সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬ ।। ১৬ চৈত্র ১৪৩২ ।। ১১ শাওয়াল ১৪৪৭

শিরোনাম :
সংসদে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন নিয়ে আলোচনা মঙ্গলবার মাকতাবাতুল ফাতাহর আয়োজনে বৃত্তি প্রদান ও মতবিনিময় সভা কাল জাতীয় সংসদে বিরোধী দলীয় নেতার মুলতবি প্রস্তাব ভালো নেই শহীদ মুগ্ধর বাবা, দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন স্নিগ্ধ বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের ১১ নির্দেশনা নোয়াখালীতে মাদক নিয়ে দ্বন্দ্বে তরুণকে কুপিয়ে হত্যা, গ্রেপ্তার ২ আমরা সংবিধান সংশোধনের জন্য নয়, সংস্কারের জন্য এসেছি: নাহিদ ইসলাম শিক্ষাখাত ইবাদতখানা, শিক্ষাদান সদকায়ে জারিয়া: শিক্ষামন্ত্রী 'স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর আইনের ব্যাখ্যা না দিয়ে সন্ত্রাসীদের বিচারের দিকে নজর দেওয়া দরকার' হাজিরা দিতে গিয়ে কারাগারে আওয়ামী লীগের ১০ নেতাকর্মী

খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন, যা জানাল ইরানি দূতাবাস

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির দেশত্যাগের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় অবস্থান পরিষ্কার করেছে ইরানি দূতাবাস। তারা এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব বলে উল্লেখ করেছে।

রোববার (১১ জানুয়ারি) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্প্রতি কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়, দেশজুড়ে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ বাড়তে থাকায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনেই (৮৬) নাকি দেশ ছাড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে নিরাপত্তা বাহিনী বা সেনাবাহিনী যদি সরকারের নির্দেশ মানতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে খামেনিই তার পরিবারের প্রায় ২০ জন সদস্যকে নিয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারেন বলে দাবি করা হয়েছে। এমনকি তার সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে রাশিয়ার রাজধানী মস্কোর কথাও উল্লেখ করা হয়।

তবে এই দাবি সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে ভারতে অবস্থিত ইরানের দূতাবাস। দূতাবাস এক বিবৃতিতে জানায়, এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও গুজব। তারা উল্লেখ করে, ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের সময়ও খামেনিই দেশ ছাড়েননি। সুতরাং বিক্ষোভের কারণে তার দেশত্যাগের খবর সম্পূর্ণ অসত্য। দূতাবাস একে শত্রু রাষ্ট্রগুলোর অপপ্রচার বলে আখ্যা দিয়ে তীব্র নিন্দা জানায়।

সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের বিভিন্ন শহরে মূল্যস্ফীতি, বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে ব্যাপক বিক্ষোভ দেখা গেছে। অনেক এলাকায় দোকানপাট বন্ধ রয়েছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিক্ষোভকারীরা অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার দাবি তুলছেন।

অন্যদিকে, সরকারের সমর্থনেও বড় বড় সমাবেশ হচ্ছে। কেরমানসহ বিভিন্ন শহরে হাজারো মানুষ রাস্তায় নেমে খামেনির প্রতি সমর্থন জানাচ্ছেন এবং সরকারপন্থি স্লোগান দিচ্ছেন। এতে স্পষ্ট হচ্ছে, দেশটির ভেতরে মতভেদ গভীর হলেও ক্ষমতায় সরকারের নিয়ন্ত্রণ এখনো শক্ত রয়েছে।

এনডিটিভিকে দেওয়া বক্তব্যে কয়েকজন ইরানি নাগরিক জানান, মূল্যস্ফীতি সত্যিই বড় সমস্যা এবং তারা চান এটি নিয়ন্ত্রণে আসুক। তবে তারা খামেনির বিরোধী নন। তাদের মতে, যারা খামেনির বিরোধিতা করছে তারা মূলত সাবেক শাহ রেজা পাহলভির সমর্থক ও বিদেশি শক্তির সঙ্গে যুক্ত।

কোম শহরের ইসলামি চিন্তাবিদ মাওলানা জামির জাফরি বলেন, খামেনেই সম্প্রতি ৩ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন, যা প্রমাণ করে তিনি এখনো সক্রিয়ভাবে দেশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তিনি বলেন, তেহরানে পরিস্থিতি মোটামুটি স্বাভাবিক। খামেনেই দেশ ছেড়ে পালাচ্ছেন—এমন খবর পুরোপুরি ভুয়া। তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমকে যাচাই ছাড়া এ ধরনের সংবাদ প্রকাশ না করার আহ্বান জানান।

আরএইচ/


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ