যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রানওয়েতে থেকে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়িতে ধাক্কা মারে অ্যামাজনের কার্গো বিমান। এতে মুহূর্তে আগুন ধরে যায় বিমানটি।
এতে অন্তত তিনজনের প্রাণহানির খবর মিলেছে। দুর্ঘটনার পরেই সমস্ত রানওয়ে এবং পাশের রাস্তা সাময়িক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মিয়ামি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সকালে পুয়ের্তো রিকোর সান জুয়ান থেকে আসা অ্যামাজনের বোয়িং ৭৬৯-৩০০ কার্গো ফ্লাইটটি। বিমানবন্দরে অবতরণের সময় নিয়ন্ত্রণ হারান পাইলট।
ছিটকে বিমানটি রানওয়ের বাইরে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কিছু গাড়ি ধাক্কা দেয়।
এতে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। দাউদাউ করে জ্বলে ওঠে বিমানটি। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় চারপাশ।
সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল। আগুন নেভানোর পাশাপাশি শুরু হয় উদ্ধারকাজ। দুর্ঘটনায় ৫ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। তবে তাঁদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি এখনো।
দুর্ঘটনার পরে পরিবহণমন্ত্রী শন ডাফি বলেন, ‘ফেডেরাল অ্যাভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (এফএএ) দুর্ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
কিভাবে দুর্ঘটনা ঘটল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’
দুর্ঘটনার একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। তাতে দেখা যাচ্ছে, দু’টি ট্রাকের মাঝে দাঁড়িয়ে রয়েছে বিমানটি। দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। ধোঁয়া বেরোচ্ছে। একটি ট্রাক দুমড়মুচড়ে গিয়েছে। তবে বিমানের মূল কাঠামোর বেশিরভাগটাই অক্ষত রয়েছে।
কিভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা জানতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে একযোগে কাজ করছে বলে জানিয়েছেন অ্যামাজনের মুখপাত্র কেলি ন্যান্টেল।
বিমানবন্দরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পরেই সমস্ত রানওয়ে ও পাশের পেরিটাইম রোড বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
বিমান চলাচলের তথ্য পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ফ্লাইটঅ্যাওয়াররের হিসাব অনুযায়ী, দুর্ঘটনার জেরে এ পর্যন্ত প্রায় ২৫০টি বিমান দেরিতে ছেড়েছে।
এফএএ জানিয়েছে, বিমানবন্দর পুনরায় চালু হলেও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে। শুরুতে সীমিতসংখ্যক বিমান ওঠানামা করবে বলে জানানো হয়েছে। এফএএ’র পাশাপাশি দুর্ঘটনার তদন্ত করছে ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ডও (এনটিএসবি)।
এসএইচ/