নিজস্ব প্রতিবেদক-
ভারতের উত্তরাখণ্ডে সরকারি নলকূপ সেচের জল নিয়ে বিরোধের জেরে সৃষ্ট সংঘর্ষে বিজেপি নেতা বিনোদ কুমার কাশ্যপ নিহত ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় মুসলিমদের অভিযোগ করে এক জনসমাবেশে ‘প্রত্যেক হিন্দু হত্যার বিপরীতে চারজন মুসলিম হত্যা করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন ‘হিন্দু রক্ষা দলে’র সভাপতি ললিত শর্মা। এমনকি নারী ও অনাগত শিশুদেরও হত্যার হুমকি দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
একই সমাবেশে ‘ভিএইচপি-বজরং দল’ নেতা আমান স্বেদিয়া ‘রক্তের বদলে রক্ত’ দাবি করেন এবং এই হত্যাকাণ্ডের জন্য মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের অভিযুক্ত করেন।
সম্প্রতি এই বক্তব্যগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানী মুসলিমরা আইনি ব্যবস্থার দাবি জানান।
এসব মন্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে জম্মু ও কাশ্মীর পিপলস ডেমোক্রেটিক পার্টির সভাপতি মেহবুবা মুফতি এই ঘটনাটিকে বিজেপির ‘বিক্ষুব্ধ ভারত’ দর্শনের অধীনে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বলে ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এর একটি পোস্টে তিনি বলেন, ‘নির্বিচারে বাড়িঘর ও মসজিদ ভেঙে ফেলা হচ্ছে, আর মুসলিম, খ্রিস্টান, দলিত ও আদিবাসীদের ক্রমশ প্রান্তিক করে দেওয়া হচ্ছে।’
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এরইমধ্যে ললিত শর্মা বক্তব্য ঘিরে নানান আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। তার এমন বক্তব্যকে ‘সন্ত্রাসীমূলক’ বলে অভিহিত করছেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে এখন পর্যন্ত প্রশাসন বক্তব্যগুলোর ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বলে জবাবদিহি ও তদন্তের দাবি ক্রমশ জোরালো হচ্ছে।
সূত্র: মুসলিম মিরর
জেডএম/আওয়ার ইসলাম
