সোমবার, ২২ জুন ২০২৬ ।। ৮ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ৭ মহর্‌রম ১৪৪৮


তালাকপ্রাপ্তাকে বিয়েতে সহযোগিতা করুন, নিরুৎসাহিত নয়

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

|| আকিদুল ইসলাম সাদী ||

তালাক জীবনের সমাপ্তি নয়; বরং অনেক সময় এটি নতুন ও সুন্দর জীবনের সূচনা হতে পারে। কিন্তু আমাদের সমাজে বহু তালাকপ্রাপ্তা নারী বয়স, সন্তান বা লোকলজ্জার কারণে দ্বিতীয় বিয়ের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। এ কারণে তারা একাকীত্ব, মানসিক কষ্ট ও নানা সামাজিক সমস্যার মুখোমুখি হন।

ইসলাম এ বিষয়ে অত্যন্ত বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত দিয়েছে। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘যখন তোমরা নারীদের তালাক দাও এবং তারা তাদের ইদ্দত পূর্ণ করে, তখন তারা যদি বিবাহ করতে চায়, তবে তাদেরকে বাধা দিও না।’ (সূরা আল-বাকারা ২:২৩২)

এই আয়াতের শিক্ষা হলো, একজন নারী তার ভবিষ্যৎ জীবন সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রাখে। তাই তালাকপ্রাপ্তা নারী যদি পুনর্বিবাহ করতে চান, তাহলে পরিবার ও সমাজের উচিত তাকে সহযোগিতা করা, নিরুৎসাহিত করা নয়।

বাস্তবতা হলো, মানুষের হৃদয় সঙ্গ চায়, ভালোবাসা চায়, নিরাপত্তা চায়। একজন সৎ ও দ্বীনদার জীবনসঙ্গী অনেক ফিতনা, কষ্ট ও একাকীত্ব থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে। এজন্য তালাকপ্রাপ্তা নারীদের পুনর্বিবাহকে লজ্জার বিষয় না ভেবে একটি স্বাভাবিক, সম্মানজনক ও শরিয়তসম্মত অধিকার হিসেবে দেখা উচিত।

কিছু তালাকপ্রাপ্তা নারী আছেন, তারা পুনরায় দ্বিতীয় বিয়ে করতে চান না। তবে রাতদিন অনলাইনে পড়ে থাকেন। তারা চ্যাটিং-এ ছেলেদের ইনবক্স গরম করবে। তবুও দ্বিতীয় বিয়ে বা কোনো পুরুষের ২য় বউ হবে না। তারা বলে ওমা! মাসনা কেমনে হবো? আরেকটা মেয়েকে কেমনে কষ্ট দেবো? অথচ রাতদিন বিবাহিত পুরুষদের সাথেই পরকীয়া করছে। এটা কি তাহলে হালাল?

বর্তমান অধিক পরিমাণে ডিভোর্স হচ্ছে! স্বামী যদি দেখতে সুন্দর না হয় স্ত্রী পরকীয়া জড়াচ্ছে। অনেক সময় আবার স্বামীর মা-বাবা একসাথে থাকা নিয়ে ঝামেলা করছে। একপর্যায়ে তালাক নিচ্ছে।

তালাকপ্রাপ্তা ৪০+ নারীর অনলাইনে বন্ধু লাগে, না হয় একাকিত্ব কাটে না। এ আবার কেমন জীবন.? ৪০+ নারীগুলো যুবকদের আকৃষ্ট করতে, স্বামীর ফিজিক্যাল প্রবলেম শেয়ার করে ছেলেদের মনোরঞ্জন করে।

বাস্তবতার কথা হলো- মেক্সীমাম তালাক প্রাপ্ত নারীরা যুবতী থাকে। যৌবন সময় পরিবার হাজার চেষ্টা করেও তাদেরকে বিয়ে দিতে পারে না। যখন ৩৭-৪৫ হয়ে বুড়ির কোটায় পা রাখে তখন বিয়ের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। দূর্ভাগ্যবশত তাদের আর বিয়ে হয় না। এমন নারীরাই দ্রুত বিপাগামী হয়ে পড়ে। তারা অশ্লীল অন্ধকার জগতে রাতদিন ডুবে থাকে। ফেসবুক, ইমু, ইনস্টাগ্রাম, টিকটকসহ যতো অ্যাপস আছে দেখবেন নোংরা নারীদের বয়স ৩৭+। এই নারীগুলোই দেখবেন ২য় বিয়ের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মব সৃষ্টি করে। কারণ, তারা বিরাট সংখ্যা অনলাইনে অ্যাকটিভ।

এজন্য অনুরোধ করে বলবো- "তালাকপ্রাপ্তা নারীকে বিয়েতে সহযোগিতা করুন; কখনো নিরুৎসাহিত নয়।" তাদেরকে জোর করে হলেও বিয়ে দিন। এদেরকে ঘরের পরিত্যক্ত বস্তু বানিয়ে রাখবেন না। প্রয়োজনে পাত্রকে ঘরজামাই বানান। তবুও তাদের পুরষ ছাড়া রাখবেন না। কারণ, নারী সৎপুরুষের সঙ্গ না পেলে পথভ্রষ্ট হয়ে যায়।

লেখক: মাদরাসা শিক্ষক, গবেষক ও ঔপন্যাসিক

আইও


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ