মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ ।। ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ১৫ মহর্‌রম ১৪৪৮

শিরোনাম :
তিস্তা, গঙ্গাসহ ভারতের সঙ্গে অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ: ডা. জাহেদ রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সমন্বিতভাবে উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী কুড়িগ্রামে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানিবন্দি ১০ হাজার মানুষ খামেনির জানাজায় অংশ নিতে ইরান যাবেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ আজ শহীদ আরমান দিবস: কী ঘটেছিল সেদিন কিশোরগঞ্জে? পবিত্র কাবার বার্ষিক গোসল সম্পন্ন ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ: আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের বৃহত্তর ঢাকা জেলার নূরানী শিক্ষকদের ষান্মাসিক জোড় বুধবার উদ্বোধনের আগেই পৌনে ১৩ কোটি টাকার মডেল মসজিদে ফাটল কাতারে বৈঠকের ঘোষণা ট্রাম্পের, অস্বীকার ইরানের

ধর্মীয় স্থাপনা উচ্ছেদ: আইনি লড়াইয়ের ঘোষণা জমিয়তে উলামায়ে হিন্দের


নিউজ ডেস্ক

নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক-

ভারতের গুজরাট রাজ্যের কচ্ছ জেলায় মসজিদ, বাড়িঘর ও অন্যান্য স্থাপনায় চলমান উচ্ছেদ অভিযানের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ। সংগঠনটি জানিয়েছে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা গুজরাট হাইকোর্ট থেকে শুরু করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে।

সংগঠনের সভাপতি মাওলানা মাহমুদ আসাদ মাদানীর নির্দেশে সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মুহাম্মদ হাকিমুদ্দীন কাসেমীর নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল সোমবার (২৯ জুন) ভুজ, গান্ধীধাম, আদিপুর, ভারনোরা ও আশপাশের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে। এ সময় তারা স্থানীয় বাসিন্দা, মসজিদ কমিটি, আইনজীবী ও সামাজিক নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন।

প্রতিনিধি দল গান্ধীধামের ঐতিহাসিক জোনা কুন্ডলা মসজিদও পরিদর্শন করে। স্থানীয়দের দাবি, ১৯৬৫ সাল থেকেই মসজিদটি ওয়াক্ফ বোর্ডের নথিভুক্ত। তাদের অভিযোগ, গত ২৯ জুন রাতে বিপুল পুলিশ মোতায়েন করে বুলডোজার দিয়ে অভিযান চালানো হয়, কয়েকজনকে আটক করা হয় এবং পরে কয়েকজন যুবককে কারাগারে পাঠানো হয়।

জমিয়তের দাবি, আদিপুর জামে মসজিদসহ বিভিন্ন ধর্মীয় স্থাপনাতেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছে। সংগঠনের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০টি স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১১টি ধর্মীয় স্থাপনা, ১৭টি বাণিজ্যিক ভবন এবং দুটি আবাসিক বাড়ি।

প্রতিনিধি দল মিঠাপুর এলাকায় কয়েক মাস আগে প্রায় ৭০০ জেলে ও শ্রমজীবী পরিবারের বাড়িঘর উচ্ছেদের ঘটনাও পর্যালোচনা করেছে। এ ঘটনায় ক্ষতিপূরণ ও বিকল্প জমি বরাদ্দের দাবিতে গুজরাট হাইকোর্টে আবেদন করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

পরে ভুজে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠকে কচ্ছ জেলার বিভিন্ন এলাকার আইনজীবীদের সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী লিগ্যাল সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, যাতে ক্ষতিগ্রস্তদের আইনি সহায়তা আরও কার্যকরভাবে দেওয়া যায়।

এক বিবৃতিতে জমিয়তে উলামায়ে হিন্দ বলেছে, এই লড়াই শুধু একটি মসজিদ বা একটি গ্রামের জন্য নয়; এটি ন্যায়বিচার, সংবিধান এবং আইনগত অধিকার রক্ষার সংগ্রাম। সংগঠনটি হাইকোর্ট থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে এবং ক্ষতিগ্রস্তরা ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ না পাওয়া পর্যন্ত তাদের পাশে থাকবে।

একই সঙ্গে প্রতিনিধি দল স্থানীয় তরুণদের ধৈর্য, প্রজ্ঞা ও সাংবিধানিক কাঠামোর মধ্যে থেকে শান্তিপূর্ণভাবে নিজেদের অধিকার আদায়ের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার এবং যেকোনো ধরনের সংঘাত এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে। সূত্র: ইউএনএ নিউজ

আওয়ার ইসলাম/জেডএম


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ