মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬ ।। ১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১৪ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা: তথ্যমন্ত্রী রাজধানীতে টিসিবির পণ্য নিতে এসে দেয়ালচাপায় প্রাণ গেল একজনের হাম উপসর্গে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু সবুজ বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে পেরিয়া ইউনিয়ন উলামা পরিষদের দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিত্যপণ্যের আগাম সংকট শনাক্ত করবে এআই: বাণিজ্যমন্ত্রী দেশীয় প্রযুক্তির ভেন্টিলেটর উৎপাদনে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতার আশ্বাস জাপানে ৭.১ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প, সুনামি সতর্কতা জারি দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে পুড়ে ৬ বাংলাদেশির মৃত্যু দুরুদে ইব্রাহিম: অর্থ ও ফজিলত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত ইসি: সিইসি

২৮ দিনে হাফেজ ও ৭ মাসে বুখারী মুখস্থকারী এক প্রতিভাধরের গল্প

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| হাসান আল মাহমুদ ||

ইউসুফ। রামগঞ্জ উপজেলার ডোমনদী গ্রামের এক বালক। সবে কৈশোর পার করেছে। নিজ এলাকার আশরাফুল উলুম মাদ্রাসা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে নাগমুদ মাদ্রাসায় পড়ছে ৮ম শ্রেণিতে। এসময় এলাকার একজন আলেম ঢাকা সাভারের এক মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন। নাম তাঁর হাফেজ নুরুল্লাহ। তার হাত ধরেই ইউসুফের নবীনগর (সাভার) বাইপাল আলামীন মাদ্রাসায় এসে ভর্তি হওয়া কিতাব বিভাগে। এখানে তাইসীর (৫ম শ্রেণি) শেষ করে মিজান জামাত (৬ষ্ঠ শ্রেণি) শেষের দিকে থাকাবস্থায় হেফজ পড়ার ইচ্ছা জাগে। তখন হাফেজ নুরুল্লাহ সাহেবকে বিষয়টা জানালে তিনি বললেন, ‘আলেম হবার পরেও হিফজ পড়া যায়। তখন আরও সহজে হাফেজ হওয়া যায়।’ 

প্রিয় শিক্ষকের কথায় ইউসুফ একদিন ঠিকই হাফেজ হলেন। মাত্র ২৮ দিনে। ততক্ষণে নিজের নামের সাথে জুড়ালেন ‘মাওলানা’র টাইটেলও। রাজধানীর মোহাম্মদপুর জামেয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া থেকে ২০০৯-১০ সালে দাওরায়ে হাদীস সম্পন্ন করেন। তারপর ২০১১ সালে পূবাইল (পিপুলিয়া) হাফেজিয়া মাদ্রাসা হতে মাত্র ২৮ দিনে কোরআনে হাফেজ হওয়ার বিরলর কৃতিত্ব অর্জন করেন।  

হিফজুল কুরআন শেষে ২০১১-১২ সালে ইফতাও সম্পন্ন করেন তিনি। এরপর ২০১৩ সালে মাত্র ৭ মাসে ফাজায়েলে আমল এর বাংলা অনুবাদকারী (খিলগাঁও-তালতলা) নূরবাগের মুফতি মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ সাহেবের খানকা শরীফ থেকে বোখারী শরীফ মুখস্ত করেন।

এই বিরল কৃতিত্ব অর্জন করা কিভাবে সম্ভব হয়েছে? এমন প্রশ্নে মুফতি ইউসুফ আওয়ার ইসলামকে জানান, ‘সবকিছু আল্লাহর অপার কৃপা। আল্লাহ চেয়েছেন বিধায় সম্ভব হয়েছে।’

কুরআন মুখস্থ করার সুরত বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথম দুই দিন দেড় পারা করে সবক দিয়েছি। তারপর ১ পারা করে সবক দিয়েছি। রাাতে মুখস্থ করে ফজরের আগে আধা পারা ও জোহরের আগে আধা পারা করে মুখস্থ শোনাতাম।’

মুফতি ইউসুফ জানান, যখন আমি কাফিয়া জামাতে পড়ছিলাম, তখন দৈনিক ১৫ পারা করে তিলাওয়াত করতাম। এছাড়া, জালালাইন জামাতে থাকাবস্থায় পুরো বছর জালালাইন শরীফের ইবারত ও তরজমা পড়েছি উস্তাদের সামনে।  

হাফেজ মাওলানা মুফতি ইউসুফ ছাত্র জীবন শেষে ৬ বছর কাশেমপুর জামেয়া কাশেমিয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বোখারী শরীফের (দরস) পাঠদান অধ্যাপনা করেন। ২০২২ সালে উত্তরা দিয়াবাড়ী জামেয়া রহীমিয়া আরাবিয়া প্রতিষ্ঠা করে অদ্যাবদি সুনামের সাথে প্রতিষ্ঠাতা মুহতামিমের দায়িত্ব পালন করছেন এবং বিগত ৩ বছর যাবত কুতুবে ছিত্তাসহ হাদীসের সবগুলো কিতাব একসাথে দরস দিয়ে আসছেন।

হাআমা/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ