বুধবার, ১০ জুন ২০২৬ ।। ২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ ।। ২৪ জিলহজ ১৪৪৭

শিরোনাম :
দেশে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ দ্রুত কর্মসংস্থান সৃষ্টি: বাণিজ্যমন্ত্রী বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠলো ইরানের কেশম দ্বীপ আপনি গুলি করলে আমরা কি বসে থাকব: বিএসএফ-কে বিজিবি প্রাথমিকে সংগীত, নাট্যকলা, নৃত্যকলা, চারু ও কারুকলা অন্তর্ভুক্ত করছে সরকার প্রশাসনিক কার্যক্রমে দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে: প্রধানমন্ত্রী সারাদেশের সীমান্তে প্রতিবাদী সমাবেশ ও শাহবাগে বিক্ষোভ কর্মসূচির ডাক ১১ দলের হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু আদ্-দ্বীনের শোকজের জবাবে সন্তুষ্ট নই: স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুক্রবার ঢাকায় আসবেন ভারতের নতুন হাইকমিশনার ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক জুড়তে লেবাননের প্রতি হিজবুল্লাহর আহ্বান

ইফতিতাহি দরসের সোনালি দিনগুলো

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: আওয়ার ইসলাম

|| আব্দুল কাদির ||

আল জামিয়াতুল ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ-এর ইফতিতাহি দরসের এই ছবিগুলো দেখেই হৃদয়ের গভীর থেকে স্মৃতির এক দীর্ঘ স্রোত যেন জেগে উঠলো। জীবনের একটি বড় সময় জুড়ে কাটিয়ে আসা দিনগুলো চোখের সামনে ভাসতে লাগল। যেন সেই পুরোনো মুহূর্তগুলো আজও একইভাবে জীবন্ত।

আমার জীবনে টানা আট বছর জামিয়ার ইফতিতাহি দরসে অংশগ্রহণ করার সৌভাগ্য হয়েছিল। বিশেষভাবে মনে পড়ে যায় আল্লামা আজহার আলী আনোয়ার শাহ রহিমাহুল্লাহ এর দরদী কণ্ঠস্বর। কতই না মমতামাখা, সাবলীল ও সুমধুর ভাষায় তিনি আমাদের নসীহত করতেন। বছরের শুরুতেই তিনি দ্বীনের পথচলার প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো অত্যন্ত যত্ন ও প্রজ্ঞার সাথে বুঝিয়ে দিতেন।

তিনি যখন সফেদ পোশাকে এক শাহী গাম্ভীর্য ও ব্যক্তিত্ব নিয়ে মজলিসে উপস্থিত হতেন, পুরো পরিবেশে যেন এক পিনপতন নীরবতা নেমে আসত। তাঁর উপস্থিতিই ছিল মজলিসের সৌন্দর্য ও মর্যাদার প্রতীক। তিনি ছিলেন সত্যিই এক অনন্য ব্যক্তিত্ব। যাঁর স্মৃতি আজও হৃদয়ের গভীরে শ্রদ্ধার সাথে অমলিন।

আমার মতো নাদান একজন মানুষের জীবনে যা কিছু শেখা হয়েছে, তার নব্বই ভাগই শেখা হয়েছে জামিয়া ইমদাদিয়ার সম্মানিত আসাতিযায়ে কেরামের কাছ থেকে। ইফতিতাহী মজলিস, কানূন শুনানোর মজলিস এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মজলিসগুলো ছিল আমাদের জীবন গঠনের অন্যতম পাথেয় সংগ্রহের মাধ্যম। এসব মজলিস আমাদের মনন, চরিত্র ও আচরণকে গড়ে তুলতে অমূল্য ভূমিকা রেখেছে।

আল্লামা শফীকুর রহমান রহমান জালালাবাদী দা বা, আল্লামা শামসুল ইসলাম রহ এবং আল্লামা ইমদাদুল্লাহ দা বা সহ অসংখ্য বুজুর্গ ও আদর্শ শিক্ষকের সাহচর্য লাভ করে আমরা যে সৌভাগ্যবান হতে পেরেছি, তার তুলনা সত্যিই বিরল। তাঁদের দরস, নসীহত, আদর্শ ও শাসন ছিল আমাদের জন্য আলোর দিশারী।

জামিয়ার সুশৃঙ্খল আইন কানুন ও নিয়মতান্ত্রিক পরিবেশ আমাদের জীবনকে যেভাবে গঠন করে দিয়েছে, তার সুফল ইনশাআল্লাহ আমরা সারা জীবন ভোগ করতে পারবো। শৃঙ্খলার মাঝে যে বরকত, যে আত্মগঠন, তা জামিয়ার প্রতিটি দিন আমাদেরকে হাতে কলমে শিখিয়েছে।

নববী ইলমের এই মাকবুল কানন উপমহাদেশের যুগশ্রেষ্ঠ আলেম ও মুজাহিদে মিল্লাত আল্লামা আতহার আলী রহিমাহুল্লাহ নিজ হাতে গড়ে তুলেছেন। যার আলো ও উপকার আজও দেশ ও জাতির উপর ছড়িয়ে পড়ছে। এই জামিয়া শুধু একটি প্রতিষ্ঠান নয়, বরং দ্বীন ও আদর্শের এক উজ্জ্বল মিনার।

আজকের জামিয়ার প্রিন্সিপাল আল্লামা শাব্বির আহমদ রশীদ দা বা সাহেবসহ আমার সরাসরি উস্তাদবৃন্দ এবং জামিয়ার সকল দায়িত্বশীল ও খাদেমানে দ্বীনের জন্য আমি অন্তর থেকে দুআ ও শুভকামনা জানাই। আল্লাহ তাআলা তাঁদেরকে সুস্থতা, দীর্ঘ হায়াত, ইখলাস, কবুলিয়্যাত ও দ্বীনের খেদমতে দৃঢ়তা দান করুন।

পরিশেষে দুআ করি, প্রিয় জামিয়ার এই বরকতময় খেদমত কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকুক। আল্লাহ তাআলা জামিয়াকে হেফাজত করুন, উন্নতি দান করুন এবং এ প্রতিষ্ঠানকে দ্বীনের আলো ছড়ানোর একটি চিরস্থায়ী মাধ্যম হিসেবে কবুল করুন। আমীন।

লেখক: ফারেগে জামিয়া ইমদাদিয়া কিশোরগঞ্জ, শিক্ষাবর্ষ : ২০১২-১৩ ঈসায়ী

আইও/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ