রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬ ।। ১১ শ্রাবণ ১৪৩৩ ।। ১২ সফর ১৪৪৮

শিরোনাম :
‘সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ আমলে নেওয়ার মতো নয়’ রাজনৈতিক বিবেচনায় নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতেই পদোন্নতি : প্রধানমন্ত্রী ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ায় ইরানে হামলা বন্ধ রেখেছেন ট্রাম্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা জানা গেল এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ সৌদিকে বাঁচাতে অভিনব কায়দায় ইরানের সঙ্গে পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সমঝোতা মাদরাসা শিক্ষার্থীদের প্রমিত উচ্চারণ ও উপস্থাপনা কোর্স চলছে, ব্যাপক সাড়া জেদ্দার জাদুঘরে দেড় হাজার বছরের ইসলামি ঐতিহ্য ইসলামী আন্দোলন পঞ্চগড় জেলা শাখার সম্মেলন অনুষ্ঠিত বিকেএম কিশোরগঞ্জ জেলা শাখার মজলিসে শূরার অধিবেশন অনুষ্ঠিত

ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ায় ইরানে হামলা বন্ধ রেখেছেন ট্রাম্প


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: 

মধ্যপ্রাচ্যে পেন্টাগনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পাওয়ায় ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মার্কিন প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অঞ্চলটিতে মোতায়েন থাকা প্যাট্রিয়ট অ্যান্টি-মিসাইল ইন্টারসেপ্টরসহ গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের ঘাটতিই এই কৌশলগত সিদ্ধান্তের মূল কারণ।

কর্মকর্তাদের মতে, বর্তমান প্রেক্ষাপটে নতুন করে বৃহৎ সামরিক অভিযানে নামা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ট্রাম্প ও তার শীর্ষ সহযোগীরা আশঙ্কা করছেন—এতে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে, ইরানি পাল্টা হামলার মুখে পড়তে পারে উপসাগরীয় মিত্ররা, এমনকি সেই মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্কেও টানাপোড়েন তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি বৈশ্বিক অর্থনীতি চাপের মুখে পড়া, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বৃদ্ধি এবং শরণার্থী সংকট আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা নিয়েও তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

গত শুক্রবার হোয়াইট হাউসের শীর্ষ উপদেষ্টা এবং মন্ত্রিসভার জ্যেষ্ঠ সদস্যদের সাথে এক বৈঠকের পর ট্রাম্প তার পরিকল্পনা পরিবর্তন করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কর্মকর্তারা জানান, এই গোপন বৈঠকে পেন্টাগনের সঙ্কুচিত হতে থাকা প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বিশদ আলোচনা হয়।

এক জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা জানান, গত শুক্রবার জর্ডানে ইরানের একঝাঁক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের হামলা মোকাবিলার সময় একটি ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন আকাশ প্রতিরক্ষা ফাঁকি দিয়ে আঘাত হেনেছে। এতে তিন মার্কিন সেনা নিহত হন।

কর্মকর্তারা আরও জানান, জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন গোপনে সতর্ক করে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানো সম্ভব হলেও, তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের কাছে থাকা প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে শেষ করে দেবে। তবে জেনারেল কেইনের মুখপাত্র এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।

হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভেন চেং বলেন, প্রেসিডেন্ট সবসময় কূটনৈতিক সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, 'তবে হরমুজ প্রণালিতে ইরান যদি তাদের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বা মিত্রদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখে, তবে তার সামনে সব পথই খোলা রয়েছে।' তিনি আরও যোগ করেন, কঠোর নিষেধাজ্ঞা ও ক্রমাগত হামলার পর 'ইরানের জন্য একটি সমঝোতায় আসা বুদ্ধিমানের কাজ হবে; অন্যথায় কী ঘটবে তা তারা ভালো করেই জানে।'

ইরানের বিরুদ্ধে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা যুদ্ধ এবং বিশেষ করে কীভাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করা যায়, তা নিয়ে ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন চলছে। গত দুই সপ্তাহে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ায় বিশ্ববাজারে গ্যাসের দাম আবার বৃদ্ধি পাচ্ছে। কূটনীতি বর্তমানে সম্পূর্ণ অকার্যকর এবং মার্কিন হামলাও ইরানকে সামরিকভাবে দমাতে ব্যর্থ হয়েছে।

ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠজনদের খুব কম সদস্যই বড় হামলার এই পরিকল্পনাকে বুদ্ধিমানের কাজ মনে করেছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংশয় প্রকাশ করে বলেন, বড় আকারের সামরিক অভিযান ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনতে পারবে না। তার মতে, এ ধরনের হামলা হিতে বিপরীত হতে পারে; কারণ এতে ইরানের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটে যাবে এবং নেতারা বহিরাগত শত্রুর দিকে মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন।

দুই সপ্তাহের মধ্যে গত শনিবার প্রথমবারের মতো আমেরিকা ও ইরানের লড়াই কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। তবে ইয়েমেনে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী এবং ইরান-পন্থী হুথিদের মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধি পাওয়ায় উত্তেজনা আগের মতোই তুঙ্গে রয়েছে। টানা ১৩ রাত হামলার পর গত শনিবার রাতে কোনো নতুন হামলার ঘোষণা দেয়নি মার্কিন বাহিনী।

গত শুক্রবারের বৈঠকের আগে ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে, আদেশ পেলে বড় হামলার জন্য সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত। সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছিলেন, 'দেখুন, আমরা সম্পূর্ণ প্রস্তুত। আমরা অগ্রসর হওয়ার জন্য প্রস্তুত, তবে আমরা তাদের সাথে কথাও বলছি, তাই শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি কোন দিকে যায় তা এখনই বলা যাচ্ছে না।'

গত মাসে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে হওয়া ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি এবং দীর্ঘমেয়াদি পরমাণুমুক্তকরণের লক্ষ্যে করা সমঝোতা স্মারক ভেঙে যাওয়ার পর ট্রাম্প যখন তার ইরান নীতির এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক তখনই গত শুক্রবারের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে পেন্টাগনের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা এবং মার্কিন সামরিক কমান্ডাররা জানিয়েছিলেন, ট্রাম্প মূলত একটি বহুধাপ বিশিষ্ট বিমান হামলার প্রথম পর্ব অনুমোদন করার দিকে ঝুঁকছিলেন। পেন্টাগনের মতে, এই অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের উপকূলীয় রাডার, অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপকারী ব্যবস্থা এবং ছোট হামলাকারী নৌকার বহরসহ অন্যান্য সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করা, যা হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোতে হামলার পেছনে দায়ী।

যেকোনো সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতির প্রস্তুতি হিসেবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে পেন্টাগন মধ্যপ্রাচ্যে আরও বেশি সেনা, অস্ত্র ও রসদ পাঠায়। এছাড়াও মার্কিন সামরিক বাহিনী বেসামরিক মানুষের ব্যবহৃত রেলওয়ে সেতুগুলোর একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস করেছে, কারণ এই সেতুগুলো দিয়েই ইরানের সামরিক কমান্ডাররা হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকায় রসদ সরবরাহ করতে পারতেন। এই ধরনের লক্ষ্যবস্তু ছাড়াও জ্বালানি অবকাঠামো এবং 'পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন'সহ ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনায় বড় ধরনের হামলা চালানোর বিষয়গুলোও মার্কিন নীতি-নির্ধারকদের বিবেচনায় ছিল।

গত বৃহস্পতিবার 'এক্সিওস'-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প তার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বলেছিলেন, 'আমি এক তীব্র হামলার কথা বিবেচনা করছি। যা আগের চেয়েও বড় হবে। আমি সিদ্ধান্তের কাছাকাছি রয়েছি এবং আমরা এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত।'

কিন্তু গত শুক্রবার রাতের দিকে ট্রাম্প তার বড় ধরনের বিমান হামলার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করেন। মূলত সামরিক উপদেষ্টাদের দেওয়া রিপোর্টের পরই তিনি এই সিদ্ধান্ত নেন। উপদেষ্টারা জানিয়েছিলেন, জর্ডান, কুয়েত, বাহরাইন এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে গত দুই সপ্তাহে তীব্র ইরানি হামলার পর মার্কিন সৈন্যদের সুরক্ষার জন্য পর্যাপ্ত ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমে আসছে। ট্রাম্প যদি এখন বড় কোনো হামলা চালান, তবে ইরান আরও জোরালো পাল্টা জবাব দেবে, যা মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

গত এপ্রিলের শেষের দিকে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, পেন্টাগন এই যুদ্ধে ইতিমধ্যে ১,২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে, যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লাখ ডলারের বেশি। মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ হিসাব এবং কংগ্রেসের কর্মকর্তাদের মতে, এর ফলে পেন্টাগনের ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। সামরিক কর্মকর্তারা এই সপ্তাহে জানিয়েছেন যে পরিস্থিতি এখন আরও মারাত্মক রূপ নিয়েছে।

বড় হামলার পরিবর্তে ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারসহ অনেক উপদেষ্টা কম ঝুঁকিপূর্ণ একটি বিকল্প পথের কথা বলেছেন; যা হলো ইরানের ওপর দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও আলোচনার চাপ বজায় রাখা। তবে কোনো আলোচনা সত্যিই চলছে কি না বা চুক্তি করার ক্ষেত্রে ইরান সরকারের ভেতরের অভ্যন্তরীণ কোন্দল মিটিয়ে কোনো আলোচনা ফলপ্রসূ হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানি বন্দরগুলোতে সম্প্রতি পুনরায় কার্যকর করা মার্কিন নৌ-অবরোধ এখন পর্যন্ত মিশ্র ফলাফল এনেছে। মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত জুনের মাঝামাঝি সমঝোতা স্মারক সইয়ের পর ইরান মূলত চীনের কাছে তেলের সরবরাহ বাড়াতে সক্ষম হয়েছিল। এই তেলের বড় অংশ কেবল এখন সরবরাহ করা হচ্ছে, তাই অর্থনৈতিক অবরোধের চাপ নতুন করে অনুভূত হতে কিছুটা সময় লাগবে।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন, চীন সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনা প্রায় ৪০ শতাংশ কমিয়েছে, যা ইরানের তেল রাজস্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিচ্ছে।

এদিকে গত শুক্রবার মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ ইরানের অর্থদাতা বাবাক জানজানির ব্যবসায়িক নেটওয়ার্কের নয়টি প্রতিষ্ঠান এবং চার ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ