মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬ ।। ৪ কার্তিক ১৪৩৩ ।। ৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮


আসামে দুই দিনে উচ্ছেদ ১১০০ মুসলিম পরিবার

নিউজ ডেস্ক
নিউজ ডেস্ক
শেয়ার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভারতের আসাম রাজ্যের তিন জেলায় দুই দিনের উচ্ছেদ অভিযানে বনভূমি থেকে এক হাজার ১০০টির বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম। সরকারি কর্মকর্তা ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

গত ১৭ ও ১৮ অক্টোবর রাজ্যের নগাঁও, হোজাই ও গোলাঘাট জেলায় এ অভিযান চালানো হয়। এর মধ্যে ১৭ অক্টোবর কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। জেলাভিত্তিক হিসাবে নগাঁওয়ে ৩৩৬টি, হোজাইয়ে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবার উচ্ছেদের শিকার হয়।

পরদিন ১৮ অক্টোবর নগাঁও জেলার লুটুমারি-লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চলে আরও ৫০০ থেকে ৬০০ পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। উচ্ছেদ অভিযানের সময় অনেক বাসিন্দা খননযন্ত্র পৌঁছানোর আগেই নিজেদের মালপত্র নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে যান। অভিযানে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকতে পারে।

তবে লুটুমারির বাসিন্দারা নিজেদের বনভূমির অবৈধ দখলদার হিসেবে চিহ্নিত করার সরকারি দাবির বিরোধিতা করেছেন। তাঁদের বক্তব্য, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা বন বিভাগের শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন এবং ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক আমলে প্রচলিত ‘টাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার আওতায় সরকারই তাঁদের সেখানে বসতি স্থাপনের সুযোগ দিয়েছিল।

উচ্ছেদে বাড়ি হারানো আবদুল নূর বলেন, ১৯৭৪ সালে তাঁর পরিবারকে ওই জমি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর দাবি, অভিযানে কয়েক দশক পুরোনো ১০টিরও বেশি মসজিদও ভেঙে ফেলা হয়েছে।

উচ্ছেদের শিকার পরিবারগুলো এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গৌহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও প্রতিকার পায়নি। গত জুনে আদালত তাঁদের ৩০ দিনের মধ্যে এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, সংরক্ষিত বনাঞ্চল রক্ষার জনস্বার্থ সেখানে বসবাসের ব্যক্তিগত দাবির চেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে। নির্ধারিত সময়সীমা পার হওয়ার পর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশও দেওয়া হয়।

লুটুমারি এলাকার বৃহত্তর অংশে গত বছরের নভেম্বরেও পৃথক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়েছিল। ওই অভিযানে প্রায় এক হাজার ৭০০ পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হোজাই জেলার যমুনা-মৌডাঙ্গা সংরক্ষিত বনাঞ্চলেও উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। চলতি বছরের শুরুর দিকে অভিযানের একটি পর্যায় সম্পন্ন হওয়ার পর এবার সেখানে ১৫২টি পরিবারের বাড়িঘর গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে, গোলাঘাট জেলার ২ নম্বর নেঘেরিবিল এলাকায় আদালতের রায়ে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত আসার পর সর্বশেষ ৫৯টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়।

আসাম সরকার বলছে, বনভূমি ও সরকারি জমি অবৈধ দখলমুক্ত করতেই এসব অভিযান চালানো হচ্ছে। তবে উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের একটি অংশের দাবি, তাঁদের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকায় বসবাস করে আসছে এবং পূর্বপুরুষদের সঙ্গে বন বিভাগের কাজের সম্পর্ক ছিল।

সরকারি সূত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সংকলিত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, আসামে বিজেপির এক দশকের শাসনামলে সরকারি জমি থেকে প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে। এসব পরিবারের অধিকাংশই মুসলিম বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বনভূমি সংরক্ষণ ও সরকারি জমি পুনরুদ্ধারের যুক্তিতে পরিচালিত এসব অভিযানকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের বসতি, ভূমির অধিকার এবং উচ্ছেদ হওয়া পরিবারগুলোর পুনর্বাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সূত্র: মুসলিম মিরর

এসএইচ/ 


সম্পর্কিত খবর

সর্বশেষ সংবাদ