বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠলো ইরানের কেশম দ্বীপ আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকব: বিএসএফ-কে বিজিবি প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সীমান্তে প্রতিবাদী সমাবেশ ও শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক ১১ দলের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় আসবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে লেবাননের প্রতি হিজবুল্লাহর আহ্বান

কাসাব্লাঙ্কা: সমুদ্রের গর্জন ও আজানের ধ্বনি যেখানে একাকার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

|| ড. শায়খ মাহমুদুল হাসান ||

ঘানা থেকে লন্ডন ফেরার পথে কাসাব্লাঙ্কায় পনের ঘণ্টার যাত্রাবিরতি ছিল। আমাদের বিরতিতে বিশ্রামের জন্য দেওয়া হলো- ‘হোটেল রিল্যাক্স’-এ রুম ও খাবার।

১৯৯৩ সালে বাংলাদেশের কোনো এক সংবাদপত্রের ফিচারে পড়েছিলাম— কাসাব্লাঙ্কায় নবনির্মিত সপরিসর ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদের গল্প। তাই এ সুযোগে মসজিদটি পরিদর্শনের প্রবল আগ্রহ অনুভব করলাম। পাশাপাশি কাসাব্লাঙ্কার ঐতিহ্য পুরাতন ‘সূক’ (বাজার) দেখার পরিকল্পনাও করলাম।

মরোক্কোর গুরুত্বপূর্ণ মহানগরী ও বাণিজ্যিক রাজধানী হলো- কাসাব্লাঙ্কা। আরবিতে বলা হয়- ‘আদ্দা-রুল বায়দ্বা’। আটলান্টিক মরোক্কোর মধ্য-পশ্চিম অংশে চাউইয়া সমভূমির উপকূলে অবস্থিত জনবহুল শহর। গ্রেটার কাসাব্লাঙ্কায় ৪.২৭ মিলিয়ন মানুষ বসবাস করে।

কাসাব্লাঙ্কায় সবচেয়ে দর্শনীয় স্থান হলো- বাদশাহ হাসান দ্বিতীয় মসজিদ। এটি বিশ্বের অন্যতম বড় ও আকর্ষণীয় মসজিদ। মসজিদের সুউচ্চ মিনার ৬০ তলা সমপরিমাণ উঁচু। 

আটলান্টিক মহাসমুদ্রের গা ঘেঁষে মসজিদের দেয়াল দাঁড়িয়ে। সমুদ্রের সগর্জন ঢেউ এসে দেয়ালে চুমো এঁকে যায় প্রতি মুহূর্তে। সমুদ্রের গর্জন ও আজানের ধ্বনি এখানে একাকার হয়ে যায়।

মসজিদের অভ্যন্তরে পঁচিশ হাজার মানুষ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সালাত আদায় করে। আর বিশাল আঙিনায় আরও আশি হাজার মানুষ— মানে এক লাখ মানুষের জনাকীর্ণ ও বৃহৎ সমাবেশ হয় এ মসজিদে।

আমরা বিকালে মসজিদসংলগ্ন সমুদ্রপাড়ে পৌঁছে গেলাম। সুমসৃণ কুর্নিশে নানা পর্যটকদের সঙ্গে পায়চারি করে বিকাল অতিবাহিত করলাম। নানা মানুষ নানা পসরা সাজিয়ে বসে আছে। কেউ কেউ পাখি নিয়ে ছবি তুলে উপার্জন করছে। কেউবা নানা জাতের খাবার বিক্রি করছে।

মাগরিবের পনের মিনিট পূর্বে সূর্য যখন ডুবু ডুবু, মসজিদের গেইট খোলা হলো। পায়চারিরত ও অপেক্ষমান শত শত পর্যটক মসজিদের দিকে ছুটে এলো। বিশাল অজুখানা ছিল সুপরিচ্ছন্ন ও সুবিস্তৃত।

নামাজে ইমাম বেশ ভরাট কণ্ঠে তেলাওয়াত করলেন। মরোক্কার তেলাওয়াত একটু ভিন্ন। ওয়ারস আন-নাফে’ রেওয়ায়েত অনুসরণ করে এখানকার মানুষ। নামাজ শেষে সালামও শুধু এক দিকে ফেরানো হয় এখানে।

আটলান্টিকের এ পাড়ে দাঁড়ালে এখনো যেন মহা বিদ্বানদের (ইবনে বতুতা ও ইবনে খালদুনসহ আরও অনেকে) কলমের খচখচ শব্দ ও মুজাহিদদের অশ্বধ্বনি শোনা যায়। যাদের সেতু বেয়ে ইসলাম ইউরোপে পৌঁছেছিল বীরদর্পে। জ্বালিয়েছিল সভ্যতার নতুন মোহনীয় মশাল।

লেখক: ব্রিটেন প্রবাসী মুসলিম স্কলার ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব

এসএকে/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ