যানচালক ছিলেন। কয়েকবছর আগে মারা গেছেন। ছোট ছেলে খলিল পেশায় একজন দিনমজুর। বড় মেয়ের নাম রেনু বেগম ও ছোট মেয়ে রানু বেগম। তারা স্বামীর বাড়িতে থাকেন। হাকিম মৃধার সব নাতি-নাতনি দেখার সৌভাগ্য হয়েছে। এক সময় কৃষিকাজ করলেও এখন বেশিরভাগ সময় তার মসজিদেই কাটে। তিনি অর্থনৈতিক স্বচ্ছল না হলেও কারো কাছে হাত পাতেন না।

তিনি মুয়াজ্জিন হলেও নাতি বাপ্পিকে বানিয়েছেন কুরআনের হাফেজ। মুয়াজ্জিন হাকিম মৃধার ইচ্ছা মৃত্যুর পর তার নাতি যেন ধর্মীয় কাজ চালিয়ে যায়। 

মুয়াজ্জিন হাকিম মৃধা বলেন, আগে কৃষি কাজ করতাম তা দিয়ে কোনো রকম চলতাম। বয়স হওয়ার পরে আর কৃষি কাজ করতে পারি না। এরপর থেকে ছেলে-মেয়েদের বাড়িতে গিয়ে খাই। এছাড়া কেউ চাল, কেউ টাকা দেয় তা দিয়ে কোনোরকম জীবন চলে যায়। তারপরও আমি আলহামদুলিল্লাহ সুখে আছি।  জীবনের শেষ বয়সে বেশিরভাগ সময়ই আমার কাটে আল্লাহর ইবাদত করে। বাকি জীবনটা ইবাদত ও মসজিদের খেদমত করেই কাটাতে চাই। 

প্রতিবেশী মামুন হাওলাদার জানান, আমাদের এলাকায় তার চাইতে বেশি বয়সী কেউ বেঁচে নেই। তিনি মসজিদে আজান দেন। সবাইকে নামাজের অন্য ডাক দেন।

একই মসজিদের মুসল্লি মানিক খান বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক মানুষ আছে। কোটি টাকা থাকলেও বলে অভাবে আছি। কিন্তু হাকিম মৃধাকে জিজ্ঞেস করলে বলেন, আমার কোনো অভাব নেই। আল্লাহ আমাকে ভালো রেখেছে। 

মসজিদের ইমাম মাহাদী হাসান বলেন, মুয়াজ্জিন সাহেব এই মসজিদের শুরু থেকেই আজান দেন। সব সময় জামাতে নামাজ আদায় করার চেষ্টা করেন। বেশিরভাগ সময় মসজিদেই সময় কাটান। 

পৌরসভার ৭নং কাউন্সিলর শহিদুল ইসলাম টিটু বলেন, হাকিম মৃধা আমার নির্বাচনি এলাকার সারদল গ্রামের বাসিন্দা। তাকে সরকারি বয়স্ক ভাতা দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন সময় যেটুকু পারি আমাদের পক্ষ থেকে সার্বিক সহায়তা করে থাকি।

কেএল/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ