সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ ।। ২২ আষাঢ় ১৪৩৩ ।। ২১ মহর্‌রম ১৪৪৮


‘মসজিদ-মাদরাসা ভাঙচুর ভারতের জাতীয় লজ্জা’

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে মসজিদ, মাদরাসা ও মুসলিম অধ্যুষিত এলাকায় উচ্ছেদ অভিযানের নামে ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে জামাআতে ইসলামী হিন্দ। সংগঠনটি এসব ঘটনাকে ‘জাতীয় লজ্জা’ আখ্যা দিয়ে দাবি করেছে, মুসলিম ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে বেছে বেছে নিশানা করার একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশে দুর্নীতি, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে তারা।

শনিবার (৪ জুলাই) নয়া দিল্লিতে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন জামাআতে ইসলামী হিন্দের নেতারা।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের জাতীয় সম্পাদক শফি মাদনি জানান, গত ২৯ জুন থেকে ২ জুলাই পর্যন্ত তিনি একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রাজস্থান-এর সীমান্তবর্তী বারমের, জয়সলমের ও যোধপুর সফর করেন। প্রতিনিধি দল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, আইনজীবী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজস্থান, উত্তর প্রদেশ, মহারাষ্ট্র, গুজরাট, দিল্লিসহ বিভিন্ন রাজ্যে উচ্ছেদ অভিযানের নামে মসজিদ, ঘরবাড়ি এবং অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে ধারাবাহিকভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। তাঁর দাবি, গত এক মাসে অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও অবকাঠামো উন্নয়নের অজুহাতে একাধিক মসজিদ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ভেঙে ফেলা হয়েছে। বিশেষ করে রাজস্থানের সীমান্তবর্তী এলাকায় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে মসজিদ, দরগাহ ও মাদ্রাসা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

শফি মাদনি বলেন, সাম্প্রদায়িক মানসিকতা থেকে মসজিদ লক্ষ্য করে এই ভাঙচুর চালানো একটি জাতীয় লজ্জা। এটি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই একতরফাভাবে অভিযান চালানো হয়েছে। এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে থাকা ধর্মীয় স্থাপনাও ভেঙে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই ধরনের পরিস্থিতি থাকা সত্ত্বেও অন্যান্য সম্প্রদায়ের উপাসনালয় অক্ষত থাকায় বৈষম্যমূলক আচরণের অভিযোগও তোলেন তিনি।

ক্ষতিগ্রস্তদের সাংবিধানিক ও আইনি পথে ন্যায়বিচারের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে জামাআতে ইসলামী হিন্দ সব ধরনের আইনি ও নৈতিক সহায়তার আশ্বাস দেয়। একই সঙ্গে বারমের, বিকানের ও জয়সলমেরে মুসলিম প্রতিবেশীদের পাশে দাঁড়ানো হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের ভূয়সী প্রশংসা করে সংগঠনটি। শফি মাদনি বলেন, এ ধরনের সম্প্রীতি ভারতের সামাজিক বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করে।

সংবাদ সম্মেলনে জামাআতের সহ-সভাপতি অধ্যাপক সেলিম ইঞ্জিনিয়ার দেশে ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি ও আর্থিক অনিয়ম নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, মন্ত্রী, জ্যেষ্ঠ আমলা ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক দুর্নীতির অভিযোগ সুশাসন, নৈতিকতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার সংকটের ইঙ্গিত দেয়। তাঁর মতে, লোভ, বস্তুবাদ ও নৈতিক অবক্ষয়ের কারণেই জনস্বার্থের পরিবর্তে ব্যক্তিস্বার্থ প্রাধান্য পাচ্ছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে কাঠামোগত সংস্কারের পাশাপাশি নৈতিক পুনর্জাগরণ প্রয়োজন।

/আইও


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ