নিজস্ব প্রতিবেদক:
চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে উপজেলায় মারা গেছে ১২ হাজার ১২৯টি পশু ও হাঁস-মুরগি। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ৫ শত ৮৩ টি খামার। এর আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ আনুমানিক ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।
বন্যায় সবচাইতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ছোট এবং মাঝারি খামারিরা। সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৬২টি গবাদি পশুর খামার। পানিতে সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে ৩৩০টি পোলট্রি মুরগির খামার।
গ্রামীণ জনপদের অধিকাংশ মানুষের কাছে গবাদিপশু লালন-পালন শখের কোনো বিষয় নয়। যে কোনো বিপদে এই গবাদি পশু বিক্রি করে আপদ কাটিয়ে ওঠে মানুষ। সাম্প্রতিক বন্যা এই মানুষগুলোর শেষ ভরসার জায়গায় আঘাত করে তাদেরকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে। অনেক খামারি আবার ব্যবসা দাঁড় করানোর চিন্তায়। অসংখ্য পরিবার আয়ের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে অনিশ্চিত আগামীর সম্মুখীন।
সরেজমিনে চকরিয়ার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানি নেমে গেলেও খামারিদের দুর্দশা কাটেনি। বন্যার নোংরা পানিতে খামারে মজুত রাখা খড়, ভুষি ও মুরগির ফিড পচে নষ্ট হয়ে গেছে। বিস্তীর্ণ চারণভূমি এখনো জলমগ্ন থাকায় তীব্র পশুখাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে।
বরইতলী ইউনিয়নের টাইম বাজার এলাকার খামারি নুরুল আলম জানান, ব্যাংক ঋণ এবং চড়া সুদে দাদন নিয়ে তিনি খামার গড়ে তুলেছিলেন। কিন্তু এক বন্যাতেই সব স্বপ্ন ভেসে গেছে। এখন ঋণের কিস্তি শোধ করা তো দূরের কথা, বেঁচে থাকা গবাদি পশুগুলোকে খাওয়ানোর মতো পরিস্থিতিও তার নেই।
চিরিংগা ইউনিয়নের সওদাগরঘোনা এলাকার হাবিব উল্লাহ বলেন, ‘বন্যার পানিতে আমার গরু ও হাঁস-মুরগি মারা গেছে। এগুলো ছিল আমার পরিবারের ভরসা। কষ্ট করে পশুগুলো পালন করেছিলাম। বন্যায় সব হারিয়ে কীভাবে আবার শুরু করব, মাথায় সেটা আসছে না।’
বন্যা পরবর্তী সময়ে আক্রান্ত এলাকায় গবাদি পশুর মাঝে খুরারোগ, বাদলাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও ছোঁয়াচে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এছাড়া পোলট্রি খামার গুলোতে রোগজীবাণু ছড়ানোর তীব্র ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে চকরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মোন্তাকিম বিল্লাহ কালবেলাকে বলেন, ‘সাম্প্রতিক বন্যার কারণে চকরিয়া উপজেলায় গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সব মিলিয়ে ৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকার চূড়ান্ত ক্ষতি নিরূপণ করা হয়েছে।’
